যাত্রা শুরু হলো হুদা কমিশনের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রত্যয়

জাহাঙ্গীর কিরণ :
শপথ গ্রহণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়ে সাংবিধানিক সংস্থা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নবযাত্রা শুরু হয়েছে। বুধবার নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আপসহীন থেকে পালন করা এবং ইসির প্রতি রাজনৈতিক দলসহ সবার আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে যাত্রা শুরু করে কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নতুন কমিশন।
ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পূর্বঘোষিত সময়ানুযায়ী বিকেল ৩টায় নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সাবেক সচিব কে এম নুরুল হুদা এবং চার কমিশনার সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব তালুকদার, সাবেক সচিব রফিকুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী শপথ নেন। সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।
শপথ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরই বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে পৌঁছান নতুন কমিশনের সদস্যরা। এ সময় নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুল দিয়ে তাদের স্বাগত জানান। পরে তাদের জন্য সাজানো কক্ষগুলোতে তাদের পৌঁছে দেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। নিজ নিজ কক্ষে কিছুক্ষণ অবস্থান করে বিকেল ৫টায় মুখোমুখি হন সাংবাদিকদের।
প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নতুন সিইসি কে এম নুরুল হুদা ইসির প্রতি সবার আস্থা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ শুরু করার ঘোষণা দেন। নির্বাচন কমিশনের কাজে সরকারের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবেই কাজ করবে। সব রাজনৈতিক দলের যাতে আস্থা অর্জন করা যায়, সেভাবেই নির্বাচন কমিশন কাজ করবে। আমরা সাংবিধানিকভাবে শপথ নিয়েছি, সাংবিধানিকভাবেই দায়িত্ব পালন করব। কারো প্রভাব বিস্তারে আমরা প্রভাবিত হব না। সরকারেরও এখানে প্রভাব সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। সুষ্ঠু নির্বাচন করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সিইসি বলেন, কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। এ জন্য সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে যে ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন তাই গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনের সময় কেউ যদি কোনো ধরনের প্রভাব বা অনিয়ম করার চেষ্টা করে তাকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। কাউকে এ ধরনের কাজ করতে দেয়া হবে না।
সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কারো সঙ্গে ইসি সংলাপ করবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে নতুন সিইসি বলেন, সিইসি হিসেবে আমার প্রথম কাজ হচ্ছে কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনা করে কর্মপরিকল্পনা করা। অন্য রাজনৈতিক অথবা সুশীল সমাজের কারো সঙ্গে আলোচনা করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সহকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করে নেয়া হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার বিষয়ে সিইসি বলেন, কখন কোন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করব, সেটা এই মুহূর্তে বলা যাবে না। সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই বিষয়ে আমরা জানাতে পারব। এ সময় তিনি তার দায়িত্ব পালনে সব রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিএনপিকে আস্থায় নিতে ইসির উদ্যোগ নেয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে কে এম নুরুল হুদা বলেন, এখানে বিএনপি বলে কোনো কথা নয়। বিএনপি আওয়ামী লীগসহ ছোট-বড় সব রাজনৈতিক দলকে আমরা আস্থায় আনতে কাজ করব। আমরা অবশ্যই আস্থার অবস্থান সৃষ্টি করতে পারব। এ সময় নিজের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগও খণ্ডান সিইসি। সব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। এর আগে নির্বাচনের কোনো দায়িত্বেও তিনি ছিলেন না।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পর সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে ৬ ফেব্রুয়ারি নতুন ইসি গঠন করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সাবেক সচিব কে এম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট ইসি গঠন করেন তিনি। এবারই প্রথমবারের মতো কমিশনে একজন নারীও নিয়োগ দিলেন রাষ্ট্রপতি।

মানবকণ্ঠ/জেকে/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.