টিকিট বিক্রির শেষ দিনে ভিড় কম কমলাপুরে

রেলের অনলাইনের টিকিট কালোবাজারে

ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রির শেষ দিনে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে তুলনামূলকভাবে কম ভিড় দেখা গেছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় কাউন্টার খোলার পর যাত্রীরা ২৫ জুনের যাত্রার টিকিট কিনতে পেরেছেন অন্যদিনের চেয়ে সহজে। তবে তিস্তাসহ কয়েকটি ট্রেনের টিকিটের চাহিদা ছিল অন্যদিনের মতোই।

মোবাইল-অনলাইনেও সকাল ৮টায় রেলের টিকিট ছাড়া হয়। কিন্তু ঘড়ির কাঁটায় যখন ঠিক ৮টা তখনই শেষ হয়ে যায় অনলাইনের সব টিকিট! টিকিট তো কম নয়। প্রতিদিন প্রায় ২৪ হাজার টিকিটের ২৫ ভাগ ছাড়া হয় অনলাইনে। এই ২৫ ভাগ টিকিট কারা নিচ্ছেন- এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, অনলাইনে টিকিট কাটতে ব্যর্থ হচ্ছেন। কোনো এক বিচিত্র কৌশলে কেউ টিকিটগুলো কেটে নিচ্ছেন!

আর এ জন্য ভুক্তভোগীরা দায়ী করেছেন রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রির বিষয়টি দেখভালকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সিএনএস বিডিকে। রেলের ঈদের অগ্রিম টিকিট ছাড়ার ৪ দিনে প্রতিদিনই অনলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন অনেকে। যাদের সবার সন্দেহ ‘সার্ভার ডাউন’ রেখে কেউ টিকিটগুলো কালোবাজারে ছাড়ছে। তা না হলে ঠিক ৮টা বেজে যখন ১ বা ২ সেকেন্ড তখনই কেন দেখাবে আর কোনো টিকিট নেই।
শুক্রবার সরেজমিনে কমলাপুর গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টার দিকে কাউন্টারের সামনের ভিড় কমতে থাকে। রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটের ট্রেনের টিকিট কাউন্টার প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়।

এবার রোজার ঈদে সরকারি ছুটি ২৫ থেকে ২৭ জুন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে বাংলাদেশে ২৬ জুন ঈদ হতে পারে। তার আগে ২৩ ও ২৪ জুন শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি মিলে যাওয়ায় অনেকেই ওই দুই দিনের টিকিট কিনেছেন। ফলে ঈদের আগের দিনের অর্থাৎ ২৫ জুনের টিকিটের চাহিদা ছিল তুলনামূলকভাবে কম। সকালে দেওয়ানগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের ট্রেনের টিকিট কাউন্টারের সামনে কিছুটা ভিড় দেখা গেলেও পড়ে তা কমে আসে।

দিনাজপুরের দ্রুতযান, একতা, নীল সাগর এক্সপ্রেসের টিকিট ছিল, তবে লোকজন ছিল কম। একই অবস্থা ছিল রংপুর এক্সপ্রেস এবং লালমনি এক্সপ্রেসের কাউন্টারের সামনেও। সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটের ট্রেনের কাউন্টার প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়।

কমলাপুরের স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, গত দুই দিন বেশি ভিড় ছিল। আজকে ২৫ তারিখের টিকিট দেয়া হচ্ছে, এ কারণে ভিড় একটু কম। ২৬ তারিখের বদলে ২৭ তারিখে ঈদ হলে সেদিনও ট্রেন সেবা থাকবে বলে স্টেশন ম্যানেজার জানান। পুরো বিষয়টাই চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। যদি ২৬ তারিখ ঈদ না হয় সেক্ষেত্রে আমাদের নিয়মিত ট্রেনগুলো কমলাপুর ছেড়ে যাবে। সেদিন তাৎক্ষণিক টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।

অন্যদিকে অনলাইন বা মোবাইলে ডিজিটাল কারচুপি ধরার সুযোগ বাস্তবে রেলওয়ের কতটা আছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক আরিফুজ্জামানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা খোঁজ নিচ্ছি।

সরাসরি তাকে বিষয়টি অবগত করলে তিনি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তীকে মৌখিকভাবে বিষয়টি দেখার দায়িত্ব দেন। স্টেশন ম্যানেজার জানান, তিনি এর আগেই স্টেশনের তৃতীয় তলা থেকে যারা মোবাইলে টিকিট কেটেছে তাদের একটি লগ লিস্ট নিয়েছেন। সেখানে চেক করে দেখা যাচ্ছে মোবাইলের পৃথক নম্বর থেকেই অর্থাৎ নিয়মানুযায়ী টিকিট কাটা হয়েছে।

তবে ই-মেইল ব্যবহার করে টিকিট কাটার আর কোনো লগ লিস্ট তার কাছে নেই। তবে বিষয়টি তিনি দেখছেন- এরপরও জানালেন। বেশিরভাগ অভিযোগ এই ই-মেইলে টিকিট কাটা নিয়ে। এই ১০ শতাংশের কোনো হিসাবে দেখা যাচ্ছে না।

স্টেশন ম্যানেজার বলেন, অনলাইন বা ই-টিকিটে রেলওয়ের কোনো তদারকি ব্যবস্থা নেই। এই ২৫ ভাগ সিএনএসবিডির ওপরই ছেড়ে দেয়া। মানুষ অনলাইন এবং মোবাইলে এ টিকিটগুলো কেটে থাকেন।

অনলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে একজন বলেছেন, ‘স্নিগ্ধা, এসি বার্থ এবং এসি সিটগুলো অনলাইনে সকাল ৮টার আগেই শেষ হয়ে যায়। ২৫ ভাগ কোটার অল্পকিছু ছাড়া (যেগুলো মোবাইলে কাটা হয়) বাকি সব কীভাবে শেষ হয়ে যায়? অভিযোগকারী কয়েকজনের একটি দল অনলাইনে টিকিট কাটার চেষ্টা করছিলেন। তারা বলেন, ২১ জুনের টিকিটের দিকে খেয়াল করলাম আমরা কয়েকজন। দেখলাম- বিভিন্ন রুটে স্নিগ্ধা, এসি বার্থ, এবং এসি সিটগুলো কীভাবে ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বিষয়টি সরাসরি ধরার জন্য অডিট করলে বা লগ ফাইল চেক করলে বোঝা যাবে।
এই দলটির বক্তব্য হলো, ই-টিকিটে সার্ভার আপ টাইম ৪ মিনিট ফার্স্ট করা। যখন সাধারণের ঘড়িতে সকাল ৭টা ৫৬ তখন সার্ভার চালু হয় মানে সার্ভার টাইম তখন সকাল ৮টা। এই ৪ মিনিটে যা করার তা করা হয়। এর মধ্যে হয়তো দু’একজন সাধারণ লোক টিকিট পেয়ে যান।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ