৭৮ শতাংশ কাজ কমলেও লাগবে সাত বছর!

সাত সিটি কর্পোরেশনের রাস্তায় এক হাজার কিলোমিটার রাস্তা সৌর বিদ্যুতের আওতায় আনার কথা চার বছরে। তাতে ব্যয় ধরা হয় ৩১৭ কোটি টাকা। কিন্তু ওই সময়ে কোনো কাজ না হওয়ায় প্রকল্পটি সংশোধন করে চার ভাগের এক ভাগেরও কম অর্থাৎ ২২০ কিলোমিটার লাইটিং করার সিদ্ধান্ত হয়। বেশির ভাগ কমলেও কিন্তু ব্যয় তেমন কমানো হয়নি। ৩০ শতাংশেরও কম। তাও শুধু গাড়ি কেনা ছাড়া তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। চুক্তি মোতাবেক রাস্তায় বাতি লাগার কাজ শুরু হবে আগামী এপ্রিলে। তাই প্রকল্পটি শেষ করতে আবারো বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। তা যাচাই বাছাই করতে সম্প্রতি পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি কাজ শেষ করে খুব শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানায়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা বিদ্যুৎ বিভাগ।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০০৮ অনুসারে সাত সিটি কর্পোরেশনের জন্য এক হাজার কিলোমিটার রাস্তায় সোলার লাইট স্থাপনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয় ‘সোলার স্ট্রিট লাইটিং প্রোগ্রাম ইন সিটি কর্পোরেশন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার। প্রচলিত স্ট্রিট লাইটের পরিবর্তে এলইডি স্ট্রিট লাইট স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ শক্তির ব্যবহার এবং সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিল হ্রাস ও গ্রিন এনার্জি জেনারেশন বৃদ্ধি ও কার্বন নির্গমন হ্রাস করতে ২০১২ সালে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ প্রকল্পের সুবাদে বছরে প্রতি ঘণ্টায় আনুমানিক দুই কোটি ৭৮ লাখ ২০ হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর সিটির রাস্তার জন্য ২০১২ সালের ২ মে অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন সময় বেঁধে দেয়া হয় ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ব্যয় ধরা হয় ৩১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ সহায়তা ২৩৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। বাকি অর্থ সিটি কর্পোরেশন ও সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় করার কথা। কিন্তু ওই সময়ে স্টকহোল্ডার সিটি কর্পোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়ের অভাবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে ব্যয় না বাড়িয়ে মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর আবেদন করলে সরকার ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। তবুও দীর্ঘ পাঁচ বছরে হয়নি তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ। তাই আবারো গত বছরে এক বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয় বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে। এর মধ্যে শুধু ২৪টি যানবাহন কেনা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকায়। এর মধ্যে জিপ গাড়ি ৯টি, ডাবল কেবিন পিকআপ ৯টি ও মোটরসাইকেল ৮টি। প্রকল্পের আকার ৭৮ শতাংশ কমিয়ে অর্থাৎ হাজার থেকে কমিয়ে (২০০ কিলোমিটার ননসোলার ও ২০ কিলোমিটার সোলার এলইডি লাইট স্থাপন) মাত্র ২২০ কিলোমিটার লাইটিং প্রাক্কলন করা হয়। কিন্তু সেই তুলানায় কমেনি ব্যয়। অর্থাৎ ৩১৬ কোটি থেকে কমিয়ে ঠিক করা হয়েছে ২২২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। যা খুবই অযৌক্তিক। তারপরও বাকি কাজ শেষ করতে পরিকল্পনামন্ত্রী ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাতে অনুমোদনও দেন।

সূত্র আরো জানায়, তবুও সাত সিটি কর্পোরেশনের রাস্তায় সৌর শক্তির লাইট ব্যবহার করা হয়নি। অন্যদিকে, প্রকল্পে যানবাহন কেনার ক্ষেত্রে যে অর্থ বরাদ্দ ছিল তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে আসল কাজের আগেই। সংশোধিত প্রকল্পের মেয়াদ ডিসেম্বরও শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু মালামাল কেনার জন্য ঠিকাদারের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে তাতে আগামী এপ্রিলে তারা বাতি লাগার কাজ শুরু করবে। তাই বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে আবারো ছয় মাস সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এবার ৪৩ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ২৬৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। তা যাচাই বাচাই করতে পরিকল্পনা কমিশনে গত ৮ ফেব্রুয়ারি পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয় অনেকবার সংশোধন করা হয়েছে প্রকল্পটি। তারপরও অনেক কাজ বাকি। তাই এবার সব কাজ ২০১২ সাল থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে শেষ করতে হবে। তাতে সব মিলে সময় লাগবে সাত বছর বলে সূত্র জানায়।

মানবকণ্ঠ/বিএএফ

Leave a Reply

Your email address will not be published.