৬টি আসনে জিয়া পরিবারকে নির্বাচনে চাচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীরা

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে জিয়া পরিবারকে দেখতে চাচ্ছেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। কিন্তু দলের চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোটের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাইরেও সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য পরিবারের সদস্য সংখ্যার আকার বাড়াতে বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়েছে আসছেন দলটির নেতারা। সম্প্রতি মানবকণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন তৃণমূলের কয়েক নেতা। তারা বলেন, বিগত সময় বেগম খালেদা জিয়াকে এ ব্যাপারে অনেকবার দাবি জানিয়ে আসলেও মোটেই কর্ণপাত করছেন না তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারা বলেন, ম্যাডাম লন্ডন থেকে ফেরার পর এ ব্যাপারে আবারো আমরা লিখিতভাবে তাকে জানাব।

দলটির একাধিক সূত্রে জানায় গেছে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন ও ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তিনটি আসন থেকে নির্বাচন করবেন। সেই সঙ্গে সরাসরি প্রথমবারের মতো নির্বাচনে আসছেন খালেদার দুই পুত্রবধূও। একটি অসমর্থিত সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্রটি বলছে, খালেদা জিয়ার চলতি লন্ডন সফরে এমনই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন খালেদা ও তারেক। লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির কয়েক প্রবাসী নেতা মানবকণ্ঠকে বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কাঠামোর অধীনে নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার বিষয়ে জোট ও জোটের বাইরে দলগুলোর মতামতের ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়ার কথাই প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে দলের এই শীর্ষ দুই নেতার মাঝে।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচনের আগেই সাজা দিয়ে দিতে পারে আদালত। এটা অনেকটা নিশ্চিত জেনেই তার দুই পুত্রবধূ সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন! যেহেতু তারেক রহমান সহসাই লন্ডন থেকে দেশে ফিরতে পারছেন না, সেহেতু বাস্তবতার প্রয়োজনেই আগামী নির্বাচনে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সিঁথি রহমানকে রাজনীতিতে নিয়ে আসার বিষয়ে মা ও ছেলে দু’জনই ঐকমত্যে পৌঁছতে পেরেছেন! তবে অসমর্থিত সূত্রটি জানায়, জোবাইদা রহমান ব্যক্তিগতভাবেই নিজেকে রাজনীতিতে জড়াতে অনাগ্রহী, পাশাপাশি তারেকও এ ব্যাপারটা চাইছিলেন না। দলের প্রধান মা খালেদা জিয়ার আগ্রহ এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানও এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হচ্ছেন! সেই সঙ্গে আগামী নির্বাচনে কে কোন আসন থেকে লড়বেন এমন একটি বিষয় নিয়েও আলোচনা হয় শীর্ষ দুই নেতার। এমনটি জানায় এ সূত্রটি।

বিএনপি সূত্র জানা যায়, বিএনপি চেয়াপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ২০০৮ সালে যেসব আসনে নির্বাচন করেছিলেন এবারো সেই আসনগুলো থেকেই নির্বাচন করবেন বলে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দুটি আসন চূড়ান্ত হলেও বাকি একটির বিষয়ে সিন্ধান্তে আসা যায়নি। ফেনী-১ ও বগুড়া-৭ থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও তৃতীয় আসনটির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেননি মা ও ছেলে। তবে খালেদার তৃতীয় আসনটি হবে খোদ রাজধানী ঢাকায়, এটি মোটামুটি নিশ্চিত। রাজধানীর যে দুটি আসনে খালেদার নির্বাচন করার বিষয়ে জোর আলোচনা আছে সে দুটি আসন হচ্ছে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-১৮। ১৯৯১ সালে ঢাকা-১৮ ও ২০০১ সালে ঢাকা-৪ আসন থেকে নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন বিএনপি চেয়ারপার্সন।

নতুন নির্ধারিত সীমানার আলোকে এ আসন দুটির আগের দুই প্রার্থীও এবার নির্বাচন করতে চান। তবে ঢাকা-৪ আসনে সাবেক এমপি সালাহ উদ্দিন বরাবরই বলে আসছেন এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন খালেদা জিয়া। এদিকে আগামী নির্র্বাচনে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে ঢাকা-১৮ আসনের রাজনীতি এখন তিনটি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন লক্ষ্য করা গেছে।

দলটির একাধিক সূত্র আরো জানায়, দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও ঢাকা-১৮ আসন এলাকায় মনোনয়নের তালিকায় আছেন বিগত দু’বারের এমপি মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, যুবদল ঢাকা উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর ও দুঃসময়ের বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গী তরুণ ব্যবসায়ী নেতা মো. বাহাউদ্দিন সাদী।

উত্তরা থানা বিএনপির এক নেতা বলেন, সাবেক এমপি মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম রাজনীতিতে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকলেও এবারো মনোনয়ন চাইবেন। শতাধিক মামলা নিয়ে মনোনয়নের দৌড়ে আছেন এস এম জাঙ্গাঙ্গীর। তবে আরেক প্রার্থী বাহাউদ্দিন সাদী মনোনয়নের ব্যাপারে গতকাল মানবকণ্ঠকে বলেন, আমাদের এ আসন থেকে ম্যাডাম নিজেই নির্বাচন করবেন এটি ঘোষণা হওয়া এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। তিনি বলেন, সেহেতু প্রার্থিতা নিয়ে কথা বলার আর কোনো অবকাশ নেই। চেয়ারপার্সন নির্বাচন করবেন সেটি মাথায় রেখেই আমরা ইলেকশন রিলেটেড সব প্যারামিটার নিয়ে কাজ করছি বলে তিনি জানান।

অপরদিকে আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়াকে সহায়তা করতে নির্বাচনের আগে আগে দেশে আসবেন খালেদার দুই পুত্রবধূ। এমন তথ্য জানিয়ে দলটির এক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, তারেক রহমানের শূন্যতা পূরণ করতে তারেক পত্নী ডা. জোবাইদা রহমানকে দিয়ে সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করার সম্ভাবনা বেশি। এর বাইরে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সিঁথিকে দিয়ে নির্বাচন করাতে পারেন মাগুরা-১ আসন থেকে। দলটির নেতারা জানান, সিলেট বিএনপির স্থানীয় নেতারাও চান তারেক পত্নী সিলেটী মেয়ে জোবাইদা নির্বাচন করুক। জোবাইদা রহমানের পারিবারিক ইমেজ ছাড়াও তার রয়েছে ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার প্রশংসা করেছেন। অনেকে মনে করেন জোবাইদাকে নির্বাচনে নামালে শুধু সিলেট বিভাগেই নয় জাতীয় নির্বাচনেই বড় ধরনের সুবিধা ভোগ করবে বিএনপি। জোবাইদার রাজনীতিতে আসার প্রতি আগ্রহ না থাকলেও মা ও ছেলের বিশেষ নির্দেশনায় তিনিও নামছেন রাজনীতিতে! এ বিষয়ে সিলেট বিএনপির অনেক নেতার মুখে মুখে বাতাসে গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে মাগুরা থেকে প্রয়াত কোকোর স্ত্রী নির্বাচন করবেন এমনটা শোনা যাচ্ছিল বিগত দিনে। সূত্র মতে, সর্বশেষ সিন্ধান্ত মোতাবেক মাগুরা-১ আসন থেকে আগামী নির্বাচনে লড়তে পারেন সিঁথি। এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথির নাম এখনো ফলাও করে চাউর না হলেও তাকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে উচ্ছ্বাস। সিঁথির মামার বাড়ি মাগুরার লক্ষনন্দর গ্রামে। তার জন্ম এবং ছোটবেলায় বেড়ে ওঠাও মামার বাড়িতে। তার মামা সৈয়দ মোকাদ্দেস আলী মাগুরা জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক। ভাগ্নি সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথির সম্ভাব্য প্রার্থিতা সম্পর্কে তিনি সম্প্রতি মাগুরা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকাকে বলেন, সিঁথির প্রার্থিতার বিষয়টি দলীয় ও পারিবারিকভাবে অনেক দূর এগিয়েছে। সিঁথি প্রার্থী হলে দলের সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীরা তাকেই সমর্থন দেবেন। ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিঁথির পক্ষে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন। ফলে এই আসনে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত হবে।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.