৪ শতাধিক স্কুলে ভর্তিতে আবেদন ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৪৪২টি

আগামী ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশের চার শতাধিক সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে। প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৪৪২টি আবেদন জমা পড়েছে। বিগত বছরগুলোর মতো এবারো লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। রাজধানীর ৪১টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের মধ্যে ১৭টিতে প্রথম শ্রেণি রয়েছে; সেগুলোতে আগামী ২০ ডিসম্বের লটারি অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম শ্রেণিতে ১ হাজার ৯৬০টি আসনে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে ২২ হাজার ১৭৯ জন ভর্তিচ্ছু খুদে শিক্ষার্থী। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হতে একটি আসনের বিপরীতে ৬ বছর বয়সী ১২ জন শিশু অংশ নিচ্ছে। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লিখিত পরীক্ষা নেয়া হবে। লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৭, ১৮ ও ১৯ ডিসেস্বর। ঢাকার ৪১টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে ১২ হাজার ৩৬৬টি শূন্য আসনের জন্য আবেদন করেছে ৮৫ হাজার ৭৮৫ শিক্ষার্থী। এতে আসনপ্রতি ৭ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। ১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর এসব প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ভর্তির আবেদন নেয়া হয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সব শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক আবদুল মান্নান জানান, সারাদেশের ৪ শতাধিক সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৪৪২টি আবেদন জম পড়েছে। এছাড়া রাজধানীর ৪১টি সরকারি স্কুলে ৮৫ হাজার ৭৮৫ শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করেছে। প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি নেয়া হবে। ২০ ডিসেম্বর বিকেলে লটারির ফলাফল প্রকাশ করে স্ব স্ব স্কুলের ওয়েবসাইট এবং নোটিশ বোর্ডে জানিয়ে দেয়া হবে। জাতীয় নির্বাচনকে বিবেচনায় রেখেই পরীক্ষা ও লটারিতে শিক্ষার্থী বাছাই শেষে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সব শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় একটিমাত্র ব্যতিক্রম রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক মান্নান বলেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে কলম বা বল পয়েন্ট নিয়ে উত্তরপত্রে লিখতে হবে। কোনো ধরনের পেন্সিল নেয়া যাবে না। পেন্সিল ব্যবহার করা হলে পরীক্ষা বাতিল করা হবে। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর ৪১টি মাধ্যমিক স্কুলকে তিনটি গ্রুপে ভাগ করে ভর্তি পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রুপে ১৪টি করে এবং ‘গ’ গ্রুপে ১৩টি মাধ্যমিক সরকারি স্কুল আছে। পর্যায়ক্রমে তিন গ্রুপের পরীক্ষা হবে যথাক্রমে ১৭, ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর। এর মধ্যে ৩৮টি মাধ্যমিক স্কুলে ১২ হাজার ৩৬৬টি আসন আছে। এর মধ্যে ১৭ স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ১ হাজার ৯৬০টি আসন রয়েছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৮৪৯টি, তৃতীয় শ্রেণিতে ২ হাজার ১২৬টি, চতুর্থ শ্রেণিতে ৮২২টি, পঞ্চম শ্রেণিতে ৮৪৯টি, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৩ হাজার ৫৫৭টি, সপ্তম শ্রেণিতে ৭৩৮টি, অষ্টম শ্রেণিতে ৯৯৭টি আসন রয়েছে। রাজধানীতে নতুন তিনটি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম এবার শুরু হলেও আসনসংখ্যা চূড়ান্ত হয়নি। স্কুল তিনটি হচ্ছে হাজী এমএ গফুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সবুজবাগ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং শহীদ মনু মিঞা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীর সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ এলাকা কোটা সংরক্ষণ করার নির্দেশনাসহ এবার স্কুলগুলোতে ১০৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ৬০ শতাংশ উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় মেধা তালিকা অনুসারে ভর্তি করা হবে। প্রথম শ্রেণির ভর্তিতে শিক্ষার্থীর বয়স ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ছয় বছরের বেশি হতে হবে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীর তালিকা প্রস্তুত করার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমানসংখ্যক অপেক্ষমাণ তালিকাও প্রস্তুত রাখতে হবে। ভর্তি কমিটি নির্ধারিত তারিখে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ভর্তি করতে হবে। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই করতে হবে। জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে নবম শ্রেণিতে ভর্তি করতে হবে। এতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রস্তুত করা মেধাক্রম অনুসারে নিজ স্কুলের শিক্ষার্থী ভর্তির পর অবশিষ্ট শূন্য আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে। দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষায় পূর্ণমান-৫০, এর মধ্যে বাংলা-১৫, ইংরেজি-১৫, গণিত-২০ নম্বর থাকবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা। চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরে। এতে বাংলা-৩০, ইংরেজি-৩০, গণিত-৪০ নম্বর থাকবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় হবে ২ ঘণ্টা।