৪০ কোটি টাকায় মহানন্দার পাড়ে হচ্ছে পর্যটনকেন্দ্র

৪০ কোটি টাকায় মহানন্দার পাড়ে হচ্ছে পর্যটনকেন্দ্র

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাচীন পুরাকীর্তি ও প্রত্নতত্ত্বের কারণে ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যযুগ থেকে শুরু করে মুসলিম যুগের বহু স্থাপনায় ভরা। শুধু দেশে নয়, বিশ্বেও এ অঞ্চলের আমের খ্যাতি সবার কাছে প্রিয়। সব মিলিয়ে এ জেলায় অনেক কিছু আছে। কিন্তু গড়ে উঠেনি কোনো পর্যটনকেন্দ্র। এ জন্য দেশি ও বিদেশি পর্যটকরা এখানে তেমন আসেন না। তাই দেরিতে হলেও দেশি-বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে মহানন্দা নদীর পাড়ে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে সব প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি অনুমোদন দেয়া হয়। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ২০২১ সালে জুনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের এমপি মো. আবদুল ওদুদ মানবকণ্ঠকে বলেন, দেরিতে হলেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি আলোর মুখ দেখতে পাচ্ছে। এখানে পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণের ফলে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা বিভিন্ন ঐতিহ্য জানতে পারবেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মহানন্দা শেখ হাসিনা সেতুর পশ্চিম পাশে হবে এ পর্যটনকেন্দ্র। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রকল্পটি অনুমোদনের পরে জেলা প্রশাসক অনাবাদি খাস জমি বরাদ্দও দিয়েছেন। বাকি কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে বলে জানান তিনি।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জেলা। বরেন্দ্র অঞ্চলে সবচেয়ে প্রাচীন পুরাকীর্তি ও প্রত্নতত্ত্বের সন্ধান পাওয়া গেছে এই অঞ্চলে। ফলে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় অঞ্চল এই চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তা ছাড়া মধ্যযুগে গৌড় শাসনকালে এবং মুসলিম যুগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জনপদ বৈষয়িক সমৃদ্ধির কারণে এ অঞ্চলে পর্যটন আকর্ষণীয় বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো ও নিদর্শন গড়ে উঠেছে। তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মহানন্দা নদীর পাড়ে পর্যটকদের জন্য মানসম্পন্ন সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মহানন্দা শেখ হাসিনা সেতু সংলগ্ন এলাকার পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুনে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী তিন বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আরো জানায়, বিশ্বের কাছে তুলে ধরার মতো অনেক কিছুই আছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এখানে আছে ঐতিহাসিক সোনামসজিদ, মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের মাজারসহ অনেক কিছু। আছে হিন্দু ধর্মের অনেক নিদর্শন। এ অঞ্চলের একমাত্র আমই পারে এ জেলাকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে। এ ছাড়া রয়েছে প্রকৃতির লীলাভূমি বাবুডাইং। এই অঞ্চলে রয়েছে সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ্-এর আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক ছোট সোনা মসজিদ, সুলতান শামসুদ্দিন ইউসুফ শাহের আমলে নির্মিত দরসবাড়ী মসজিদ, খঞ্জন দীঘি মসজিদ, ধনাইচকের মসজিদ, তিন গম্বুজ মসজিদ, তাহাখানা ও মাজার, কোতয়ালি দরওয়াজা, দাফিউল বালা দীঘি, বালিয়াদীঘি, কানসাটের জমিদারবাড়ি অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা। তা ছাড়া ফলের মৌসুমে আমকে কেন্দ্র করে এ এলাকায় মানুষের মহামিলন ঘটে।

সব মিলিয়ে এ জেলায় অনেক কিছুই আছে। কিন্তু নেই পর্যটনকেন্দ্র। তাই দেশি ও বিদেশি পর্যটকরা তেমনভাবে এখানে আসে না। স্বল্প পরিসরে কিছু পর্যটক এলেও সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েই গেছে। তাই দেরিতে হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ প্রকল্পের আওতায় একটি ওয়াচ টাওয়ার তৈরি করা হবে। তা ছাড়া রেস্তোরাঁ, পিকনিক শেড, নার্সারি, স্বাস্থ্য পরিচর্চা, পানি সরবরাহসহ হোটেল বিল্ডিং, কটেজ তৈরি এবং ডরমেটরিও নির্মাণ করা হবে। এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে আরো সমৃদ্ধ করা গেলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষ করে বিদেশ থেকে পর্যটকরা সহজেই ছুটে আসবে। পর্যটন খাতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি বাড়বে কর্মসংস্থান। একইসঙ্গে দারিদ্র্য দূর করে বাড়বে রাজস্ব।

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় মহানন্দা নদীর ওপরে শেখ হাসিনা সেতুর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ এলাকার পর্যটন সুবিধাদি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তারই আলোকে এ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে পর্যটন কর্পোরেশন।

মানবকণ্ঠ/এসএস