৩৮তম বিসিএসে আবেদনে রেকর্ড

সর্বোচ্চ আবেদনকারীর অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়েছে ৩৮তম বিসিএস। এর মাধ্যমে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করবে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। প্রশাসন ক্যাডারের ৩০০, পুলিশ ক্যাডারের ১০০টি পদসহ ৩৮তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে মোট ৫২০টি, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৫৪৯টি এবং শিক্ষা ক্যাডারে ৯৫৫টি পদ রয়েছে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হতে পারে। এ ছাড়া ৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল ও ৩৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ এ বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে সম্ভাবনা আছে বলে পিএসসি সূত্রে জানা গেছে।

৩৮তম বিসিএসে অনলাইনে গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে তিন লাখ ১৮ হাজার। ১০ জুলাই থেকে ৩৮তম বিসিএসের আবেদন শুরু হয়। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরিপ্রার্থীরা অনলাইনে আবেদনের সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া আবেদনকারীরা আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দিতে পারবেন। সবমিলিয়ে ৩৮তম বিসিএসে আবেদন সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এবারের বিসিএসে আবেদনকারীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ৩৭তম বিসিএসে সর্বোচ্চ আবেদন করেছিলেন দুই লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন।

এ প্রসঙ্গে সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক মানবকণ্ঠকে বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের থেকে বেশি আবেদন পড়েছে ৩৮তম বিসিএসে। আবেদনকারীর সংখ্যা সাড়ে তিন লাখ পর্যন্ত হবে। এ থেকে এই বিষয়টি প্রতীয়মান হয় যে, কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। এখন অসংখ্য গরিব মানুষের ছেলেমেয়ের চাকরি হয়েছে এবং হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন ক্যাডার ও নন ক্যাডারের বিভিন্ন পদে প্রায় সমান সংখ্যায় নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে কেউ নন ক্যাডার হলেও, তারা পরে ভালো চাকরি পেয়ে যাচ্ছেন। তাই প্রথম শ্রেণি বা দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে আগ্রহীরা বিসিএসের ওপরই আস্থা রাখছেন। পিএসসি চেয়ারম্যান বলেন, ৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল ও ৩৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য আমরা সবাই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ৩৬তমের চূড়ান্ত ফল ও ৩৭তমের লিখিত পরীক্ষার ফল সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে দেয়ার চেষ্টা করছি। ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অক্টোবরের শেষে নেয়া হতে পারে বলে তিনি জানান।

৩৬তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় ৫ হাজার ৯৯০ জন উত্তীর্ণ হন। প্রথম শ্রেণির ২ হাজার ১৮০ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে ২০১৫ সালের ৩১ মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। গত বছরের ৮ জানুয়ারি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে লিখিত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হন মাত্র ১৩ হাজার ৬৭৯ জন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ হাজার ৪৬৮ জন। প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে এক হাজার ২২৬ জনকে নিয়োগ দিতে ২৯ ফেব্রুয়ারি ৩৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন চাকরিপ্রার্থী অংশ নিয়ে ৮ হাজার ৫২৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা নেয়া হয়।

পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ক্যাডার ডিস্ট্রিবিউশন সফটওয়্যারের (ক্যাডস) মাধ্যমে ৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। যদিও ক্যাডসের পাশাপাশি ম্যানুয়ালি ফলাফলও প্রস্তুত থাকবে। পরীক্ষামূলক ৩৬তম বিসিএস থেকে এই পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। এর আগে নন-ক্যাডার পরীক্ষার ফল প্রকাশে সার্চ ইঞ্জিন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে।

এদিকে ৩৮তম বিসিএসে সরকারের প্রথম শ্রেণি কর্মকর্তার এই নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক সংস্কার আনছে কমিশন। এই বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রতিটি খাতা দু’জন পরীক্ষক মূল্যায়ন করবেন। তাদের নম্বরের ব্যবধান ২০ শতাংশের বেশি হলে তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে খাতা পাঠানো হবে। এর ফলে পরীক্ষার্থীদের মেধা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হবে বলে মনে করছে পিএসসি। এ ছাড়া ৩৮তম বিসিএস থেকে বাংলাদেশ বিষয়াবলির ২০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা আলাদা করে নেয়া হবে। এতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ৫০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। কেউ চাইলে ইংরেজিতেও ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

বিসিএস পরীক্ষার উত্তরপত্র সঠিকভাবে দেখা হচ্ছে না- এমন অভিযোগ তুলে পরীক্ষার্থীরা তা পুনর্মূল্যায়নের দাবি করে আসছেন। রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অনুযায়ী ৩৮তম বিসিএস থেকে লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র দু’জন পরীক্ষক দিয়ে মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয় পিএসসি। পরীক্ষকদের দেয়া নম্বরের ব্যবধান ২০-এর বেশি হলে তৃতীয় পরীক্ষক উত্তরপত্র দেখবেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস