৩০% কোটা বহাল রাখার দাবি মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের 

মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০% বহাল রাখার দাবিবিসিএসসহ সকল ধরনের সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ বহাল রাখাসহ নয় দফা দাবি জানিয়েছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা। শনিবার সকালে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ ব্যানারে আয়োজিত এক সমাবেশে তারা এসব দাবি জানান।

তাদের দাবি সমূহ- বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তিকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন করতে হবে। ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চলমান সব নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কোটার শূন্যপদ সংরক্ষণ করে বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে তা পূরণ করতে হবে।

১৯৭১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় শূন্য পদগুলোতে চলতি বছরেই নিয়োগ দিতে হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন প্রবাসী সরকারের প্রথম সেনাবাহিনী, তাই তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে পেনশন, বোনাস, রেশনসহ সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তসহ উত্তরসূরীদের সব চাকরিতে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। ঢাবির উপাচার্যের বাসভবনে হামলাকারীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ অন্য সবার জন্য চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা তুলে নিতে হবে।

সংগঠনটির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক প্রশাসন গড়ার স্বার্থে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ বহাল রাখাতে হবে। সরকার যখন সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে একটি যৌক্তিক পরিণতির দিকে এগুচ্ছে, তখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে স্বাধীনতাবিরোধীরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে। তিনি আরো বলেন, সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নেওয়ায় দেশবিরোধী চক্রান্তকারীদের গরম ভাতে ছাই পড়েছে। তাই তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সাধারণ ছাত্র নামধারী কিছু বিভ্রান্ত যুবককে দিয়ে দেশে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম জামাল উদ্দিন, শহীদ এমপি নুরুল হক হাওলাদারের কন্যা ও সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য জোবায়দা হক অজন্তা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান জাতীয় সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. আজিজুল হাসান, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুন সরকার রানা প্রমুখ।