২৫ প্রকল্পে এক পয়সাও খরচ করতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ!

সঞ্চিতা সীতু :
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৩৬টি প্রকল্পে এক টাকাও খরচ করতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। এর মধ্যে পিডিবির আটটি প্রকল্প, আরইবির ৫টি, পিজিসিবির ৬টি, ডিপিডিসির ২টি, ডেসকোর ৩টি, ওজোপাডিকোর ১টি, ইজিসিবির ৩টি, আশুগঞ্জ পাওয়ার কোম্পানির একটি, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ১টি, আরপিসিএলর ২টি, সে ডার ১টি প্রকল্পে এক টাকাও খরচ হয়নি।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, অর্থবছরের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে এডিপিভুক্ত ৮৫টি প্রকল্পের মোট অগ্রগতি হয়েছে ৩৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। মোট বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ৪০ কোটি ৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে খরচ হয়েছে ৬ হাজার ১৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলোর মধ্যে ২৫টি প্রকল্পের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ করেছে, ২৪টি প্রকল্পের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশের চেয়ে বেশি টাকা খরচ করতে পেরেছে।
কোনো টাকা খরচ করতে পারেনি এমন প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে, শাহজীবাজার ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ১০৫ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ, সিলেট ১৫০ মেগাওয়াটের উৎপাদন ক্ষমতা ২২৫ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ, বাঘাবাড়ী ১০০ মেগাওয়াট থেকে ১৫০ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ প্রকল্প. কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে প্রি-পেইড মিটার দেয়া, ঘোড়াশালের ৩ নম্বর ইউনিটের সংস্কার, কাপ্তাইয়ে ৫ মেগাওয়াটের সোলার গ্রিড প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন পাওয়ার গ্রিড স্ট্রেনদেনিং প্রকল্প, বঙ্গভবন, গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ১১ কেভি সুইচিং স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সময় লাগলে ব্যয় বেড়ে যায়। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে রাখার নির্দেশ দিয়ে বলেন, সবাইকে আরো দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এ জন্য প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে এনে আরো দক্ষ, আন্তরিক এবং নিরলসভাবে কাজ করতে হবে।
এদিকে সম্প্রতি বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন (আইএমই) বিভাগের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এডিপিতে অনেক পুরনো প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। প্রতিবছরই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারার কারণে এই প্রকল্পগুলো যোগ হয়ে যাচ্ছে। অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়া, অর্থছাড় না হওয়া, দফায় দফায় দরপত্র আহ্বান করে কোনো সাড়া না পাওয়া, যন্ত্রপাতি সংগ্রহে দেরি. দরপত্র প্রক্রিয়াকরণে দেরির কারণে প্রকল্পগুলোর কোনো উন্নতি হচ্ছে না। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতের সর্বোচ্চ ১১টি প্রকল্প, রেলওয়ের ৯টি এবং সড়কের ৪টি প্রকল্প আছে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রায় প্রতি অর্থবছরেই প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্ধারিত অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না অধিকাংশ কোম্পানি। ফলে একই প্রকল্পে প্রতিবছর খরচ বাড়ছে, যা সার্বিক বিবেচনায় রাষ্ট্রের ক্ষতি। তিনি বলেন, ধরেই নেয়া হচ্ছে, কোনো প্রকল্পই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হবে না। এমন মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তা না হলে সরকারের যে মধ্যম আয়ের দেশের স্বপ্ন, তা বাস্তবায়নে হোঁচট খেতে হবে।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.