২০ দলের একক প্রার্থী ঠিক না হলেও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় জামায়াতের সেলিম

প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন জুনায়েদ সাকি

২০ দলের একক প্রার্থী চূড়ান্তভাবে ঘোষণার একদিন বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন জামায়াতের ঘোষিত প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা উত্তর সিটির আওতাধীন এলাকাতে গণসংযোগ করেন তিনি।

এদিকে গণসংহতি আন্দোলনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভায় ঢাকা (উত্তর) সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির প্রার্থিতা অনুমোদন করা হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মহানগর উত্তরের সভাপতি মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, উত্তরের মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য আমার দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। উত্তরা, বনানী, গুলশান, মোহাম্মদপুর, আদাবর, বাড্ডাসহ প্রভৃতি স্থানে আমি ইতোমধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছি। ঘরোয়া বৈঠক করছি। আমাদের নেতাকর্মীরা কাজ করছেন।

তিনি বলেন, আগামী রোববার মেয়র পদের জন্য রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ফরমও ক্রয় করব। উত্তর সিটির ভোটাররা মনে করেন যোগ্যতম প্রার্থী হিসেবে জোট নেত্রী আমাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন ইনশাআল্লাহ। জোটের একক প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন না পেলে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী থাকবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে সেলিমউদ্দিন বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ইনশাআল্লাহ আমিই মনোনয়ন পাব। তবে এ ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এদিকে আগামী শনিবার একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন খালেদা জিয়া। কাল রাত সাড়ে ৮টায় এই বৈঠক হবে গুলশানে তার কার্যালয়ে।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত সোমবার ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে একক প্রার্থী ঠিক করতে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর দায়িত্ব দেয়। সেজন্য শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তিন বছর আগে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তাবিথ আউয়াল যিনি বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য। এবারো প্রার্থী হিসেবে নীতি নির্ধারকরা তাবিথ আউয়ালের নামই বিবেচনার শীর্ষে রেখেছেন। এ ছাড়া দলের মনোনয়ন পেতে দলের সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামান ও সহপ্রকাশনা সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদও রয়েছেন। শাকিলের ছবি সংবলিত পোস্টারও গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের সামনের সড়কে লাগানো হয়েছে।

মেজর আখতারুজ্জামান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, দলের মনোনয়নের জন্য নেত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন নিজেকে ‘যোগ্য’ প্রর্থী দাবি করে বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আমি নিজেকে যোগ্য প্রার্থী মনে করি। আমি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সেই সুবাদে আমি প্রত্যাশা করি উত্তর সিটি মেয়রের দায়িত্বে একজন রাজনীতিবিদ আসুক। আমি উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে একটি যানজটমুক্ত আবাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে চাই। মহানগর উত্তরের যানজট নিরসন, গণপরিবহনের সমস্যা চিহ্নিত করে সকল প্রকার অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং পরিবহন খাতকে আধুনিকীকরণ, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, মশক নিধন, স্বল্প আয় ও শ্রমজীবীদের আবাসন, ভাসমান ও ছিন্নমূলদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তিনি বলেন, আমি উত্তর ঢাকার জলাবদ্ধতা দূর করতে চাই। নিয়ন্ত্রণহীন বাড়িভাড়াসহ নাগরিক সমস্যা দ্রুত সমাধানে তার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে বলে জানান তিনি। সেলিমউদ্দিন জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই দফা সভাপতি ছিলেন। তিনি বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মহানগর উত্তরের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

অপরদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আবারো জোনায়েদ সাকিকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে গণসংহতি আন্দোলন। নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার সাকির। তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তরের প্রথম নির্বাচনে টেলিস্কোপ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৭ হাজার ৩৭০ ভোট পেয়েছিলেন এই বাম নেতা। গণসংহতি আন্দোলনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভায় ঢাকা (উত্তর) সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির প্রার্থিতা অনুমোদন করা হয়েছে।

২০১৫ সালের ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ১৮টি অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন জোনায়েদ সাকি। নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর তৎকালীন কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ নেতৃত্বাধীন কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে চিঠি দেন তিনি। চিঠিতে সাকি লিখেছিলেন, ইসির কাছ থেকে নির্বাচন উপযোগী পরিবেশ আশা করেছিলাম। কিন্তু ভোটদানে বাধা, পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়া, কেন্দ্র দখলের ঘটনা, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও নির্বাচন পরিচালনা প্রক্রিয়ায় বাধ্য হয়ে এর প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করছি। এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, শাসকদের বড় দুই দলের তৎপরতায় ঢাকা মৃতপ্রায় নগরীতে পরিণত হয়েছে। ঢাকাকে বাঁচানো দরকার। সারাদেশে জনগণের ভেতর পরিবর্তনের যে আকাক্সক্ষা তৈরি হয়েছে তাকে ঢাকার জনগণের ভেতর ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন।

মানবকণ্ঠ/এসএস