১৪ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ৯ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা

১৪ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি ৯ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা

ব্যাংক খাতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে খেলাপি ঋণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ। আর এসব ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের ১৪টি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা। যার সিংহভাগই রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের। বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা ডিসেম্বর’ ১৮ প্রান্তিকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। জানা গেছে, ব্যাংক ব্যবস্থায় খেলাপি ঋণের শ্রেণিমান অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ নিরাপত্তা সঞ্চিতির অর্থ সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় প্রভিশন রাখতে ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, রূপালী, বেসিক ও অগ্রণী ব্যাংক। তালিকায় আরো রয়েছে, বেসরকারি খাতের এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং ট্রাস্ট ব্যাংক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাপি ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকগুলোকে প্রভিশন রাখতে হয়। খেলাপি বাড়ার কারণে প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে। যেসব ব্যাংক প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে তাদের মূলধন ঘাটতি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করে তার বেশির ভাগই আমানতকারীদের অর্থ। তাদের অর্থ যেন কোনো প্রকার ঝুঁকির মুখে না পড়ে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা আছে। এর একটি হলো প্রভিশন সংরক্ষণ। নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকের অশ্রেণিকৃত বা নিয়মিত ঋণের বিপরীতে ২৫ থেকে পাঁচ শতাংশ হারে প্রভিশন রাখতে হয়। নিম্নমান বা সাব-স্ট্যান্ডার্ড ঋণের বিপরীতে রাখতে হয় ২০ শতাংশ, সন্দেহজনক ঋণের বিপরীতে ৫০ শতাংশ এবং মন্দ বা কুঋণের বিপরীতে ১০০ শতাংশ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। ব্যাংকের আয় খাত থেকে অর্থ এনে এ প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়। খেলাপি ঋণ বাড়লে আর সে অনুযায়ী ব্যাংকের আয় না হলে প্রভিশন ঘাটতি দেখা দেয়। ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, প্রভিশন ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শেয়ারহোল্ডাদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে নয় লাখ ছয় হাজার ৮২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৩ হাজার ২৭৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১০ দশমিক ২৯ শতাংশ। ডিসেম্বর’ ১৭ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৭৪ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা বা ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। অর্থাত্ এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে ১৪ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৩৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি বেসিক ব্যাংকের। ডিসেম্বর শেষে এই ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৩৭৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এরপরই সোনালী ব্যাংকের ঘাটতি দুই হাজার ৫৪৪ কোটি ৬৪ লাখ, রূপালী ব্যাংকের ৯৫২ কোটি ৬৯ লাখ এবং অগ্রণী ব্যাংকের ৮৬৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের আট ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি এক হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে এবি ব্যাংকের ১২৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৪৩৩ কোটি ৭২ লাখ, মধুমতি ব্যাংকের ৪২ কোটি ৬৯ লাখ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৮৫ কোটি, ন্যাশনাল ব্যাংকের ১৫৩ কোটি ৮১ লাখ, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৩১ কোটি ৮৯ লাখ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ৯৮ কোটি, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৩২৭ কোটি ৩৫ লাখ ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৪৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ট্রাস্ট ব্যাংকের ২৫৫ কোটি ৮৫ লাখ।

মানবকণ্ঠ/এসএস