১৪ দিনেও অনুদঘাটিত পাইকপাড়ায় দুই সন্তানসহ মা খুনের রহস্য

১৪ দিনেও অনুদঘাটিত পাইকপাড়ায় দুই সন্তানসহ মা খুনের রহস্য

ঘটনার ১৪ দিন পার হলেও রাজধানীর পাইকপাড়া সরকারি কলোনির কোয়ার্টারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহকারী হিসাবরক্ষক জেসমিন আক্তার ও তার দুই সন্তানের হত্যা রহস্যের কোনো কিনারা করতে পারেনি পুলিশ।

তবে এ ঘটনায় জেসমিনের খালাতো বোন যুথী ও হাসিবুলের ভাগ্নের স্ত্রীর কোনো যোগসূত্র আছে কি না তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে মৃত্যুর আগে জেসমিনের লেখা একটি চিরকুটের অর্থ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।

৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় পাইকপাড়ায় সরকারি কোয়ার্টার থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার (৩৫) এবং তার দুই মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তিনজনের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে যুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, জেসমিনের গলার পাশাপাশি দুই হাতে কবজির কাছে কাটা ছিল। বুকে ছিল অন্তত ৯টি আঘাতের চিহ্ন। বড় মেয়ে হিমির পেটে তিনটি আঘাতের চিহ্ন এবং বাঁ হাতের কবজির কাছে কাটা ছিল। ছোট মেয়ে হানির পেটে এবং ডান হাতের কবজির কাছে কাটা ছিল। দু’জনেরই গলা কাটা ছিল। এদিকে মৃত্যুর আগে জেসমিন তার অফিসে একটি চিরকুটে লিখে যান। ওই চিরকুটটি পুলিশ তার অফিসের টেবিলের ড্রয়ার ভেঙে উদ্ধার করে। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমি বেঁচে থাকার রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না। আমার সব দিক থেকে অনেক অন্ধকার নেমে এসেছে। তাই এ সিদ্ধান্ত নিতে হলো। আমার মৃত্যুর জন্য আমার নির্মম দুর্ভাগ্য দায়ী।’ পুলিশের ভাষ্য, কী এমন দুর্ভাগ্য ছিল যে জেসমিনের জীবনে যে নিজ অফিসে এমন একটি চিরকুট লিখে রেখে গেছেন। পুলিশ এখন ‘আমার মৃত্যুর জন্য আমার নির্মম দুর্ভাগ্য দায়ী’-এর অর্থ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

পুলিশের দারুসসালাম জোনের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম গতকাল মানবকণ্ঠকে বলেন, আমরা উদ্ধার করা চিরকুটে লেখাগুলোর অর্থ খোঁজার চেষ্টা করছি। কেন এমন কথা তিনি লিখেছেন ও এর পেছনে কোনো পারিবারিক কারণ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছি। চিরকুটটি যে ভিকটিমের হাতের লেখা কিনা তাও পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতিক্রমে সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে।

চিরকুট উদ্ধারের পর দুই শিশুসন্তানসহ মায়ের লাশ উদ্ধার নিয়ে রহস্য বাড়ছে। পরিবার ও পুলিশ দাবি করে আসছে, ঘটনার সময় ওই কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পাশের কক্ষে জেসমিনের ভাই শাহীনুর ও স্বামী হাসিবুলের ভাগ্নে ও ভাগ্নের বউ থাকেন। আরেক কক্ষে জেসমিনের খালাতো বোন যুথী থাকেন। তারাও বিষয়টি টের পাননি বলে দাবি করেছেন। পরে হাসিবুল ও জেসমিনের ভাই শাহীনুর দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে মা ও দুই মেয়ের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান।

ডিবির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মাহমুদ নাছের জনি জানান, মা মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো হত্যা মামলা না হওয়াতে সরাসরি এ বিষয়ে তারা কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারছে না। সবচেয়ে রহস্যজনক আচরণ করছেন জেসমিনের ভাই শাহিনুর। জেসমিনের ভাই কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জেসমিনের মৃত্যুর বিষয়ে অন্য কারো হাত থাকতে পারে এমন কোনো অভিযোগ করা হয়নি। কিন্তু জেসমিন ও তার দুই মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ধরন দেখে মনে হয়েছে এমন কোনো ঘটনা আছে যার জন্য এভাবে মা ও দুই মেয়েকে প্রাণ দিতে হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই বুঝা যাবে মূল কারণ।

মানবকণ্ঠ/এসএস