হারিয়ে যেতে বসেছে রাজা বিরাটের স্মৃতি চিহ্ন

হারিয়ে যেতে বসেছে রাজা বিরাটের স্মৃতি চিহ্ন

কালের আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের রাজা বিরাটের সব স্মৃতি চিহ্ন। এলাকার কিছু প্রভাবশালী মহল মেতে উঠেছে এই প্রত্ন নিদর্শন ধ্বংসে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে এর ভগ্নাবশেষগুলো সংরক্ষিত হিসেবে সংরক্ষণের জন্য সাইন বোর্ড সংরক্ষণ ও নজরদারি না থাকায় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী মহল তা নষ্ট করে ফেলছে। রাজা বিরাটের ধনডুবা পুস্করণী, রাজপ্রাসাদের ধ্বংস ব্যক্তি দখলে নিয়ে মাটি ভরাট করে নতুন নতুন স্থাপনা ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।

মহাভারতে রাজা বিরাটের রাজধানীর বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। ১৮ পর্বের মধ্যে বিশেষ করে বনপর্ব ও বিরাটপর্বে বিরাট রাজ্যের বিবরণ রয়েছে বিশেষভাবে। এই রাজা বিরাটের নামানুসারে এই রাজ্যের নামকরণ হয় রাজা বিরাট। আবার কিংবদন্তি থেকে জানা যায়, অষ্টম শতাব্দীর শেষ ভাগে (৭৪৩-৮০০) খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণ পূর্ব বাংলার সমতটে দেব বংশ নামে একটি রাজ বংশ দোর্দণ্ড প্রতাপে দেশ শাসন করতেন। রাজা বিরাট এই দেব বংশ ও পুন্ড্রনগরীর আওতাভুক্ত ছিলেন। বলা হয়ে থাকে, মহাভারত রচনার ৫ হাজার বছর পূর্বে গাইবান্ধার জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত রাজা বিরাটের অবস্থান। গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে ৫০ কিমি এবং নওগাঁর আটর উপজেলা শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে রাজা বিরাটের অবস্থান। এখন রাজ প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, বিশাল বিশাল পুস্করণী অযত্নে অবহেলায় অরক্ষিত পড়ে আছে। অনেক সম্পত্তি চলে গেছে প্রভাবশালীর দখলে আবার অনেক সম্পত্তি ব্যবহূত হচ্ছে ব্যক্তিগত সম্পদে।

রাজা বিরাট এলাকার রাজস গ্রামের খগেন বর্মন জানান, প্রতি বছর বৈশাখ মাসে দেশ বিদেশ থেকে পুণ্যার্থীদের আগমন ঘটে। এ ছাড়াও সারা বছর নানা স্থান থেকে আসা পর্যটকদের কোনো বিশ্রামাগার, টয়লেট ব্যবস্থা না থাকায় নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হন তারা। প্রায় একই ধরনের অভিযোগ এলাকার কমল চন্দ্র, শুনিল চন্দ্র ও স্বাধীন চন্দ্রের।

নওগাঁ শহর থেকে আসা পর্যটক মিন্টু চৌধুরী বলেন, রাজা বিরাটের নানা ধরনের পৌরাণিক কাহিনী বই পুস্তকে পড়ে অনেক আগ্রহ নিয়ে রাজা বিরাট দেখতে এসেছিলাম। কিন্তু এসে যা নজরে পড়ল তা পর্যটকদের হতাশ করার মতো।

মানবকণ্ঠ/এসএস