হাজিরা আল্লাহর মেহমান

জহির উদ্দিন বাবর :
পবিত্র হজ আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন একটি নির্দেশ, যা আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যরে অধিকারী প্রতিটি মুসলমানের জন্য ফরজ। হজের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দাকে যাবতীয় গোনাহ থেকে মুক্ত করেন। প্রতিটি মানুষ জন্ম নেয় নিষ্পাপভাবে। যাপিত জীবনে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে সে পাপ করে। কিন্তু কেউ যদি সহিহভাবে হজ করে, তবে সে তার অতীত গোনাহ মাফ পায়। হজ করতে গিয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করলে আল্লাহ তার হজ কবুল করে নেন। হজ না করেও তিনি হজের পরিপূর্ণ সওয়াব লাভ করেন। কারণ আল্লাহ বান্দার নিবেদিতপ্রাণ মনোভাবকে মূল্যায়ন করেন। বান্দা হজের নিয়তে যখন ঘর থেকে বের হন, তখন তিনি একাগ্রচিত্তে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য যাত্রা শুরু করেন। হাদিসে হজযাত্রীদের অভিহিত করা হয়েছে আল্লাহর পথের যাত্রী হিসেবে। আল্লাহ হাজিদের সুউচ্চ মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন। হাজিরা শুধু নিজের জন্য নয়, অন্য মুমিন ভাইয়ের জন্যও যদি আল্লাহর কাছে মাফ চান, আল্লাহ তাদের দোয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তুমি যখন কোনো হাজির দেখা পাবে, তাকে সালাম দেবে, মুসাফাহা করবে এবং তাকে অনুরোধ করবে তিনি যেন আল্লাহর ঘরে প্রবেশের আগে তোমার জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চান। কারণ হাজি হলেন গোনাহ থেকে পবিত্র ব্যক্তি।’ হজের প্রতিটি আহকামে হাজিরা তাদের নিটোল, নিষ্কলুষ ও অকৃত্রিম প্রেমের প্রকাশ ঘটিয়ে থাকেন। প্রতিটি মুহূর্তে নিজের তপ্ত হৃদয় থেকে উৎসারিত কাতর প্রার্থনা জানান আল্লাহর দরবারে। কাবাঘরে তওয়াফ, সাফা-মারওয়ায় দৌড়াদৌড়ি, মিনায় অবস্থান, কংকর নিক্ষেপ, আরাফা-মুযদালিফায় অবস্থান-এসব কর্মকাণ্ডে হাজিরা আল্লাহপ্রেমের প্রকৃত রূপটি ফুটিয়ে তোলেন। হজের দিনগুলোতে প্রেমের উচ্ছ্বাসে মুখর হাজিদের প্রাণান্তকর আকুতি ও ব্যাকুল মিনতি একটাই-প্রেমাস্পদ প্রভুকে কীভাবে আপন করে পাওয়া যায়, তার সন্তুষ্টি কীভাবে অর্জন করা যায়। এ জন্য খোদাপ্রেমের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনে হজের কোনো বিকল্প নেই। একমাত্র হজের মাধ্যমেই প্রেমাস্পদ প্রভুর সবচেয়ে কাছে পৌঁছা সম্ভব। – লেখক: আলেম