হঠাৎ গ্যাস উধাও দুর্ভোগে নগরবাসী

হঠাৎ গ্যাস উধাও দুর্ভোগে নগরবাসী

রাজধানীতে হঠাৎ করেই বাসাবাড়িতে কমে গেছে গ্যাসের চাপ। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গত বেশ কিছুদিন যাবৎ গ্যাসের সরবরাহ ছিল নিভু নিভু প্রায়। কিন্তু হঠাৎ করেই শনিবার রাত থেকে কিছু কিছু এলাকায় একেবারেই গ্যাস আসছে না। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন রাজধানীতে গ্যাসের সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে শিগগিরই সারাদেশে গ্যাস সংকটের সমাধান হবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী বলছেন, উদ্ভুত সংকটের কারণ খতিয়ে দেখা হবে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, গ্যাস বিতরণকারী সংস্থার পক্ষ থেকে সরবরাহ বন্ধের কোনো নোটিশ না থাকলেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নগরবাসী। রাজধানীজুড়ে গত বেশ কিছুদিন যাবত গ্যাসের মারাত্মক সংকট চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই শনিবার রাত থেকে রাজধানীর বেশ কিছু এলকায় গ্যাস আসা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে অনেকেরই বাসাবাড়িতে রান্না-বান্না বন্ধ রয়েছে। হোটেল থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে খাবার।

রাজধানীর হীরাঝিল বস্তি। ২টি করে মোট ৪টি গ্যাস সংযোগের চুলা থাকলেও তাদের ভরসা মাটির চুলা। হীরাঝিল বস্তির বাসিন্দা আলেয়া বেগম বলেন, সকাল ৩টা বাজে গ্যাস আসলে ৭টা বাজতে বাজতে গ্যাস চলে যায়। এখনই এই অবস্থা, আসন্ন শীতকালেতো গ্যাসের আরো সংকটের সম্ভাবনা রয়েছে।

অপরদিকে রাজধানীতে যারা ফ্ল্যাটের বাসিন্দা, ভালো নেই তারাও। শনিবার ছুটির দিনেও দিনভর অপেক্ষা শেষে তাদের শেষ ভরসা এলপি সিলিন্ডার।

মিরপুর বারো নম্বর সেকশনের ডি ব্লকের বাসিন্দা নাজমা বেগম জানান, সকাল ৪টা বাজে ঘুম থেকে উঠে রান্না করতে হয়। সরকারি বন্ধের দিনও গ্যাস থাকে না। সকাল ৭টা বাজতে না বাজতেই গ্যাস চলে যায়। লাইনে টিপ টিপ করে গ্যাস আসায় রান্নাবান্না বন্ধের উপক্রম হয়েছে। আর তাই রান্নাবান্নার কাজ আগেই শেষ করে রাখতে হয়।

তিনি বলেন, গ্যাস না থাকলেও মাস শেষে বিলটি কিন্তু পূর্ণাঙ্গই আসে। বাধ্য হয়েই আমাদের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও আমাদের পর্যাপ্ত সেবাতো দূরে থাক স্বাভাবিক সেবাটুকুও পাচ্ছি না।

তিতাস গ্যাসের অভিযোগ কেন্দ্রের কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ উভয় সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে গতকাল সোমবার সকাল থেকে তাদের কাছেও শত শত অভিযোগ এসেছে। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ কী কারণে বন্ধ রয়েছে তা এখনই ঠিক বলা যাচ্ছে না।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, গ্যাসের অভাবে দিনের পর দিন বাসাবাড়িতে রান্না বন্ধ থাকলেও নির্বিকার তিতাস কর্তৃপক্ষ। বাসাবাড়ি, সিএনজি স্টেশন ছাড়াও তীব্র গ্যাস সংকটে ধ্বংস হচ্ছে শিল্প-কারখানাও। শিল্পে নতুন সংযোগ বন্ধ রাখাসহ নানা উদ্যোগ নিয়েও সংকট নিরসন করা যাচ্ছে না। বরং দিন যতই গড়াচ্ছে গ্যাসের সংকট আরো বাড়ছে। শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে গ্যাস সংকটের কারণে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
গ্যাস সংকট নিয়ে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও নার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, শীতকালীন সময়ে গ্যাস সংকট হতে পারে কিন্তু এই সময়ে হঠাৎ এটা হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এ ব্যাপারে কোনো ধরনের ঘোষণাও নেই।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই গ্রীষ্মকালে ঠিক কী কারণে গ্যাসের এ সংকট তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এক কর্মকর্তা বলেন, অবৈধ লাইনের কারণে ভোগান্তিতে আছেন বৈধভাবে যারা গ্যাস সংযোগ নিয়েছেন তারা। তিনি বলেন, পাঁচজনের খাবার দশজনে খেলে যেটি হয়, তা-ই হচ্ছে।
রাজধানীর লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, আজিমপুর, মিরপুর, ধানমণ্ডি ও রায়েরবাগ এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রীষ্মে এ অনাকাঙ্ক্ষিত গ্যাস সংকট নগরবাসীকে কতদিন ভোগাবে উত্তর জানা নেই কারোরই।

মানবকণ্ঠ/এসএস