হঠাৎ অস্থির চট্টগ্রামের চালের বাজার

হঠাৎ অস্থির চট্টগ্রামের চালের বাজার

চট্টগ্রামে হঠাৎ করেই অস্থির হয়ে উঠেছে চালের বাজার। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে মোটা ও সরু প্রায় সব ধরনের চালের দাম প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কেজিতে বেড়েছে ২ থেকে ৫ টাকা। চালের এমন অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তরা। এতে প্রতিনিয়ত নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। মূলত বছরের শুরুতে মিল মালিকরা কারসাজি করে দাম বৃদ্ধি করছেন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার দেশে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এক শ্রেণির মিল মালিক কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। বৃদ্ধি করছে চালের দাম। তাই মিল মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন আড়তদাররা।

গতকাল চট্টগ্রামের চালের প্রধান তিন বাজার চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ ও পাহাড়তলী বাজার সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে বাজারে নাজিরশাইল, জিরাশাইল (সিদ্ধ), মিনিকেট (সিদ্ধ), বাসমতি (সিদ্ধ), স্বর্ণা (সিদ্ধ), বেতি, পাইজাম (আতপ), মিনিকেট (আতপ), কাটারীভোগ আতপ, মোটা সিদ্ধ ও চিনিগুড়া চাল মানভেদে বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাবে খুচরা বাজারেও বেড়েছে চালের দাম। কর্নেলহাট বাজারের খুচরা বিক্রেতা জোবায়ের রিফাত জানান, পাইকারিতে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে চালের দাম কেজিতে ৩-৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন বলেন, মিলমালিকরা হঠাত্ চাল সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন, যদিও সরবরাহ কমে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। মিলমালিকরা ধানের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে চালের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। যে হারে চালের দাম বেড়েছে, সেই অনুপাতে কিন্তু ধানের দাম বাড়েনি। কারণ, কৃষকের ঘরে নতুন ধান উঠেছে খুব বেশি দিন হয়নি।

চাক্তাই চালপট্টির ব্যবসায়ী দেবু দা বলেন, আমাদের ধারণা ২০১৭ সালের মতো মিল মালিকরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করেই চালের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছেন।

খাতুনগঞ্জ চালের বাজারের কয়েক ব্যবসায়ী জানান, এখন চালের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। দেশে বন্যা, খরা, বৃষ্টি কোনো কিছুই হয়নি। সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। তাহলে কেন চালের দাম বাড়বে। চালের দাম বাড়ার যদি কোনো কারণ থাকে, তা হলো সিন্ডিকেট।

মানবকণ্ঠ/এসএস