সড়ক নিরাপত্তায় চালকদের দক্ষতার বিকল্প নেই: মাতলুব আহমাদ

‘সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় কারণ চালকদের দক্ষতার অভাব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, তাদের দক্ষতা অর্জনে তেমন আগ্রহ নেই। কারণ ৫-৬ হাজার টাকা দিয়েই তারা অবৈধভাবে লাইসেন্স পেয়ে যাচ্ছে।’ কথাগুলো বললেন ‘সাবধানে গাড়ি চালান, একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না’ স্লোগানের প্রচারক নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ। নিরাপদ সড়ক চাই দিবস উপলক্ষে গতকাল মানবকণ্ঠের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি সড়ক দুর্ঘটনার কারণ, প্রতিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় চালকদের দক্ষতার অভাব, বেপরোয়া মনোভাব ও ওভারটেকিং করার প্রবণতাকেই বড় কারণ উল্লেখ করে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, আমাদের দেশে চালকদের কারণেই বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। এ জন্য চালকদের দক্ষতার বিকল্প নেই। দেখুন, দেশে ২০ লাখ গাড়ি রয়েছে। অথচ বৈধ লাইসেন্স রয়েছে ৫ লাখ ড্রাইভারের। তাহলে বাকি ১৫ লাখ গাড়ি কারা চালাচ্ছে? তারা হয় লাইসেন্স ছাড়াই চালাচ্ছে অথবা অবৈধ লাইসেন্স দিয়ে চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার তথা বিআরটিএর তদারকি বাড়াতে হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানে আরো স্বচ্ছতা আনার দাবি করে মাতলুব আহমাদ বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান আরো সহজ করা উচিত। পাশাপাশি এখানে যে দুর্নীতির মাধ্যমে লাইসেন্স দেয়া হয় তা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। চালকদের দক্ষতা নিশ্চিত হলে সহজেই যাতে তারা লাইসেন্স পায় সেদিকে নজর দিতে হবে সরকারকে। পাশাপাশি বিআরটিএর নিয়ম-নীতিকে আরো যুগোপযোগী করতে হবে। ফিটনেস পরীক্ষার সেবা সারাদেশে দিতে হবে। ঢাকায় রেজিস্ট্রেশনকৃত গাড়ি যাতে রংপুরের বিআরটিএ অফিস থেকেও ফিটনেস সনদ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় ঢাকায় তাদের আসাও হয় না, ফিটনেস সনদও নেয়া হয় না। এ ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে বিআরটিএকে।

বাংলাদেশে টাটা গাড়ির একমাত্র পরিবেশনক নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা একটি ড্রাইভিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছি। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সেখানে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আমাদের গাড়ি কিনলেই এই ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণের জন্য একটি ফ্রি ভাউচার দিয়ে থাকি। কিন্তু পরিতাপের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি, এই ভাউচার দিয়ে ফ্রি প্রশিক্ষণ নিতেও ড্রাইভারদের আগ্রহ নেই। আমরা পরে গাড়ির ক্রেতাদের বলেছি, কোনো ফ্রেশ ছেলেকে এই ভাউচার দিয়ে পাঠিয়ে দিন। এর মাধ্যমে অন্তত কিছু ভালো ড্রাইভার তৈরি হোক।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গাড়ির মালিক ও অপারেটরদের দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ড্রাইভারদের যথেষ্ঠ বিশ্রাম নিশ্চিৎ করতে হবে। উন্নত বিশ্বে আমি দেখেছি, দুই ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পরে ৩০ মিনিটের বিশ্রাম নিতে হয় চালককে। এছাড়া চালকের বসার যায়গা আরামদায়ক করতে হবে। এসির ব্যবস্থা না করতে পারলেও ফ্যান দিতে হবে। যাতে তারা আরামে গাড়ি চালাতে পারে। রাস্তার পাশে প্রস্রাব-পায়খানার ব্যবস্থাসহ বিশ্রামের যায়গা তৈরি করে দিতে হবে সরকারকে।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে আমি একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছি, আলোচনা করেছি। একটি মহৎ কাজ তিনি করছেন। আমি তাকে সাধুবাদ জানাই। এ দিবসের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। আমি আবারো বলব, গাড়ির চালক, গাড়ির মালিক বা অপারেটর, যাত্রীসহ জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি রাস্তাঘাট ভালো করতে হবে। তবেই সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব।

মানবকণ্ঠ/এসএস