সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘অ্যাকশন প্ল্যান’

সড়ক দূর্ঘটনা রোধে বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘অ্যাকশন প্ল্যান’সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে ন্যাশনাল রোড সেফটি স্ট্যাটেজিক অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি জানান, জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অ্যাকশন প্ল্যান ২০১৭-২০২০ প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দূর্ঘটনা অর্ধেকে নেমে আসবে।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে আমিনা আহমেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক পথে নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও দূর্ঘটনা রোধকল্পে মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস বিহীন গাড়ি চালনারোধে মোটরযান রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইনে যাচাই- বাছাই পদ্ধতি প্রচলন করা হয়েছে। এছাড়া ভূয়া ও জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স শনাক্তকরণে বর্তমানে ইলেকট্রিক চিপযুক্ত ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স চালু করা হয়েছে। ফলে ভূয়া লাইসেন্স ব্যবহার হ্রাস পেয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের মে মাস পর্যন্ত ৯ হাজার ১৪৮টি মামলার মাধ্যমে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ টাকা জরিমানাসহ ১৪৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও ৫২টি গাড়ি ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া চালকদের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সকল বিভাগীয় শহরে বিআরটিএ ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত ৭৬ হাজার ২০৮ জন ড্রাইভারকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য উম্ম রাজিয়া কাজলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু ও ঢাকা সিটিতে মেট্রোরেল এ দুটি প্রকল্পের মধ্যে সেতু বিভাগের আওতাধীন পদ্মা সেতু প্রকল্পের ৫৫ শতাংশ ভৌত কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, যানজট নিরসনে ও বৃহত্তর ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু, পরিকল্পিত, সমন্বিত ও আধুনিকায়নের জন্য অগ্রাধীকারপ্রাপ্ত মেট্রোরেল প্রকল্পটি ৫টি রুটের মাধ্যমে নগরবাসীর সেবা প্রদান করা হবে।

এর মধ্যে ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন, পূর্ত কাজ, বিভিন্ন রুটে ভায়াডাক্ট ও স্টেশন নির্মান, ইলেকট্রিক্যাল এ- মেকানিক্যাল সিস্টেম, রোলিং স্টক ও ডিপো ইকুপমেন্ট সংগ্রহ ইত্যাদি ৬টি প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০১৭ সালের আগস্টের ৬ তারিখে জাপানের কোম্পানী কাওসাকি মিটসুবিশী এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ প্যাকেজের আওতায় মোট ২৪ সেট ট্রেন নিয়ে আসা হচ্ছে, যার প্রতিটিতে ৬টি করে কোচ থাকবে। এ কাজ শুরু হয়েছে এবং ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তা শেষ হবে।

বেগম লুৎফা তাহেরের অপর এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকার যানজট সমস্যা সমাধানে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে ইপিজেড পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা- আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মান প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। এটি জি টু জি ভিত্তিতে নির্মানে চীন সরকারের মনোনীত একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং অর্থনৈতিক বিভাগের মাধ্যমে ঋণ প্রস্তাবটি চীন সরকারের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

এছাড়া রাজধানীর অসহনীয় যানজট নিরসনে গণপরিবহন সুবিধা সম্পন্ন সাবওয়ে বা আন্ডারগ্রাউ- মেট্রো নির্মাণে সম্ভ্যাবতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য পরিকল্প অনুমোদিত এবং সমীক্ষা পরিচালনার জন্য পরামর্শক নিয়োগ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া যমুনা নদীর তলদেশে ট্যানেল নির্মানে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে সম্ভবতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি জানান, গত ৯ বছরে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় এক হাজার কোটি টাকার উর্দ্ধে যেসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রীজ ইম্প্রুভমেন্ট, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক উন্নয়ন, জেলা মহাসড়ক উন্নয়নে ১০ টি গুচ্ছ প্রকল্প এবং কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ প্রকল্প। এছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কতৃপক্ষের আওতায় বাস্তবায়নাধীন আরো ২০টির মত মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন বলে জানান তিনি।

মানবকণ্ঠ/ডিএইচ