সড়ক দুর্ঘটনার শেষ নেই

অরণ্যে রোদন বলে একটি প্রবাদ রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে এত এত কথা হয়েছে, এত এত সভা-সেমিনার, শেষাবধি স্কুলের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, তারপরও এর শেষ হয়নি। বরং আজকের প্রেক্ষাপটে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কথা বলা মানে প্রকারান্তরে অরণ্যে রোদনই। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের পর আশা করা হয়েছিল, সবার টনক নড়বে। সবাই সচেতন হবে। কিন্তু তা যে হয়নি, প্রতিদিন সড়কে মানুষ হত্যার খবর সেই কথাই স্পষ্ট করে দেয়। এমন কোনো দিন নেই যেদিন সড়কে হত্যাকাণ্ড ঘটেনা। এমন কোনো দিন নেই যেদিন স্বজন হারানোর বেদনায় বাংলার বাতাস ভারি হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এই যে আমাদের আহাজারি, এর কি কোনই শেষ নেই? ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে জব্দ করা বাসচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক। একইদিনে রংপুরের ৬ জনসহ ৫ জেলায় নিহত হয়েছে ১৩ জন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রাজধানীর মিরপুরে জব্দ করা ঈগল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় প্রাণ হারান পুলিশের উপ-পরিদর্শক উত্তম কুমার সরকার। ২ সেপ্টেম্বর বিকেলে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি থানায় নিয়ে আসার সময় শাহআলী থানাধীন রাইনখোলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ইতোমধ্যে বাসচালককে আটক করে এটি হত্যা না দুর্ঘটনা তা খতিয়ে দেখছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় ৩ দিন আগে ঈগল পরিবহনের বাসটি দুর্ঘটনায় পড়ে। ওইদিন থেকে বাসটি সেখানেই পুলিশ জব্দ রাখে। ২ সেপ্টেম্বর বিকেলে বাসটিকে উপ-পরিদর্শক থানায় নিয়ে আসার সময় বাসটি উপ-পরিদর্শকের মোটরসাইকেলে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি লুটিয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বাসের চাকার নিচে চলে যায় তার মাথা। ঘটনাস্থলে নিহত হন তিনি। চালক যদিও ব্রেক ফেল করার কথা জানিয়েছে, তবে পুলিশ তদন্ত করছে ঘটনাটি দুর্ঘটনা না ইচ্ছাকৃত। শুধু এই ঘটনাটিই নয়, একইদিনে রংপুরে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, বগুড়া, পাবনা ও নারায়ণগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় আরো ৭ জন। প্রতিদিন সড়কে এই যে মৃত্যুর মিছিল এর কি শেষ নেই? আমরা কি স্বজন হারানোর বেদনা প্রতিনিয়ত বয়ে বেড়াব? সরকার আইন করছে, চালক দোষী হলে কঠোর শাস্তির বিধানের দাবি উঠেছে। মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ডিভাইডার বসানো হচ্ছে। চালক এবং যাত্রীদের সচেতনতা বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ যে বলতে গেলে শূন্যের কোঠায়, তা কাউকেই বলে দিতে হবে না। আমরা এই অবস্থার অবসান চাই। সড়কে আর কোনো মৃত্যুর খবর শুনতে চাই না। নিরাপদ সড়ক চাই। এজন্য সবার সচেতনতা এবং উদ্যোগ আজ জরুরি।