স্যাটেলাইটে ব্যয় ২০০ কোটি টাকা কম হয়েছে: জব্বার

মানবকণ্ঠ ডেস্ক :
উৎক্ষেপিত বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্পের ব্যয়ে কোনো গোপনীয়তা নেই জানিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ২০০ কোটি টাকা কমে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ের সামনে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০১৮ উদযাপনের রোড শোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্পে ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। এই হিসাব প্রকাশ করা হবে কিনা জানতে চাইলে জব্বার বলেন, আমরা গোপনে কিছু করিনি, যত টাকার প্রকল্প নিয়েছি, সেখান থেকে ২০০ কোটি টাকা কমে এই প্রকল্প সম্পন্ন করেছি। সেটি অত্যন্ত স্পষ্ট। আর কি হিসাব দেব? ওদের কি ভাউচার দেব আমরা- রিকশা ভাড়া কত দিয়েছিলাম, কোন জায়গায় কত খরচ করেছি।
টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, চুক্তির ভিত্তিতে একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল কাজটি সম্পন্ন করার জন্য। এ চুক্তি প্রকাশ্য, এখানে কোনো গোপনীয়তা নেই। আমরা উৎক্ষেপণের জন্য চুক্তি করেছি, প্রশিক্ষণ, পরিচালনা- সব কিছু স্পষ্টভাবে, স্বচ্ছতার সঙ্গে করেছি।… যদি কেউ জানতে চায়, তথ্য চায় আমরা অবারিত তথ্য দিচ্ছি।
আগামীতে আরো স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের উদ্যোগ নেয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কাছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিয়ে যেতে চাই।
বাংলাদেশ সময় শনিবার মধ্যরাতে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু-১। বিটিআরসির নেয়া তিন হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের আওতায় ফরাসি প্রতিষ্ঠান তালেস এলিনিয়া এই স্যাটেলাইটটি তৈরি করে, এর উৎক্ষেপণ হয় যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের মাধ্যমে।
সরকার বলছে, বর্তমানে সম্প্রচার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে গবেষণার কাজের জন্য বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে এক কোটি ৪০ লাখ ডলার (১১৮ কোটি টাকা) গুনতে হয়। তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মহাকাশে পাঠানো এই কৃত্রিম উপগ্রহ কাজ শুরু করলে বিদেশি স্যাটেলাইট নির্ভরতা কাটিয়ে উঠে অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
আগামী ১৭ মে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশে পালিত হবে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস-২০১৮। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য- ‘সবার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইতিবাচক ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি।’
দিবসটি উদযাপনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ের সামনে থেকে রোড অ্যান্ড র‌্যালি শো রমনা থেকে ফার্মগেট, বিজয় সরণি, তেজগাঁও, সাতরাস্তা ও মগবাজার হয়ে বিটিআরসিতে ফিরে আসে।
বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমিশনার জহুরুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.