স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা মেহমুদ আর নেই

মোস্তফা মেহমুদস্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মানুষের মন’-এর পরিচালক মোস্তফা মেহমুদ (৮১) আর নেই। ০৯ এপ্রিল (রোববার) মধ্যরাতে মিরসরাইয়ের স্থানীয় একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। তিনি দুই ছেলের জনক। বড় ছেলে ছালাউদ্দিন মেহমুদ আমেরিকা ও ছোট ছেলে জিয়া উদ্দিন মেহমুদ কানাডা প্রবাসী। স্ত্রী ফিরোজা মেহমুদ আগেই মারা গেছেন।

প্রবাসী দুই ছেলে দেশে আসার পর আগামী বুধবার (১২ এপ্রিল) তাঁর নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

১৯৭২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি রাজ্জাক, ববিতা, আনোয়ার হোসেন, আনোয়ারা ও রোজী কবির অভিনীত ‘মানুষের মন’ চলচ্চিত্রটি স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তি পায়। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র হিসাবে স্বীকৃত। ৬০ এবং ৭০ দশকে তিনি জনপ্রিয় পরিচালক ছিলেন।

নায়িকা ববিতা (সংসার) ও নায়িকা নতুন (নতুন প্রভাত) তাঁর পরিচালিত ছবির মাধ্যমেই চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। এই দুই নায়িকা এখন স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।

দুই ভাই (রাজ্জাক, সুচন্দা-১৯৬৭ খৃ.), সংসার (রাজ্জাক, সুচন্দা, ববিতা-১৯৬৭), মোমের আলো (সুজাতা, আনসার-১৯৬৮), মায়ার সংসার (সুজাতা, সরকার কবির-১৯৬৯), আদর্শ ছাপাখানা (সুজাতা, জলিল ও আবুল খায়ের-১৯৭০), নতুন প্রভাত (নতুন, শাকিল-১৯৭১), মানুষের মন (রাজ্জাক, ববিতা, আনোয়ার হোসেন, আনোয়ারা, রোজী-১৯৭২), জীবন সংগীত (রাজ্জাক, সুচন্দা-১৯৭৩), অবাক পৃথিবী (রাজ্জাক, কবরী, শাবানা-১৯৭৪), মনিহার (শাবানা, আলমগীর-১৯৭৫), জয়পরাজয় (শাবানা, আলমগীর-১৯৭৬), মনের মানুষ (শাবানা, আলমগীর-১৯৭৮), মধুমিতা (শাবানা, আলমগীর-১৯৭৯),মাটির মানুষ (শাবানা, আলমগীর-১৯৮০) ও স্বামীর সোহাগ (কবরী, বুলবুল আহমেদ-১৯৮২) তাঁর পরিচালিত ছবি। এর মধ্যে দুই ভাই ও সংসার যৌথভাবে পরিচালিত চলচ্চিত্র।

১৯৫৭ সালের শেষের দিকে “মাসিক মৃদঙ্গ” নামের একটি পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশনা শুরু করেন তিনি। ছবি পরিচালনায় হাত দেয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি এটি প্রকাশ ও সম্পাদনা করতেন। এটি মূলত চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক সংবাদ নির্ভর পত্রিকা ছিল।

চলচ্চিত্র পরিচালনা ছেড়ে দেয়ার পর থেকে তিনি মিরসরাইয়ের মিঠানালা তাঁর গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। সেখানে তিনি মাছ ও গরুর খামার গড়ে তোলেন। পাশাপাশি শাক সবজি চাষ করতেন। মাঝে মাঝে প্রবাসে ছেলেদের কাছে গেলেও ফিরে আসতেন গ্রামে। আমৃত্যু তিনি সেখানেই ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/আরএ