স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকের নিরাপত্তা

মুহাম্মদ কামাল হোসেন :
গণমাধ্যম তথা সংবাদপত্রকে সমাজ বা রাষ্ট্রের দর্পণ হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। একটা দ্বি-চক্রযানের একটি চাকা যদি হয় গণতন্ত্র, আরেকটি চাকা নিঃসন্দেহে গণমাধ্যম। এটা নিয়ে কোনো মতান্তর বা মতানৈক্য থাকতে পারে না। দুটো ঠিক থাকলে রাষ্ট্রও সুন্দর ও সাবলীল গতিতে চলতে থাকবে। দুটোর কোনো একটা আক্রান্ত হলে অন্যটাও নিশ্চিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও রাষ্ট্রের স্তম্ভ আরো রয়েছে, যেমন- নির্বাহী বিভাগ তথা প্রশাসন ও বিচার বিভাগ। ওপরের দুটো নড়বড়ে হলে বাকিগুলোও নিঃসন্দেহে মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়ে যায়। গণতন্ত্রের ভিত যত শক্তিশালী হবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও নিঃসন্দেহে ততবেশি মজবুত রূপ ধারণ করবে। অপরদিকে গণতন্ত্র আক্রান্ত হলে সংবাদপত্রও আক্রান্ত হয়, সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাতির বিবেকখ্যাত আমাদের সাংবাদিকরাও আক্রান্ত হয়। তাদের জীবনযাত্রা চরম হুমকির মধ্যে পড়ে যায়। এটা স্রেফ সহজ-সরল পাটিগণিতের মতো পরিষ্কার ফুটে ওঠে। তাছাড়া এমনিতেও নানা সময়ে সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা খুব একটা কম হয় না। সংবাদ মাধ্যম কি শুধু সংবাদ পরিবেশন করবে নাকি পাশাপাশি জনমতও গঠন করবে-এটাও অনেকেই বুঝতে পারেন না। ফলে দেশ ও রাজনীতির স্বার্থে সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সবসময় থেকেই যায়। যে দেশের সরকার গণতান্ত্রিক সেই দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছাড়া রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে না। এটা একধরনের উন্নত সুগন্ধিযুক্ত বিউটি। রাষ্ট্রের পরতে পরতে সুগন্ধি যেমন ছড়িয়ে পড়ে, সৌন্দর্যের মাধুর্যও সর্বত্র সমানভাবে দৃশ্যত ফুটে ওঠে। রাষ্ট্রের আপামর জনসাধারণ সেই মাধুর্যের সুুধায় বিভোর হয়। উল্টোটা হলে ব্যত্যয় ঘটে। সেজন্য বাকস্বাধীনতা, মিছিল, মিটিংয়ের স্বাধীনতা ছাড়া জনগণের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার সংরক্ষিত হতে পারে না। বিশেষত যে দেশের জনগণ তাদের প্রয়োজনীয় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ও সাংবিধানিক অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, সেই দেশ আর যাই হোক সামনের দিকে ও উন্নত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারে না। যতটা এগোয় ঠিক ততটাই কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে আরো অনেকটা বেশি পেছনে পড়ে যায়। এ যেন অনেকটা বানরের তৈলাক্ত বাঁশ আরোহণের মতো। আশঙ্কার কথা হচ্ছে, সেই সব দেশে আগে উন্নয়ন ও পরে গণতন্ত্রের কথা বারবার বলা হয়ে থাকে এবং তথাকথিত গণতন্ত্রের মোড়কে স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবও ক্রমশ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। সর্বত্র দমন-নিপীড়ন ও নির্যাতন আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। আদতে সেসব দেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক অপরাপর প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্রমান্বয়ে ভেঙে পড়ে, আক্রান্ত হয় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও চরমভাবে ক্ষুণœ হয় রাষ্ট্রের জনগণের বাকস্বাধীনতা।
গণমাধ্যম আক্রান্ত হলে সবার আগে সাংবাদিকতার নামক মহান ও চ্যালেঞ্জিং পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমাদের সাংবাদিক ভাইদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাগ্রে সামনে চলে আসে। সাংবাদিকরা কোনো ভিনগ্রহের প্রাণী নয় বরং সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের সুনাগরিক এবং তাদের ওপর করারোপিত টাকা দিয়েও সরকারকে চলতে হয়। সুতরাং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবি-দাওয়া ও অধিকারগুলোও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সংরক্ষণ করার দায়িত্ব রাষ্ট্র বা সরকারের ওপর অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে বর্তায়। কিন্তু রাষ্ট্র যদি উল্টো সাংবাদিকদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিপরীতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, (যেটা অতীতের সরকারগুলোও করেছে) তখন বিষয়টি নিশ্চয়ই গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করে বৈকি। সম্প্রতি চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনে ও দেশব্যাপী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে সাংবাদিক সমাজের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নের বিষয়টি আবারো প্রকাশ্য দিবালোকের ন্যায় স্পষ্টতর হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে প্রতীয়মান হয়েছে আমাদের সাংবাদিকরা সমাজে আজও কতটা নির্যাতনের খড়গ মাথায় নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় প্রতিটি মুহূর্ত দিনাতিপাত করছে। এই সুবিশাল অঙ্গনের মানুষগুলো কীভাবে চলছে, কীভাবে জীবনযাপন করছে, কর্মক্ষেত্রে জীবনবাজি রেখে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কীভাবে পালন করে যাচ্ছে-আমরা কেউ কি একবারো ভেবে দেখেছি? সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, হয়রানি ও আক্রমণের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। কখনো কখনো অপরাধীরা একজোট হয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হচ্ছে। একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যার বিচার না হওয়ায় বেড়েই চলছে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা। চাঞ্চল্যকর সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আমাদের স্মৃতিতে আজও দগদগে ক্ষত সৃষ্টি করে রেখেছে। অপরাধীরা নির্বিঘেœ অপরাধ করে যাচ্ছে। অপরাধী চক্রের মতো যেন পিছিয়ে নেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দায়িত্ব যাদের হাতে অর্পিত সেই পুলিশও একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। চলমান রাজনৈতিক সংঘাত, আন্দোলন, হরতাল, অবরোধে কিংবা প্রাকৃতিক বিভিন্ন দুর্যোগে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে তারা যেভাবে ভেতরের চ্যালেঞ্জিং খবরগুলো একে একে তুলে আনছে, তারপর অনেক প্রক্রিয়ায় আতশি কাঁচের ভেতর দিয়ে সেই খবরগুলো দিনশেষে আমাদের পাঠকের হাতে এসে পৌঁছে দিচ্ছে, তা রীতিমতো বিস্ময়ের ব্যাপার অথচ আমরা একবারও পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করার চেষ্টা করি না। এটা ঠিক যে, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন ও জীবন বিপন্ন করার প্রয়াস আধুনিক তৃতীয় বিশ্বের জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। আমাদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাও আজকের এইদিনে নতুন কোনো বিষয় নয় বরং যুগ যুগ ধরে প্রতিটি সরকারের আমলেই সাংবাদিকদের ওপর অত্যাচার-অবিচার, হত্যা ও নির্যাতনের খড়গ নেমে এসেছে। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বারবার বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি ঘটনার পরম্পরাগুলো একের পর এক চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে এসেছে অথচ ইতিহাস একটু পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিটি সরকারই নিজেদের মিডিয়াবান্ধব বলে দাবি করে আসছে। এই পরিচয় দিতে তারা একটুও পিছপা হয়নি বরং এতে গর্ববোধ ও চরম পুলক অনুভব করছে অথচ একটা পর্যায়ে এসে ঠিকই থলের বিড়ালটা টুপ করে বেরিয়ে পড়েছে এবং তাদের আসল স্বরূপ উšে§াচিত হয়েছে। এক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে, গত দেড় দশকে বাংলাদেশে সাংবাদিক নিহত হয়েছেন ২৩ জন। এর মধ্যে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে নিহতের সংখ্যা ১৪ জন, আহত হয়েছেন ৫৬১ জন সাংবাদিক। ২০০৭ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে নয় বছরে খুন হন নয় সাংবাদিক।’ আসকের আরেক পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৬ সালে ১১৭ সাংবাদিক হামলা, হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নির্যাতিতদের মধ্যে সন্ত্রাসী হামলা-হুমকির শিকার ৩৭ জন, ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ-সংগঠনের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন ২১, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নির্যাতিত ৯ এবং মামলার শিকার হয়েছে ২০ জন। ২০১৭ সালে ১২২ সাংবাদিক নির্যাতিত হয়েছে এবং একজন মৃত্যুর শিকার হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, মত প্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আইসিটি আইনের বিতর্কিত ৫৭ ধারা বাতিলের দাবিতে গণমাধ্যম কর্মীরা সোচ্চার থাকলেও এর অপপ্রয়োগ অব্যাহত ছিল। ৫৪ সাংবাদিক লেখকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুধু দেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী সাংবাদকিতার পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নির্যাতন নিপীড়ন আশঙ্কাজনকহারে বেড়েই চলেছে। ইউনেস্কো জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীর বিচার হয় না। ২০১৭ সালে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক প্রতিবেদনে এই দাবি করেছে ইউনেস্কো। সংস্থাটি সাংবাদিক হত্যায় দায়মুক্তি বাতিল ও সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইউনেস্কো আরো জানিয়েছে, ২০০৬ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৯৩০ সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ২০১৬ সালেই ১০২ সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। ২০১৬ সালে নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে ৯৪ শতাংশ ছিলেন স্থানীয় সাংবাদিক। ২০১৭ সালে এসে অনেক বেড়েছে। আর এসব হত্যাকাণ্ডের অর্ধেক সংঘটিত হয়েছে এমন সব দেশে যেখানে সশস্ত্র সংঘাত চলছে না। (সূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা, ইউনেস্কো।)
এই কথা অনস্বীকার্য যে, আইনের চোখে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকই সমান। সুতরাং এক্ষেত্রে সাংবাদিকরাও কোনো অবস্থাতেই আইনের ঊর্ধ্বে নয় বরং অন্য সবার মতো সাংবাদিকদেরও রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ও অনেক যতœবান হতে হয়। কেউ কোনো অপরাধ করলে কিংবা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আড়ালে অপসাংবাদিকতার চর্চা কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মতৎপরতায় লিপ্ত হলে নিশ্চয়ই রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনে তার বিচার হওয়াটা অযৌক্তিক কিছু নয় বরং আইনের শাসনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বিচার হওয়াটাই উচিত ও যুক্তিযুক্ত। বোধকরি এতে সাংবাদিক সমাজেরও কারোর কোনো উচ্চবাচ্য বা মাথাব্যথা থাকারও কথা নয়। কিন্তু বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক যখন রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা সরাসরি আক্রান্ত হয় কিংবা বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ড বা নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হয় তখন সেটা গোটা রাষ্ট্রের জন্য অশনি সংকেত বললে খুব একটা অত্যুক্তি হবে না। ফলে গোটা সাংবাদিক সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগের ছাপ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিও প্রকট রূপ ধারণ করে। সাংবাদিকরা দেশে যখন যে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকবে, তাদের ভালো কাজকে দক্ষতার সঙ্গে গণমাধ্যমের সাহায্যে দেশের জনগণের উদ্দেশে তুলে ধরবে, আবার একই সঙ্গে সরকারের মন্দ কার্যেরও গঠনমূলক সমালোচনা করবে। এতে সরকার সঠিক পথে চলার একটা যৌক্তিক ধারণা পাবে। গণতন্ত্রে যে কোনো প্রকারের মতো-ভিন্নমত ও বহুমতের প্রকাশ থাকবে-এটাই হলো গণতন্ত্রের প্রকৃত সৌর্ন্দয। হ্যাঁ আগেও বলেছি, কেউ যদি স্রেফ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে গভীর ষড়যন্ত্র ও নীলনকশার অংশ হিসেবে সাংবাদিকতার রীতিনীতির পরিপন্থী হলুদ সাংবাদিকতার আড়ালে কিছু করতে যায়, সেটা নিশ্চয়ই ভিন্ন কথা। তার জন্য নিশ্চয়ই দেশের আইন, আদালত ও বিচারিক ব্যবস্থা আছে। কিন্তু এর বাইরে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিঘিœত করা কিংবা তাদের ওপর নির্যাতন নিপীড়ন করা মোটেও কদাচিৎ কাম্য হতে পারে না। যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভিন্নপথে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিঘিœত করছে, সরকারের উচিত তাদেরও ইতোমধ্যে আইনের আওতায় এনে ন্যায্য বিচার করা। অন্যথায় রাষ্ট্রে আইনের শাসন মুহুর্মুহু মুখ থুবড়ে পড়বে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে। যা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য কোনোদিন কল্যাণ বয়ে আনবে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি সরকারের দূরদর্শিতা ও প্রাজ্ঞতার পরিচয় পাওয়া যায়- গণমাধ্যমের অব্যাহত স্বাধীনতা ও সাংবাদিক সমাজের নিরাপত্তা সাধনের মাধ্যমে। ইতিহাস বলে এর ব্যত্যয় যখনই ঘটেছে রাষ্ট্রকে বরাবরই প্রতি পদে পদে হোঁচট খেতে হয়েছে। পরিশেষে বলব, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজের নিরাপত্তা সাধনে গৃহীত পদক্ষেপ নিতে আমাদের সরকারগুলোকে অবশ্যই আরো আন্তরিক ও সদিচ্ছার পরিচয় দিতে হবে। পাশাপাশি প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। স্মরণ রাখতে হবে, গোটা সাংবাদিক সমাজ কখনো সরকার বা রাষ্ট্রের প্রতিযোগী নয় বরং সহযোগী বন্ধুর মতো। উভয়ের আন্তরিকতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিশ্চিতভাবে রাষ্ট্র সুখ, সমৃদ্ধি ও প্রাচুর্যের দিকে এগিয়ে যাবে।