স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ৯৪টি অস্ত্রসহ ৪৩ জন জলদস্যুর আত্মসমর্পণ

সকল কল্পনা-জল্পনা আর সন্দেহের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে কক্সবাজারের মহেশখালী-কুতুবদিয়া অঞ্চলের ৬ বাহিনীর ৪৩ জন জলদস্যু ও সন্ত্রাসী। এতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে ৯৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাত হাজার ৬৩৭ রাউন্ড গুলি জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বড় মহেশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণ করেন তারা।

র‌্যাব সূত্র জানায়, অপরাধজগত ত্যাগ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য দীর্ঘদিন যাবত কৌশলে অপরাধীদের উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছিল। পুলিশ ও র‌্যাব যৌথভাবে এই প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলো। তবে এরমধ্যে মধ্যস্থতা করছেন দু’টি বেসরকারি টেলিভিশনের দু’সাংবাদিক। এরই অংশ হিসেবে শনিবার ৬ বাহিনীর ৪৩ সন্ত্রাসী ও জলদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রধান অতিথি ছিলেন।

এছাড়াও মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল এবং পুলিশের আইজি, র‌্যাবের ডিজি বেনজির আহমদ, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, র‌্যাব-৭ এর কমান্ডার, কোস্টগার্ডের কমান্ডারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, মহেশখালী-কুতুবদিয়াকে জলদস্যু ও সন্ত্রাসমুক্ত করা হবে।সন্ত্রাসীদের যদি কেউ সহযোগিতা করে তাদেরও মুলোৎপাটন করা হবে। বর্তমানে কক্সবাজারে উন্নয়নের মহাজোয়ার চলছে, তাই এখানে কোনো জলদস্যু-সন্ত্রাসী থাকতে পারবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি জেনেছি এখানে বাহিনী-বাহিনী যুদ্ধ চলে। একটা বাহিনীকে ঘায়েল করতে আরেকটি বাহিনীর জন্ম দিচ্ছে। আমি কঠোরভাবে বলতে চাই, এখানে কোন বাহিনী থাকতে পারবে না।

এর আগে মন্ত্রী আত্মসমর্পণকারীদের হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, কক্সবাজারে ২৩ লাখ মানুষের বসতি। এদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মাদক ব্যবসায়, কিছু সংখ্যক ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত। এদের আমাদের দরকার নেই। এই কিছু সংখ্যক মানুষকে বিনাশ করে ফেললে দেশের কোনো ক্ষতি হবে না।

প্রসঙ্গত, অনুষ্ঠানে আনজু বাহিনীর ১০ জন ২৪টি অস্ত্র , রমিজ বাহিনীর দুই জন আটটি অস্ত্র , নুরুল আলম প্রকাশ কালাবদা বাহিনীর ছয় জন ২৩টি অস্ত্র , জালাল বাহিনীর ১৫ জন ২৯টি অস্ত্র, আইয়ুব বাহিনীর ৯ জন ৯টি অস্ত্র ও আলাউদ্দিন বাহিনীর একজন একটি অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

জমাকৃত অস্ত্রের মধ্যে- এসএমজি (বেলজিয়াম) একটি, রিভলবার একটি, দেশি পিস্তল দুইটি, দেশি-বিদেশি একনলা বন্দুক ৫২টি, দোনলা দুইটি, ওয়ান শুটারগান ১৯টি, থ্রি কোয়ার্টার গান ১৫টি এবং ২২ বোর রাইফেল রয়েছে দুইটি। এছাড়া জমা পড়েছে সাত হাজার ৬৩৭ রাউন্ড গুলি।

মানবকণ্ঠ/এম