‘স্বপ্ন যাদের রোবট নিয়ে কাজ করার’

‘স্বপ্ন যাদের রোবট নিয়ে কাজ করার’

সম্প্রতি জাপানের এডুকেশন টেকনোলজি কোম্পানি ভেনচুরাস লিমিটেডের আয়োজনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) নতুন ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কলেজ শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স প্রতিযোগিতা। দুইদিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় ঢাকার ১১টি কলেজের এক হাজারের মতো শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এই প্রতিযোগিতায় ১১টি কলেজ থেকে ৫ সদস্যের একটি করে দল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে নটর ডেম কলেজ। আর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ দ্বিতীয় এবং তৃতীয় হয়েছে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ। বিজয়ী দলের পাঁচ সদস্য এবং ভেনচুরাস লিমিটেডের সিইও ইউরিকো ইয়েদা সঙ্গে কথা বলে এই রোবটিক্স প্রতিযোগিতার সমগ্র আয়োজন নিয়ে থাকছে আজ বিশেষ আয়োজন।

প্রথমেই জেনে রাখা ভালো দেশে অনেক রোবটিক্স প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হলেও কলেজ পর্যায়ে এই প্রথম কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরনের বড় আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতার প্রথমদিনে রোবটিক্স বিষয়ে ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়।

‘স্বপ্ন যাদের রোবট নিয়ে কাজ করার’আর ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন ভিলিং গ্রুপের সিইও কাজাউকি নাকামুরা, টাফটস ইউনভার্সিটির সিসিইও অ্যাডভাইজরি মাসাও ইশিহারা এবং মনস্টার ল্যাব বাংলাদেশের সিইও কাজাউকি নাকাইয়ামা। ওয়ার্কশপে ক্যারিয়ার সেমিনার, প্যানেল ডিসকাশন এবং কোডিং সেশনের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও ওয়ার্কশপে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই ও ইইই বিভাগের প্রফেসররা উপস্থিত ছিলেন। যাদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা কোডিং এবং গেমিং অ্যাপ তৈরি সম্পর্কে হাতে কলমে শিখতে পেরেছেন। তাই এই প্রতিযোগিতাটি ছিল অন্যান্য প্রতিযোগিতা থেকে ব্যতিক্রম। আর এই আয়োজনে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও আইসিটি মন্ত্রণালয়।

কেন ঢাকায় এই ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ জানতে চাইলে ভেনচুরাস লিমিটেডের সিইও ইউরিকো ইয়েদা বলেন, ‘তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। এ ধরনের প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিষয়গুলোতে দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে।’

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মৌলিক বিষয়, সমস্যা সমাধান করার কৌশল এবং নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করার মাধ্যমে বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং ভিত্তিক চাকরিতে যোগদান করতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি করাই এই প্রতিযোগিতার প্রধান লক্ষ্য ছিল বলেও জানান তিনি। তবে এই রোবটিক্স প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের জন্য কতটা ফলপ্রসূ ছিল জানতে চাইলে বিজয়ী দলের শিক্ষার্থী নটর ডেম কলেজের ছাত্র মোহাম্মদ ইফতিখার আলম উমর বলেন, ‘আমি অনেক রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। তবে কলেজ পর্যায়ে লাইন ট্রেসিং বিষয়ে এই প্রথম রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। আর এই রোবটিক্স বিষয়ে আমার পরিবার আমাকে সব সময় সাহায্য করেছে’। স্কুল থেকেই এই রোবটিক্স বিষয়ে ইফতিখার আলম উমরের আগ্রহ ছিল বলে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘স্কুলে পড়ার সময়ই ইউটিউব ও ইন্টারনেটে রোবটিক্স বিষয়ে জেনেছি এবং কিছু করার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও স্নাতক পর্যায়ে যখন কোনো ডিগ্রি নেব তখন রোবটিক্স বিষয়টিতে প্রাধান্য থাকবে।’

বিজয়ী দলের অন্য সদস্য অর্ঘ্য রায়ও এর আগে রোবটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের সাইন্স ফেস্ট।

তিনি বলেন, ‘রোবটিক্স বিষয়ে তিনি আরো অনেক দূর যেতে চান। প্রতিনিয়ত ইন্টারনেট ও বিভিন্নভাবে শেখার চেষ্টা করছেন এবং সামনে এই ধরনের আরো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন। পাঁচজনের এই বিজয়ী দলের বাকি তিন সদস্য আল মুবিন খান নাবিল, স্মরণ দেবনাথ ও আল ইমরানও রোবটিক্স নিয়ে সামনে আরো এগিয়ে যেতে চান। তারা এই গ্রুপের বাকি সদস্যদের নিয়ে রোবটিক্স নিয়ে একই সঙ্গে আরো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চান বলেও জানান।

‘স্বপ্ন যাদের রোবট নিয়ে কাজ করার’

রোবটিক্স প্রতিযোগিতা নিয়ে ভেনচুরাস লিমিটেডের সিইও ইউরিকো ইয়েদা আরো বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাংলাদেশের এইচএসসি পাস শিক্ষার্থীদের জন্য ভেঞ্চুরাস লিমিটেডের একটি প্রোজেক্ট চালু রয়েছে। আমাদের ‘ক্যাম্পাস বিডি ডট নেট’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মান যাচাই করে সেগুলোতে আবেদন করতে পারবে। প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশি কলেজ শিক্ষার্থী ভেঞ্চুরাস লিমিটেডের এই প্রোজেক্টটি ব্যবহার করছে এবং বাংলাদেশের ২০০টিরও বেশি কলেজ এই প্রোজেক্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তাদের সঙ্গে আমাদের এই সম্পর্কের যথাযথ ব্যবহারের জন্য এবার কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি।’

শিগগিরই জেলা পর্যায়ে এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে বলে জানিয়ে ইউরিকো ইয়েদা বলেন, ‘ঢাকাতে নিয়মিত এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী। দেশকে তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধশালী করে তুলতে নিয়মিত এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।’

মানবকণ্ঠ/এসএস