স্বপ্নে বিভোর থ্রি লায়ন্সরা : ক্রোয়েশিয়ার সামনে ইতিহাসের হাতছানি

একটি মাত্র জয়। পেলেই ইতিহাস গড়বে ক্রোয়েশিয়া। প্রথমবারের মতো খেলবে ফুটবলের মেগা ইভেন্ট বিশ্বকাপের ফাইনাল। একটি জয়ের অপেক্ষায় ইংল্যান্ডও। তাতে ঘুচবে ৫২ বছর প্রতীক্ষার অবসান। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো টিকিট পাবে ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার। তাই স্বপ্নের ফাইনাল খেলার আশায় বুক বেঁধেছে দু’দলই। কিন্তু আজ রাশিয়ার লুজনিকি স্টেডিয়ামে চার বছরের জন্য ওই স্বপ্ন থমকে যাবে যে কোনো এক দলের। কেননা, মস্কোর মাঠে চলমান বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আজ মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়া এবং ইংল্যান্ড।

১৯৯০ সালে সবশেষ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছে ইংল্যান্ড। ফিফার ওই আসরের শেষ চারের ম্যাচে থ্রি লায়ন্সরা হেরেছিল জার্মানির কাছে। বাদ পড়েছিল টাইব্রেকারে পিছিয়ে থেকে। মজার বিষয় হলো, ইংলিশদের বর্তমান স্কোয়াডে থাকা ২৩ খেলোয়াড়ের ১৬ জনের জন্মই হয়নি ওই সময়। তবে গ্যারেথ সাউথগেটের তরুণ শিষ্যরাই রাশিয়ায় ঘুচাবে পুরনো সেই আক্ষেপ। প্রথমবারের মতো ফিফার সবচেয়ে বড় আসরে জয় পেয়েছে টাইব্রেকারে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ওই জয়ে কাঁদিয়েছে কলম্বিয়াকে। এরপর শেষ আটে সুইডিশদের হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপের শিরোপা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে পার করেছে আরেকটি ধাপ।

উঠেছে সেমিফাইনালে। তাই এবার ফাইনালে খেলার স্বপ্নে বিভোর ১৯৬৬ বিশ্বকাপ জয়ী ইংল্যান্ড। ইংলিশদের শিরোপা পুনরুদ্ধারের সেই স্বপ্ন দেখাচ্ছেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। নিজেও ছুটে চলেছেন গোল্ডেন বুট জয়ের প্রতিযোগিতায়। রাশিয়ায় খেলা পাঁচ ম্যাচে দশবার প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। ছয়টি গোলই এসেছে টটেনহাম হটস্পারের তারকা ফরোয়ার্ডের পা থেকে। রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা হ্যারি কেনকে ঘিরে তাই শিরোপায় চুমু খাওয়ার পায়তারা করছে সাউথগেটের দল। কিন্তু তার আগে তো ক্রোয়েশিয়া বাধা টপকাতে হবে ইংলিশদের!

বাধা তো বটেই! কখনো বিশ্বকাপের ফাইনালে না খেলা ক্রোয়েশিয়া কিন্তু এবার যেন-তেন দল নয়। জøাটকো ডালিচের শিষ্যরা রাশিয়ায় এখন পর্যন্ত অপরাজেয়। গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচে জিতে নিয়েছে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে। লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে উড়িয়ে দিয়েছিল ৩-০ ব্যবধানে। যদিও পরের দুই রাউন্ডের বাধা টপকাতে ঘাম ঝরাতে হয়েছিল লুকা মদ্রিচের দলকে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ডেনমার্কের বিপক্ষে টাইব্রেকারে (৩-২) জিতে পায় শেষ আটের টিকিট। কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক রাশিয়ার বিপক্ষেও ক্রোয়েশিয়ানরা রক্ষা পায় পেনাল্টি শুটআউটে (৪-৩)।

তাতে দলকে পিছিয়ে রাখছেন না ডালিচ। ক্রোয়েশিয়ার কোচের মতে, শক্তি জমিয়ে রেখেছে তার শিষ্যরা। তাই তো মাঠে নামার আগেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তিনি, ‘ইংল্যান্ডের জন্য আমাদের অনেক শক্তি রয়ে গেছে। আমরা থামতে চাই না। আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে খেলার চেষ্টা করব। আমাদের দুটো ম্যাচ খেলতেই হবে (সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল)। আমরা খুব বেশি উদ্দীপিত। আমরা আমাদের সবটা ঢেলে দিচ্ছি। এবার আরেকটি যুদ্ধ হতে চলেছে (ইংল্যান্ডের বিপক্ষে)। আমার বিশ্বাস, ফলাফল আমাদের পক্ষেই আসবে।’

ডালিচ নিজ দলকে পিছিয়ে না রাখলেও ইতিহাস কিন্তু কথা বলছে ইংল্যান্ডের পক্ষে। সবশেষ ২০০৪ সালে মেজর কোনো টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড এবং ক্রোয়েশিয়া। ওই ম্যাচে ইংল্যান্ড জয় পেয়েছিল ৪-২ গোলে। পরের চারবারের দেখায় অবশ্য সমানে সমান ছিল দুই দল। দুইবার করে জয়ের দেখা পেয়েছিল তারা। কিন্তু জয়ের ব্যবধানে ছিল বিস্তার ফারাক। ইংলিশরা ২-০ এবং ২-৩ গোলে হারলেও তাদের জয় ছিল বড়। ২০১০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে প্রথম দেখায় ৪-১ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা। পরেরবার ক্রোয়েশিয়ানদের বিধ্বস্ত করেছিল ৫-১ গোলে।

তবে এসব ইতিহাস প্রায় এক দশক আগের। লম্বা সময়ের বিরতিতে পাল্টে গেছে দুই দলের অবস্থান আর শক্তি। যারা আজ লুজনিকি স্টেডিয়ামে লড়বে ফিফার ২১তম বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে। বদলে যাওয়া কোনো দল পাবে স্বপ্নের ফাইনালের টিকিট? সেটা জানা যাবে ম্যাচ শেষেই।

মানবকণ্ঠ/আরএ

Leave a Reply

Your email address will not be published.