স্বপ্নের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

বিশ্বকাপ ইতিহাসে ক্রোয়েশিয়া অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল ১৯৯৮ সালে। ওই সময় ফ্রান্সে পর্দা উঠা ফিফার সবচেয়ে বড় আসরের সেমিফাইনালে থেমেছিল তারা। যদিও এরপর তিনটি বিশ্বকাপের আসরে দলটি ছিল অন্ধকারে আচ্ছন্ন। প্রতিবারই ছিটকে গেছে গ্রুপপর্ব থেকে। তবে ২০ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পাওয়া জ্লাটকো ডালিচের শিষ্যরা এবার আর পথ হারায়নি। বুধবার রাতে মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে উঠেছে স্বপ্নের ফাইনালে।

আগামী রোববার ফাইনালে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে লুজনিকিতে সেমির লড়াইয়ে ক্রোয়েশিয়ার শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। কিছু বুঝে উঠার আগে পঞ্চম মিনিটে গোল হজম করে বসে ক্রোয়েশিয়া। তাদের জালে বল জড়ান ইংলিশ ডিফেন্ডার ত্রিপিয়ের। নিজেদের ডি-বক্সের সামান্য বাইরে ডেলে আলীকে লুকা মদ্রিচ ফেলে দিলে ফ্রি-কিকের বাঁশি বাজান রেফারি। সেই শট নিতে এসে শুরুতেই সফলতার মুখ দেখেন ত্রিপিয়ের। দুর্দান্ত এক জোরালো শটে গোলরক্ষক সুবাসিচকে বোকা বানিয়ে ডান দিক দিয়ে বল জালে জড়ান (১-০) টটেনহাম হটস্পারের ফুটবলার।

লুজনিকিতে পিছিয়ে পড়া মদ্রিচরা প্রথমার্ধে আর ছন্দে ফিরতে পারেননি। ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়েছে হ্যারি কেনদের লম্বা পাসে গড়ে তোলা একের পর এক আক্রমণ ঠেকাতে। চতুর্দশ মিনিটে হজম করতে বসেছিল আরেক গোল। তবে ইংলিশ ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুইয়েরের হেড ডান পোস্ট ঘেঁষে চলে গেলে সেই যাত্রায় বেঁচে যায় ক্রোয়েশিয়া। এর চার মিনিট পর অফসাইডের ফাঁদে পড়ে ফাঁকায় বল পেয়েও বাজিমাত করতে পারেননি অধিনায়ক কেন। ২৪ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়া রাহিম স্টার্লিং শেষ পর্যন্ত পারেননি বল দখলে রাখতে।
৩১ মিনিটের মাথায় সেমির লড়াইয়ে প্রথমবারের মতো গুছানো আক্রমণে যায় ক্রোয়েশিয়ানরা। ডান দিক দিয়ে অসাধারণ এক পাসে ডি-বক্সে বল পাঠান রেবিচ। প্রথম দফায় দলকে পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি জন স্টোন্স। ফিরতি বল পেয়ে শট নিয়ে রেবিচ। তবে গোলের দেখা পাননি। তাকে হতাশ করেন পিকফোর্ড। এর দুই মিনিট আগে কেনের শট রুখে দেন সুবাসিচ। ফিরতি বলে টটেনহাম তারকার শট প্রতিহত হয় গোলপোস্টে লেগে। এতে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে।

দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। প্রথম ভাগে খুঁড়িয়ে চলা ক্রোয়েশিয়ানরা হয়ে উঠেন আক্রমণাত্মক। তাতে কোনঠাসা হয়ে পড়ে ইংলিশরা। যদিও ৫৫ মিনিটের মাথায় গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু হ্যারি কেন, জেসে লিনগার্ড এবং রাহিম স্টার্লিংয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা কর্নারের বিনিময়ে ভেস্তে দেন ভিদা। পরে ৬৪ মিনিটে গোল পেতে পেতেও পাওয়া হয়নি ক্রোয়েশিয়ার। দলপতির মদ্রিচের শট ফিরে আসে গোলপোস্টে আঘাত হেনে। ফিরতি বলে পেরিসিচের শট সহজেই গ্লাভবন্দি করেন পিকফোর্ড।

চার মিনিট পর আর দলের লিড আগলে রাখতে পারেননি ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ড। অবিশ্বাস্য এক পায়ের ছোঁয়ায় ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান পেরিসিচ। ডান দিক থেকে সিমে ভারসালজকোর ভাসিয়ে পাঠানো ক্রসকে গোলে পরিণত করেন ইন্টার মিলানের আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার (১-১)। এরপর আরো কয়েকটি আক্রমণ সানালেও এগিয়ে যাওয়া হয়নি তাদের। অন্যদিকে লিড হারিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে আর ফেরা সম্ভব হয়নি ইংলিশদের।

এতে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে স্কোরলাইন ১-১। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। প্রথম ১৫ মিনিটেও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে উঠে ম্যাচ। কিন্তু স্কোরলাইন থেকে যায় অপরিবর্তিত। তবে অতিরিক্ত সময়ের শেষ ভাগে বাজিমাত করেন মারিও মানজুকিচ। ১০৯ মিনিটের মাথায় পেরিসিচের পাঠানো বল জালে প্রেরণ করেন জুভেন্টাসের তারকা ফরোয়ার্ড মানজুকিচ। এরপর আর ম্যাচ ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড। তাতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার টিকিট হাতে পায় ক্রোয়েশিয়া। আর কান্নার সাগরে ডুবে গ্যারেথ সাউথগেটের শিষ্যরা।

মানবকণ্ঠ/এএএম

Leave a Reply

Your email address will not be published.