স্ট্যান্ট ব্যবসায়ীদের অঘোষিত ধর্মঘটে রোগীদের ভোগান্তি

রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটসহ দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে হৃদরোগীদের চিকিৎসায় স্ট্যান্ট (করোনারি রিং) অস্ত্রোপচার কার্যক্রম গতকাল বুধবার বন্ধ ছিল। তবে স্ট্যান্ট আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা করলে তারা আবার আজ থেকে স্ট্যান্ট সরবরাহ করবে বলে জানিয়েছে।
সম্প্রতি ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের এক সার্কুলারে স্ট্যান্টের মূল্য নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের প্রতিবাদে সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো অঘোষিত ধর্মঘট অর্থাৎ স্ট্যান্ট সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় স্ট্যান্ট লাগানোর জন্য অপেক্ষমাণ হৃদরোগীরা ফিরে গেছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আলী আহসান মানবকণ্ঠকে বলেন, একজন রোগীকে এনজিওগ্রাম করার আগে যোগাযোগ করলে আমদানিকারকদের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তারা স্ট্যান্ট সরবরাহ করতে পারবে না। তাদের মিটিং চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের পাঁচটি ক্যাথল্যাব অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) প্রতিদিন গড়ে ৩০টি স্ট্যান্ট লাগানো হলেও গতকাল বুধবার সকাল থেকে সিরিয়ালে থাকা রোগীদের স্ট্যান্ট না লাগিয়ে ওটি থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। হাসপাতালের একাধিক রোগী ও চিকিৎসক এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ), হার্ট ফাউন্ডেশনসহ আরো সরকারি হাসপাতালে স্ট্যান্ট লাগানো হবে এমন রোগীদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বুধবার সকালে ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিচালকদের জরুরি বৈঠক হয়েছে।
এ ব্যাপারে সংস্থাটির পরিচালক মো. রুহুল আমিন বলেন, এখন থেকে চূড়ান্ত দাম নির্ধারণের আগ পর্যন্ত সব সরকারি হাসপাতালে প্রস্তাবিত দামে স্ট্যান্ট বিক্রি করা হবে। তবে কেনার সময় অবশ্যই ক্রেতাকে দেখতে হবে স্টেন্টের প্যাকেটের গায়ে পণ্যের মূল্য এবং উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ রয়েছে কিনা। এসব তথ্য না থাকলে ওই স্ট্যান্ট কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, স্ট্যান্ট আমদানির জন্য বর্তমানে দেশে ২২টি কোম্পানির বৈধ অনুমোদন রয়েছে। এ কোম্পানিগুলো মোট ৪৭ ধরনের স্ট্যান্ট আমদানি করে।
তিনি জানান, এখন থেকে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সব স্ট্যান্ট সরবরাহকারী কোম্পানিকে তাদের কাছ থেকে মূল্য নির্ধারণ করে নিতে হবে। ১৭ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি স্ট্যান্টের মূল্য নির্ধারণ করবে। এখন থেকে প্রতিটি কোম্পানিকে আমদানিকৃত স্ট্যান্টের গায়ে ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিআর) রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পণ্যটির মূল্য ও এর মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ করতে হবে।
তিনি আরো জানান, দেশের চারটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হৃদরোগের অর্থাৎ করোনারি স্ট্যান্টের প্রস্তাবিত মূল্য ঔষধ প্রশাসন অধিদফতরে দাখিল করে। প্রস্তাবনা অনুসারে বেয়ার মেটাল ও ডিইএস স্ট্যান্টের মূল্য ২৫ হাজার ও ড্রাগ ইলিওটিং স্ট্যান্টের মূল্য ৫০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়। কোম্পানিগুলো হলো- কার্ডিয়াক কেয়ার, ভাসটেক লিমিটেড, মেডিগ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেড ও ওরিয়েন্টাল এক্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড।