স্টেথোস্কোপেই লুকিয়ে সংক্রমণের বড় ভয়!

স্টেথোস্কোপেই লুকিয়ে সংক্রমণের বড় ভয়!

সারা দিন নানা অসুখবিসুখ নিয়ে সচেতন করা থেকে শুরু করে নিয়ম মেনে চলতে বলা ডাক্তারবাবুদের কাছ থেকেই ছড়িয়ে পড়তে পারে অসুখের বীজ! ‘অ্যাসোসিয়েশন অব প্রফেশনালস ইন ইনফেকশন কন্ট্রোল অ্যান্ড এপিডেমিওলজির এক গবেষণায় উঠে এল এমনই চমকপ্রদ তথ্য।

চিকিত্সকের কাছে রোগ সারাতে গিয়ে সংক্রমণের ভয়ে আমরা অনেকেই অন্য রোগী, তাদের ব্যবহৃত জিনিস, চিকিত্সকের ক্লিনিকে ব্যবহৃত নানা সার্জারির জিনিসপত্র থেকে দূরত্ব বজায় রাখি। কিন্তু গবেষকদের দাবি, অন্য সব কিছুর চেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়ায় চিকিত্সকের ব্যবহৃত স্টেথোস্কোপটি!

গবেষণায় অংশ নেয়া ‘অ্যাসোসিয়েশন অব প্রফেশনালস ইন ইনফেকশন কন্ট্রোল অ্যান্ড এপিডেমিওলজির প্রেসিডেন্ট লিনডা গ্রিনির মতে, ‘বিভিন্ন রোগীর শরীরে নানা রকমের অসুখ থাকে। ক্লিনিক বা হাসপাতালে অন্য কিছু এড়িয়ে চললেও চিকিৎসার খাতিরেই স্টেথোস্কোপকে এড়াতে পারেন না কেউই। আর এখানেই সমস্যা বড় আকার ধারণ করছে। গোটা দুনিয়াতেই এই প্রবণতা আছে। তবে যে সব দেশে চিকিৎসকের অপ্রতুলতা, চিকিৎসকের হাতে সময় কম, সে সব দেশে এই প্রবণতা বেশি।’

সংক্রমিত রোগীর শরীরের সংস্পর্শে এলে সেই স্টেথো ফের ব্যবহারের আগে সচেতনতা প্রয়োজন। গবেষকদের মতে, স্টেথোস্কোপ থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি নতুন নয়, তবে এ নিয়ে কোনো সাবধানতাও সেভাবে নেয়া হয় না। হ্যান্ড স্যানিটাইজার জাতীয় জিনিস দিয়ে রোগীর শরীরে ঠেকানো স্টেথোর অংশটি পরিষ্কার করেন বেশির ভাগ চিকিৎসক। রাবারজাত অংশগুলোও খুলে গরম জলে ফোটান কেউ কেউ। কিন্তু দিনে একবার এমন পরিষ্কারে এই সংক্রমণ ঠেকানো যায় না।

আমাদের দেশে রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা কম। এক একটি ক্লিনিক বা হাসপাতালে যে পরিমাণ কাজের চাপ থাকে, তাতে আলাদা করে ব্যবহূত সব যন্ত্রপাতির দিকে খেয়াল রাখা সম্ভবও হয় না। এই নিয়ে চিকিৎসকরাও শঙ্কায় কম নেই।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামী যেমন মনে করেন, সব জিনিসের চেয়ে স্টেথোস্কোপ থেকে সংক্রমণ বেশি ছড়ায়, এই মত উড়িয়ে দেয়া যায় না। তবে যেহেতু স্টেথো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রোগীর শরীরের ওপর জামাকাপড় স্পর্শ করে, তাই সেই সংক্রমণ নিয়ে খুব বেশি ভাবেন না চিকিৎসকরা। জামা-কাপড়ে ছড়িয়ে থাকা নানা জীবাণু থেকেও অসুখের বীজ ছড়াতে পারে। কিন্তু এভাবে ভাবতে গেলে তো মানুষ মানুষকে স্পর্শ করলেও সংক্রমণ ছড়াবে এই মত নিয়ে ঘোরাফেরা করতে হবে। তা একপ্রকার অসম্ভব।

তা হলে কী কোনো উপায়ই নেই এ সমস্যায়?

সুবর্ণবাবুর মতে, তার পরেও বেশ কিছু সতর্কতা মেনে চলা উচিত চিকিৎসকদের। নইলে কেবল রোগী নয়, চিকিৎসকদের শরীরেও অসুখ ছড়ানোর সম্ভাবনা থেকেই যায়।

* সংক্রমিত কোনো রোগীকে দেখার পর চিকিৎসকদের উচিত স্টেথোস্কোপ হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ধুয়ে নেয়া।
* প্রতি দিন রোগী দেখার শেষে স্টেথোস্কোপের যত্ন নেয়া উচিত।
* দীর্ঘ দিন একই স্টেথোস্কোপ ব্যবহার না করলেই ভালো।
* হাসপাতালের আইসিইউ ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে কোনো রোগী দেখার পর স্টেথোস্কোপ সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করে নেয়া উচিত।
* বিদেশে এবং এ দেশেও বেশ কয়েক জন চিকিৎসক সঙ্গে কয়েকটি স্টেথো রাখেন। রোগী অনুযায়ী দু’তিনটি স্টেথোস্কোপ বদলে বদলে ব্যবহার করে থাকেন। এই অভ্যাস আয়ত্তে আনলে ভালো।
* স্টেথোস্কোপ পরিষ্কারের এই সংস্কৃতি মেনে চলতে পারলে তা সংক্রমণ প্রতিহত করবে বলেই আশাবাদী চিকিৎসক মহল। আনন্দবাজার।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.