স্কুলব্যাগ নয় শিক্ষা ডিজিটাল হোক

(পর্ব তিন)
বাংলাদেশের জন্য ডিজটাল স্কুল গড়ে তোলা একটি বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। আমরা লেখাপড়া করতেই শুরু করেছি মাত্র। আমাদের এখনো বড় চ্যালেঞ্জ শিশুদেরকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আনা এবং সেখানে ধরে রাখা। বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ঝরে পড়ায় শিক্ষার সম্প্রসারণই কঠিনতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন যদি আবার সেই শিক্ষাকে ডিজিটাল করতে হয় তবে তার অবস্থা কি হবে সেটি পূর্বধলার আরবান একাডেমি থেকে শুনতে পারি।

ঘ) ডিজিটাল স্কুল পরিচালনার চ্যালেঞ্জসমূহ: দীর্ঘদিন ধরে বই-খাতানির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন বাস্তবিক পক্ষেই কষ্টসাধ্য। আরবান একাডেমি একেবারেই বেসরকারি উদ্যোগে প্রথম শ্রেণীতে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্লাস পরিচালনার অভিজ্ঞতার আলোকে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে তা নি¤েœ উপস্থাপন করা হলো। ১) সার্বিক কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন ব্যয়বহুল। ২) ডিজিটাল ক্লাস উপযোগী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের সংকট। ৩) ডিজিটাল শিক্ষা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন না থাকা সমস্যার তৈরি করে। ৪) নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা না থাকায় উপকরণ ব্যবহারে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ৫) প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমে অভিভাবক পর্যায়ে সঠিক ধারণার অস্পষ্টতা রয়েছে। ৬) শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সব মহলে স্বচ্ছ ধারণা ও দক্ষতার অভাব আছে। ৭) উপকরণ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। ৮) শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবান্ধব প্রয়োজনীয় কনটেন্টের অপর্যাপ্ততা রয়েছে। ৯) শিক্ষার্থীদের পারিবারিক পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যথাযথ সহযোগিতা করা হয় না। ১০) ডিজিটাল ক্লাস বাস্তবায়নে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অপর্যাপ্ততা রয়েছে। ১১) সার্বিক বিবেচনায় ডিজিটাল ক্লাসবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশ গড়ে ওঠেনি। ১২) প্রাথমিক শিক্ষায় তেমনভাবে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত না থাকায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ কম।

আরবান একাডেমির মূল্যায়নটি যথাযথ। তারা যেসব চ্যালেঞ্জগুলোর কথা বলেছে তার প্রতিটি বর্ণে বর্ণে সত্য। তাদের পর্যবেক্ষণ বাস্তবসম্মত এজন্য যে তারা একেবারে তৃণমূল থেকে চ্যালেঞ্জগুলোকে দেখেছে। শহরে হয়তো এইসব চ্যালেঞ্জের সবগুলো পাওয়া যাবে না। তবে কমবেশি এমন চ্যালেঞ্জ আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকেই মোকাবেলা করতে হবে।

আরবান একাডেমির মূল্যায়ন পত্রে তারা অনেকটা আশাবাদের কথাও বলেছে। তাদের মতে, ‘তবে এই কথাটি মনে রাখা দরকার যে, বিশ্বায়নের বর্তমান এই সময়ে প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা বাস্তবায়নে ডিজিটাল ক্লাস পরিচালনা বাস্তবিক পক্ষেই সময় উপযোগী। দেশে সর্বক্ষেত্রে ডিজিটাল সেবার যে প্রসার ও অগ্রগতি তা শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রেও অতিব গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অবকাঠামোগত সুবিধা ও অন্যান্য প্রস্তুতি বিবেচনায় ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে সঠিক পথে অগ্রসর হয়ে আরবান একাডেমি কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রথম শ্রেণীর পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ক্লাসরুম শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় এটা নিঃসন্দেহে এক নবদিগন্তের সূচনা করবে।’

পূর্বধলার এই স্কুলটি তাদের ডিজিটাল ডিভাইস কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত করেছে। ১৭ সালে তাদের বিদ্যমান ট্যাবগুলোর সঙ্গে আরো ১৫টি নতুন ট্যাব যোগ করেছে। আর্থিক দৈন্যের জন্য তারা একটি ট্যাবে কখনো কখনো ২ জন শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া করাচ্ছে।

পূর্বধলার এই অভিজ্ঞতার আরো প্রতিফলন ঘটানো হচ্ছে। চট্টগ্রামের ন্যাশনাল প্রাইমারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ১০০ শিশুর হাতেও ট্যাব দেয়া হয়েছে। রবির সৌজন্যে দেয়া এই ট্যাবগুলো ক্লাসরুমকে বদলে দিয়েছে। শুরুতে শিক্ষকরা এর মাধ্যমে তেমন কোনো ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। ’১৭ সালে এসে তারা বেশ গুরুত্ব দিয়েই ট্যাব ব্যবহার করা শুরু করেছে। টেলিফোন শিল্প সংস্থার স্বদেশ ট্যাব দিয়ে গড়ে তোলা এই ক্লাসরুমটির অবস্থা এতো ভালো যে এক বছর পরও তাদের কোনো ট্যাব নষ্ট হয়নি।

২০১৭ সালে দেশব্যাপী আরো একটি বিপ্লব ঘটেছে। বিজয়-নেটিজেনের যৌথ উদ্যোগে এই বছরে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা-উপজেলা-বিভাগ পর্যায়ে হাজার হাজার স্কুলে ডিজিটাল কনটেন্ট উপস্থাপন করা হয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল উপাত্তের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সব স্তরেই এই ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি শিক্ষার্থী ও স্কুল কর্তৃপক্ষের ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর॥ আমাদের মতো আর্থ সামাজিক অবস্থার দেশ ভারতও শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরে ব্যাপকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারতের একটি স্কুলের ডিজিটাল রূপান্তরের বিবরণ এরকম: When Mrinalini Kaura, the principal of Venkateshwar International School (VIS) in Dwarka, New Delhi, heard of this concept, she did not think twice before digitising 45 classrooms. Barely a few months into revamping the classrooms, Kaura was so impressed with the results that she plans to implement it in the remaining 23 classes of her school.

Kaura says she sees digital classrooms as the way ahead for all schools because it makes both teaching and learning simple: Better assessment system, real-time paper evaluation and abstract concepts made easy to understand. (http://www.business-standard.com/article/technology/digital-classrooms-the-future-of-young-india-111022100079_1.html)

 

বিষয়টি ভারত সরকারকে এতটাই আলোড়িত করেছে যে তারা একটি ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ÔThe market has evolved with the Central governmentÕs move to fund Sarva Siksha Abhiyaan for ICTÑSchools programme with a Rs 15 lakh per district per year budget. Under the governmentÕs Technology in Education Initiative, out of a total 10,00,000 schools in the country, the programme will cover 6,42,600 schools at the primary, upper primary and secondary levels.

Every school will have a server, five PCs, printer and internet connectivity. State governments will outsource installation and maintenance of hardware, content and training to a private party. The information and communication technology (ICT) business is tender-based. It functions under the build/own/operate/transfer model.

ভারতের এই মহাযজ্ঞটি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। ডিজিটাইজেশনের এমন আরো দৃষ্টান্ত আশপাশের সব দেশেই পাওয়া যেতে পারে। আমাদের হয়তো দেখার বিষয় হতে পারে যে, বাংলাদেশ সরকার কি এমন কিছু করছে? যদিও প্রকৃত তথ্য আমাদের হাতের নাগালে নেই তবুও এটি আমরা জানি যে সরকার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম গড়ে তুলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল কম্পিউটার ও ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব গড়ে তোলা হচ্ছে। সংখ্যায় এর পরিমাণ একদমই নগণ্য হলেও সরকারের মাঝে যে এমন একটি বোধশক্তি গড়ে ওঠছে সেটি প্রশংসার। তবে আমার নিজের ধারণায় সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকাটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য উদ্যোগ নিতে পারে।

কিভাবে শুরু করবেন: শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের এই স্তরটি তিনটি ভাগে বিভক্ত। প্রথমটি হলো শিক্ষার ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করা। বাংলাদেশের নেটিজেন নামক একটি প্রতিষ্ঠান তাদের এডুম্যান নামক একটি সফটওয়্যার দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনার ডিজিটাল রূপান্তরের কাজটা করছে। আরো অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষা ব্যবস্থাপনার জন্য কাজ করছে। তবে এডুম্যানের অবস্থাটি তুলনামূলকভাবে ভালো। কারণ তারা তৃণমূল পর্যায়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই তারা হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় এনেছে। শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের দ্বিতীয় কাজটি হচ্ছে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করা। বিজয় ডিজিটাল এই কনটেন্ট তৈরির কাজটি করছে ২০০৯ সাল থেকে। তারা তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেছে। অন্য কেউ এই কাজটি না করার ডিজিটাল কনটেন্টের পরিধি সীমিতই থেকে গেছে হাইস্কুল বা অন্যান্য স্তরে এটুআইয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা নিজেরা কনটেন্ট তৈরি করে তাদের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছে।

শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা করা। বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করলেও আমাদের দেশে তেমন কোনো কাজ এখনো হয়নি।

আরবান একাডেমির প্রতিবেদন থেকে আরো যেসব বিষয় জানা গেছে তার মাঝে প্রধানতম একটি বিষয় হলো শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণ। এটি নিয়ে সরকার কাজ করছে। তবে যে আয়তনের শিক্ষাব্যবস্থা তার তুলনায় প্রশিক্ষণের পরিধিটা খুবই ছোট বলে সামগ্রিকভাবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এর কোনো প্রভাব পড়ছে না।

আমরা সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০টি স্কুলের ৬ হাজার ছাত্রছাত্রীকে ট্যাব দিয়ে ডিজিটাল কনটেন্টে পড়ানোর একটি পাইলট প্রকল্প সরকারের কাছে পেশ করেছিলাম। সম্প্রতি প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়েছে। ১৭-১৮ অর্থবছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। অন্যদিকে ২০১৭ সালে আরো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাগজবিহীন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুলগুলোতে ট্যাব দিয়ে শিক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। এমন হতে পারে যে একদিন বাংলাদেশের কোন শিক্ষার্থীই স্কুলব্যাগটা বহন করবে না। তার সব লেখাপড়া ডিজিটাল পদ্ধতিতেই হতে পারে।

যারা এই বিষয়ে আগ্রহী তারা কেমন করে শুরু করতে পারেন সেটি বলা যেতে পারে। প্রথমত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের ক্লাসরুমকে ডিজিটাল করুন। একটি বড় পর্দার মনিটর ও একটি ল্যাপটপ দিয়ে যাত্রা শুরু করুন। পূর্বধলায় ৪০ জন ছাত্রের জন্য ৪০ ইঞ্চি মনিটর যথেষ্ট মনে হয়েছে। কোর আই ৩ মানের ল্যাপটপ এজন্য যথেষ্ট হতে পারে। এর বিকল্প হিসেবে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর ও পর্দা বা ল্যাপটপ ও ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া বোর্ড ব্যবহার করা যায়। কেবল মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম হলেই হবে না, শিক্ষক প্রশিক্ষণটিকে গুরুত্ব দিন। যারা সাধারণভাবে বই দিয়ে ক্লাস করান তাদের মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করতে শেখান। সব শিক্ষক-শিক্ষিকাকে যে এ জন্য প্রস্তুত করতে পারবেন সেটি মনে হয় না। এজন্য আপনি অপেক্ষাকৃত তরুণদের বাছাই করতে পারেন। যদিও মূল পাঠ্য বইয়ের ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য আপনাকে বিজয় ডিজিটালের মতো পেশাদারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নিতে হবে তথাপি আপনার শিক্ষক শিক্ষিকারা পাঠ্য বইয়ের বাইরের কনটেন্ট তৈরিতে দারুণভাবে সফল হতে পারে। একটা সময় আসবে যখন আপনি ক্লাসরুম ব্যবস্থাপনার জন্য সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারবেন। এটি একটি ভালো উপায় যে পুরো লেখাপড়াটা যদি আপনি অনলাইন বা ইন্টটারনেটভিত্তিক করতে পারেন। বাংলাদেশের বিদ্যমান ইন্টারনেট ব্যবস্থা অনলাইন শিক্ষার উপযোগী নয় বলে আপাতত অফলাইন ক্লাসরুমের কথাই ভাবুন। তবে সময় হয়তো বেশি লাগবে না যখন আপনি পুরো লেখাপড়াটা ইন্টারনেটভিত্তিক করে ফেলতে পারবেন। আপনি তখন একটি সার্ভারও নিতে পারেন এবং এই সার্ভারে সব ক্লাসরুম-শিক্ষক-শিক্ষকা, ছাত্রছাত্রী-অভিভাবকদের যুক্ত করে নিতে পারেন। স্কুলটি পুরোটাই একটা ওয়াইফাই জোন হতে পারে।

স্কুলের নিরাপত্তার কথা ভেবে পুরো স্কুলকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় রাখতে পারেন। এর ফলে কেবল যে নিরাপত্তাই বিধান হবে তা নয়Ñ লেখাপড়াসহ স্কুলের সব কর্মকাণ্ডকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। ইন্টারনেটভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুললে সেটিকে দূরে থেকে বা ছুটির সময়ও মনিটর করা যাবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতির বিষয়টিও ডিজিটাল করা যেতে পারে। কার্ড বা ফিঙ্গারপ্রিন্টভিত্তিক উপস্থিতির ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা গড়ে তোলা যাবে।

শিক্ষার্থীদের হাতে ডিজিটাল যন্ত্র তুলে দেয়াটাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি মনে করি ছাত্রছাত্রীরা একটি উইন্ডোজ বেজড ট্যাব দিয়ে তাদের সেই চাহিদা পূরণ করতে পারে। স্মার্ট ফোনও তাদের কাজে লাগতে পারে। তবে স্মার্টফোনে দুটি অসুবিধা রয়েছে। প্রথমত এর পর্দাটি ছোট এবং দ্বিতীয়ত অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে কম্পিউটারের পাঠ্য বিষয়গুলো অনুশীলন করা যায় না। শেষ কথাটি হলো কেবল ডিজিটাল যন্ত্রপাতি নয় ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার প্রাণ হচ্ছে সফটওয়্যার। ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার, ডিজিটাল কনটেন্ট ও ক্লাসরুম ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার এবং ইন্টারনেটের কথা মাথায় রাখতেই হবে। তবে আমি এই কথাটি দ্বিধাহীনভাবে বলতে পারি যে, শিক্ষাকে ডিজিটাল করা এবং স্কুল ব্যাগটাকে বিদায় করার কাজটা যত তাড়াতাড়ি করা যায় আমাদের জন্য সেটা ততই মঙ্গল। (সমাপ্ত)
লেখক: তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট
mustafajabbar@gmail.com

মানবকণ্ঠ/এসএস