সোয়া ৩ কিমি মহাসড়ক নির্মাণে ব্যয় ৪৪৪ কোটি টাকা!

মহাসড়ক নির্মাণ করা হবে সোয়া তিন কিলোমিটার। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৪ কোটি টাকারও বেশি। সরকারি অর্থে ২০২০ সালের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটি নির্মাণ করা হবে। এর অনুমোদনের জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এটি যেনতেন কোনো প্রকল্প নয়। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ এলাকার ‘রাজউক পূর্বাচল ৩০০ ফুট মহাসড়ক হতে মাদানী এভিনিউ-সিলেট মহাসড়ক পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্প।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। তা যাচাই-বাছাই করতে সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরিকল্পনা কমিশন থেকেই আপত্তি করে বলা হয়েছে- ৩ দশমিক ২৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য ৪৪৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। যা অত্যধিক বলে প্রতীয়মান। তাই এ ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনতে হবে। এছাড়া অন্যান্য অঙ্গেও ব্যয় অযৌক্তিকভাবে ধরায় তা সংশোধন করা প্রয়োজন বলে সভা সূত্র জানায়।

সার্বিক ব্যাপারে জানতে চাইলে বুয়েটের যোগাযোগ বিষেশজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক মানবকণ্ঠকে বলেন, আমাদের দেশে যে কোনো প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের কারণে ব্যয় বেশি হয়। এটাও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই সঠিকভাবে ব্যয় প্রক্কলন করতে হবে প্রকল্প অনুমোদনের আগে। নির্মাণ খরচের ব্যয়ই মুখ্য। তাই প্রাক্কলনে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ বিশ্বে যে কোনো দেশের তুলনায় আমাদের দেশে রাস্তায় প্রকল্প ব্যয় বেশি। নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় এটা কৌশলে সংশ্লিষ্টরা করে থাকেন। তা সঠিক না বলে জানান তিনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, বিদ্যমান পূর্বাচল ৩০০ ফুট মহাসড়কের সঙ্গে গুলশান-মাদানী এভিনিউ সিলেট মহাসড়কের সংযোগ স্থাপন করে ঢাকা শহরের যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ কমানোর উদ্যোগগ্রহণ করা হয়। তথা ঢাকা শহরের কাছের অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নীতকরণ। ঢাকা উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের দ্রুত শিল্পায়ন ঘটা। এক কথায় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্তমান সরকারের ভিশন-২১ টেকসই মহাসড়ক ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা।

একাধিক সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত রাজউক পূর্বাচল ৩০০ ফুট মহাসড়ক (কুড়িল হতে কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত) এবং রাজউকের নির্মিতব্য মাদানী এভিনিউকে সংযোগ করবে। এছাড়া ঢাকা শহর বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল মেগাসিটি যেমন পূর্বাচল নতুন শহর, জলসিঁড়ি আবাসনসহ অন্যান্য আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে। তাই এ এলাকার সঙ্গে মাদানী এভিনিউর সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গুলশান বা সিলেট মহাসড়কে গমন করতে প্রস্তাবিত এ মহাসড়ক দিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ে যাওয়া যাবে। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে রাজউক পূর্বাচল থেকে মাদানী এভিনিউ পর্যন্ত ৩ দশমিক ২৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব করেছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে।

প্রকল্পের প্রধান প্রধান কাজ ধরা হয়েছে ৪৩ দশমিক ৯১ একর ভূমি অধিগ্রহণ। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। ২ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৪ ঘনমিটার মাটির কাজ করা হবে। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। ৩ দশমিক ২৫ কিলোমিটার করে পেভমেন্ট ও সার্ফেসিং নির্মাণ করতে হবে। এ দুই কাজে ৬৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ২২৫ মিটার সেতু নির্মাণ করা হবে। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা। এছাড়া ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯ কোটি টাকা। এসব কাজে পরামর্শকের জন্য এক কোটি টাকা এবং অফিস বিল্ডিং নির্মাণেও এক কোটি টাকা থোক ব্যয় ধরা হয়েছে। সব মিলে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। তা ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালে বাস্তবায়ন করা হবে।

সূত্র আরো জানায়, এসব যাচাই-বাছাই করতে পরিকল্পনা কমিশনে ৫ জুন পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বলা হয় ৩ দশমিক ২৫ কিলোমিটার সহাসড়ক নির্মাণে যে ৪৪৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে তা অত্যধিক বলে প্রতীয়মান। তাই এ ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে হবে। এছাড়া এ ব্যয় সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের রেট সিডিউল অনযায়ী করা হয়েছে কিনা তা দেখতে হবে। সভায় আরো বলা হয়, প্রতি মিটার ব্রিজ নির্মাণে ব্যয় যে ৮৪ কোটি ধরা হয়েছে, তা সংশোধন করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, পিইসি সভায় যে সব ব্যাপারে আপত্তি করা হয়েছে তা সংশোধন করে পরিকল্পনা কমিশনে আবার প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব-ডিপিপি পাঠাতে হবে। তা পাওয়া গেলে পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদনসহ অন্যান্য কাজ শেষ করে খুব শিগগিরই একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এর পরই অনুমোদন পাবে আলোচিত ওই প্রকল্পটি।

মানবকণ্ঠ/এএএম