সোশ্যাল মিডিয়া থেকে…

বর্তমান বাস্তবতায় ফেইসবুক খামোখা সময় কাটানোর কোনো একটি মাধ্যম শুধু নয়। এই মাধ্যমটিতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক। নানা মতের মানুষের সম্মিলন থাকায় তাৎক্ষণিক নানা বিষয়ের প্রতিফলনও পাওয়া যায় নানা আঙ্গিকে

শিক্ষক হিসেবে একটি ভুল নিয়োগই ৩০/৪০ বছর ধরে বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তথা সমাজের জন্য একটা অভিশাপ। তার পুনরুৎপাদনও হতে থাকে। আর যদি হয় ৫/১০/১৫/৩০/৬০ বা আরো বেশি? তখন মাস্তান আর বণিকের রাজত্বে প্রকৃত শিক্ষক আর শিক্ষার্থীরাই অবাঞ্ছিত হয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এরকম অনিয়ম আর তার ফলাফল নিয়ে পত্রপত্রিকায় খবর আসছে। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠান একা নয়, অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও প্রায় এই একই চিত্র। গত কয়বছরে এটি ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে। একটু অনুসন্ধানেই এর দগদগে চেহারা বার হবে। এর সমাধান কীভাবে হবে যদি খোদ সরকারই হয় এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক?
-আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ

পাঠকপ্রিয়তা ও জনপ্রিয়তা এক নয়। তবে, পৃথিবীর কোনো কোনো কবি একই সঙ্গে জনপ্রিয় ও পাঠকপ্রিয় হয়েছেন। এর পেছনে রাজনৈতিক কারণ কাজ করেছে। সে প্রসঙ্গ থাক। প্রসঙ্গ কবিতা হলে জনপ্রিয়তার প্রশ্নটি নেহায়েতই অমূলক। রাজনৈতিক ব্যত্যয় ছাড়া খুব কম কবির ভাগ্যে জনপ্রিয়তা জোটে। কবিতার ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা নয়, পাঠকপ্রিয়তা বিবেচ্য হওয়া উচিত। বাংলা কবিতায় কালজয়ী কবিদের সবার প্রিয়তা বা পাঠকপ্রিয়তা যে মরণোত্তর, তা কিন্তু নয়। যে-জীবনানন্দকে এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়, তিনিও জীবদ্দশায় বোদ্ধা বা দীক্ষিত পাঠকসমাজের নজর কেড়েছিলেন। পাশ্চাত্যে বোদলেয়ার, ইয়েটস, অ্যাপলিনের, পাউন্ড, এলিয়টসহ অনেক কবির নাম করা যায় যারা বেঁচে থাকতেই পাঠকপ্রিয় ছিলেন। আবার প্রত্যেকেই তারা কবিতায় নতুন বাঁকের স্রষ্টা। কালজয়ী রুশকবি পুশকিনও সমকালেই পাঠকপ্রিয় ছিলেন। বাংলা কবিতায় নিকট অতীতে শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও শামসুর রাহমান এ ক্ষেত্রে স্মরণযোগ্য। নতুনত্বের প্রশ্নে একজন পদ্যের ছদ্মাবরণে লিরিকের বিনির্মাণকারী, অন্য জন অক্ষবৃত্তের স্বনির্মিত প্রবহমানতায় বাংলা ও বাঙালির প্রতিইতিহাসবেত্তা। ভবিষ্যতে শঙ্খ ঘোষ ও আল মাহমুদের কবিতার ক্ষেত্রেও পাঠকপ্রসাদ অপেক্ষা করছে বলে ধারণা করা যায়। কথা এই যে, কবির কাছে একজন জননেতার জনপ্রিয়তা আশা করাটা নিছকই বোকামি। এমনকি ঔপন্যাসিকের পাঠকপ্রিয়তাও আশা করতে নেই। কবিতা চিরকালই সংখ্যালঘু পাঠকের সম্পত্তি। কালজয়ী কবিরাও একটি নির্দিষ্ট পাঠকবলয়ে বেঁচে থাকেন; এই একুশ শতকেও কবিকঙ্কন মুকুন্দরামকে তারা চেনেন। অন্যদিকে মুকুন্দরামের সমসাময়িক সম্রাট আকবরের নাম শোনেননি, এমন মানুষ গোটা উপমহাদেশেই কম পাওয়া যাবে। এত যে পাঠকপ্রিয় ওমর খৈয়াম বা জালালুদ্দিন রুমি, তারাও সিজার বা আলেকজান্ডারের মতো পরিচিত নন। ধর্মপ্রবর্তকদের মতো জনপ্রিয় হওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না।
কবিতায় বলেছি… ‘লঘুমেঘে বৃষ্টি হলে কবিতার বাড়াভাতে ছাই’। নিবিড় পাঠকালেও কথাটি মান্যতা পায়। তাই, কবির জনপ্রিয়তা নিয়ে কেউ প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে বিরক্ত হই। বিষয়টি অবান্তর। যারা উত্থাপণ করেন বা এ নিয়ে মাথা ঘামান ধরে নেয়া যায় স্বভাষা-বিভাষার কবিতার ইতিহাস সম্পর্কে তাদের ধারণা মোটেও স্বচ্ছ নয়।
-আবু হাসান শাহরিয়ার, কবি

টেলিফোনে ঝাড়ি দিতে চাওয়া লোকটি বললেন, এতদিন ধরে লেখেন সমাজের পালস বোঝেন না। এড়িয়ে যেতে চাইলাম, তাও দেয় না। শেষে বললাম, বুঝবো না কেন? দেশও সমাজের statistics তো সরলরে ভাই। বাইরে আওয়ামী, ভোটে বিএনপি আর কলিজায় জামায়াত। মুশকিল হইলো প্রথমটা ঝাপসা দেখে। মধ্যেরটা একচোখ কানা আর পরেরটা জন্মান্ধ। লাইনটা কেটে গেল ঝুপ করে।
-অজয় দাশগুপ্ত, প্রবাসী সাংবাদিক

নিয়তির কি বিধান! যে ইতিহাস ঘাতকেরা মুছে দিতে চেয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে সেই ইতিহাসের বিশুদ্ধতম লিখিত প্রকাশ জাতির সামনে উপস্থাপিত হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নিজের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ এই দুই অনবদ্য ঐতিহাসিক দলিলের মধ্য দিয়ে। ১৯৬৬-১৯৬৭ সালে বঙ্গবন্ধুর কারা অন্তরীণ জীবনের দিনলিপির গ্রন্থরূপ ‘কারাগারের রোজনামচা’। বাংলাদেশ টেলিভিশনে এই আগস্ট মাসের প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ৮টা পর্যন্ত বইটির ওপর ভিত্তি করে প্রচারিত হচ্ছে ‘কারাগারের রোজনামচা’ নামে একটি অনুষ্ঠান- যেখানে বইটি থেকে নির্বাচিত অংশ পাঠ করা হচ্ছে এবং তার ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করছেন আমন্ত্রিত একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। আমার সৌভাগ্য আমি এই অনুষ্ঠানগুলো উপস্থাপনা করছি। বইটি পড়ার পরও আরেকটু বেশি জানা ও শেখার জন্য বন্ধুদের আহ্বান করছি অনুষ্ঠানটি দেখার জন্য।
-নুজহাত চৌধুরী, শহীদ
ডা. আলীম চৌধুরীর কন্যা

এখন সময় এসেছে নির্বাচন কমিশনকে এটা প্রমাণ করতে যে তারা সত্যি সত্যিই ‘স্বাধীন’। বেশ ক’জন সাবেক নির্বাচন কমিশনার, একাধিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক এটা বলার চেষ্টা করেছেন যে, নির্বাচন কমিশনকে সত্যিকার অর্থেই তাদের ক্ষমতা প্রদর্শন করতে হবে। না হলে যে, ‘বিতর্ক’ নিয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশন তার যাত্রা শুরু করেছিল, সেই ‘বিতর্ক’ আরো বাড়বে। প্রধানমন্ত্রী গত ২৬ জুলাই ফরাসি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। আমাদের সংবিধানের ১১৮ (৪) ধারায়ও বলা আছে স্পষ্ট করে ‘নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে স্বাধীন’ এবং সংবিধানের ১২৬ এ বলা আছে ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সব নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হইবে’। এটাই হচ্ছে আসল কথা। নির্বাচনের তিন মাস আগে সমস্ত প্রশাসন চলে যায় নির্বাচন কমিশনদের হাতে। অর্থাৎ ডিসি, এসপি, ওসিরা থাকেন নির্বাচন কমিশনের আওতায়। কিন্তু বাস্তবক্ষেত্রে তা কী বলে? জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ কর্মকর্তা কিংবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা থাকেন জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায়। তাদের নিয়ন্ত্রণ করে মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন নয়। ফলে যা হওয়ার তাই হয়। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করে, আর জেলা প্রশাসকরা ‘নিয়ন্ত্রিত’ হন মন্ত্রণালয় থেকে। এ ব্যপারে প্রায় ক্ষেত্রেই সরকারের ইচ্ছা-অনিচ্ছা প্রতিফলিত হয়।
-ড. তারেক শামসুর রেহমান, অধ্যাপক

কে বলে এ প্রজম্মের তরুণরা বই পড়ে না? কে বলে তারা কেবল রাত জেগে চ্যাট করে? দেখা হলো তাদের অনেকের সঙ্গে ঢাবি টিএসসি চত্বরে। তারণ্যের বুদ্ধীদীপ্ত উদ্ভাবনী চকচকে চোখ ভরে নিয়ে এসেছি নিজের চোখের ভেতর। নিজেকেও তাই দেখছি ওদের কাতারে, তরুণই লাগছে নিজেকে।
-মোহিত কামাল, মনোবিদ