সোশ্যাল মিডিয়া থেকে…

ছোটবেলায় যখন সার্কাস দেখতে যেতাম, জানা থাকত কখন শুরু কখন শেষ। এখন এই পৌঢ়বেলায় দেখি সার্কাসের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই।
-মঈনুল আহসান সাবের, কথাসাহিত্যিক

জিন্নাহ’র দ্বি-জাতিতত্ত্বের পাকিস্তানকে অস্বীকার করে, রাষ্ট্রভাষা উর্দু’র ঘোষণাকে অস্বীকার করে, যে বাঙালি রুখে দাঁড়িয়েছিল স্বাধিকার অর্জনের পক্ষে, নির্ভীক চিত্তে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তি সংগ্রামে, পেয়েছিল বিধাতার পুরস্কার রক্তস্নাত বাংলাদেশ, সেই বাঙালির একটি অপভ্রংশ কী করে দীর্ঘ ৪৬ বছর ঘাপটি মেরে বাংলার আবহাওয়া ও সম্পদ ভোগ করে যাচ্ছে নির্বিবাদে? আমাদের দেশাত্মবোধ আর কতকাল প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে, আমাদের চৈতন্য কি জাগ্রত হবে শুধু বিশেষ দিন-মাসগুলোয়? এই আগস্টে আমারই ডান হাত বাম হাতকে সন্দেহ করছে, ডান চোখ বাম চোখকে, ডান পা বাম পাকে! আমরা এবং সবার ভেতরে ‘আমি’ কি ষোলোকলায় বাঙালি?
-সানাউল হক খান, কবি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন গত সোমবার সুশীল সমাজের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়। ওই সভায় আমিও উপস্থিত ছিলাম এবং সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রশ্নে আমার মতামত তুলে ধরেছি। প্রথম দিনের সংলাপে আমি দেখেছি, কতগুলো নির্দিষ্ট ইস্যুতে সুশীল সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের মতামত দিয়েছে। তিনটি ক্ষেত্রে সুশীল সমাজের মধ্যে এক ধরনের ‘ঐক্য’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ তিনটি ইস্যু হচ্ছে ‘না’ ভোটের পুনঃপ্রবর্তন, নির্বাচনের দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের ‘সঠিক’ দায়িত্ব পালন। যারা প্রথম দিনের সংলাপে উপস্থিত ছিলেন, তাদের প্রায় সবাই এ তিনটি ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন এবং সংলাপ শেষে সিইসি এটা স্বীকারও করেছেন। কিছু বিরোধিতা আমি লক্ষ্য করেছি। কিন্তু তা সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো বড় প্রভাব ফেলেনি। দু’-একজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, যাদের সমাজ আওয়ামী লীগ ঘরানার বলেই মনে করে, তারা সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রশ্নে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করে এটা বলার চেষ্টা করেছিলেন যে, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হলে অন্যান্য ফোর্স, বিশেষ করে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে! কিন্তু এ বক্তব্য সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। নির্বাচন কমিশনকে শক্ত অবস্থানে যাওয়ার কথা বলেছি আমরা সবাই। আমি আমার বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি সংবিধানের ১১৮(৪) ও ১২৬নং অনুচ্ছেদের কথা। ১১৮(৪)নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন।’ আর ১২৬নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।’ এর অর্থ পরিষ্কার- একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সংবিধান নির্বাচন কমিশনকে যথেষ্ট দায়িত্ব দিয়েছে। সংলাপে আমরা প্রায় সবাই বলার চেষ্টা করেছি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মাঝে ‘আস্থা ও বিশ্বাসের’ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা, যা নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এ ‘আস্থা ও বিশ্বাসের’ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা না হলে তা সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।
-তারেক শামসুর রেহমান, অধ্যাপক