সোশ্যাল মিডিয়া থেকে…

মানুষ বড় উদ্ভট প্রাণী। কালকে সন্তান খাবে তাই খাবার ফ্রিজে রাখে। আচার, শুঁটকি বানায়। অথচ কালকে পৃথিবীটা সন্তান পাবে জেনেও আজ পৃথিবীর বারোটা বাজায়। কয়লা, গাড়ির ধোঁয়া ছাড়ে, অ্যাসিড, সিসা দিয়ে ব্যাটারি বানায়। পৃথিবী ফ্রিজ এ রাখলে ভালো হতো, কারণ এরা সব বোঝে, পরিবেশ বোঝে না।
-আবদুন নূর তুষার, উপস্থাপক ও চিকিৎসক

সুশীল সমাজের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল। বলা যেতে পারে, এক ধরনের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড শুরু করে দিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ইসিকে যেতে হবে অনেক দূর। সামনের দিনগুলো যে খুব ভালো ও স্বচ্ছ, তা বলা যাবে না। প্রথম দিনের সংলাপে সিইসিকে আমার আন্তরিক বলেই মনে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যতই অভিযোগ থাকুক না কেন, তা তিনি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। সংলাপে সুশীল সমাজের আস্থা তিনি পেয়েছেন। এটা তার জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা (বিশেষ করে বিএনপির) যদি তিনি নিশ্চিত করতে পারেন, তাহলে ইতিহাসে একজন সফল সিইসি হিসেবে তিনি জায়গা করে নিতে পারবেন।
-ড. তারেক শামসুর রেহমান, অধ্যাপক

দেশের বরেণ্য ছবি আঁকিয়ে, শিল্পী, চিত্রকররা তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তিনমাসে তিরিশবার চেষ্টা করেও পারেননি। জানা গেল নানা অজুহাতে তিনি না করে দিয়েছেন। ফিরিয়ে দিয়েছেন। এরা নিজেদের জন্য থোড়াই যেতে চেয়েছিলেন। এদের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার অনিয়ম নিয়ে কথা বলা। কত বড় মন্ত্রীরে বাবা! যাদের দেখা দেননি তারা এদেশের মানুষের মনে জীবনে মরণে কিংবদন্তি। আর বাম থেকে বামাক্ষ্যাপা, কে আপনারে মনে রাখব?
-অজয় দাশগুপ্ত, প্রবাসী সাংবাদিক

মায়ের সারা জীবন ধরে সঞ্চিত অর্থগুলোকে একসঙ্গে করে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র করে দিব বলে গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তায় ব্যাংকে ফর্ম জমা দিয়েছিলাম। ঝকঝকে চঞ্চল তরুণী ফর্মের সব দেখেশুনে ত্বরিত গতিতে জমা নিয়ে নিয়েছিল। আর কিছু ফর্মে বাদ বাকি সই কোথায় হবে দেখাতে দেখাতে সেলফোনে কাবাব না পাওয়া গেলে মোরগপোলাও কিনে নিতে নির্দেশ দিচ্ছিল অপরপ্রান্তে। আমরা তার ব্যস্ততায় আর ব্যস্ততা না বাড়িয়ে কাগজগুলো নিয়ে ওঠে এসেছিলাম। তরুণী সেলফোনে কথা বলতে বলতেই আমাদের বিদায় জানিয়েছিল। বাসায় মাকে নিশ্চিত করে আর বাকি সই নিয়ে পরের দিন বাকি ফর্ম জমা দিয়ে এসেছিলাম সেই তরুণীর কাছে। ঠিক চারদিন পর তরুণী আমাকে কল করে বলে ফর্মে ভুল ছিল, আপনাদের আবার আসতে হবে। ব্যাংকে গেলাম। দেখি পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের ফর্মে বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের আবেদন করেছি। তরুণী বলল আমাদের পারিবারিক সঞ্চয়পত্র শেষ তাই এই ফর্ম বাতিল। আপনাদের নতুন করে বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ফর্ম পূরণ করতে হবে। আমি হা করে তাকিয়ে বলেছিলাম, তাহলে আপনি খেয়াল করেননি কেন? উত্তর পাইনি আবারো তার ব্যস্ততার মাঝে। আবার সব বাসায় এনে মাকে দিয়ে পূরণ করে ব্যাংকে জমা দিয়ে আসলাম। সব ঠিকঠাক। গত পরশু ব্যাংক থেকে কল এলো আপনাদের আসতে হবে। এবার মাকে নিয়ে। পাঁচ বছরের সবগুলো কুপন স্বাক্ষর করার জন্য। একাউন্টে অটো জমা হবে তাই। বেশ পরেরদিন দুপুরে ঘরের সব কাজ শেষে যানজট ঠেলে মাকে নিয়ে হাজির হলাম ব্যাংকে। তরুণী বসতে দিল। সঞ্চয়পত্রের কাগজ সামনে আসতেই দেখি মাকে মাত্র একটি স্বাক্ষর করা লাগবে। আমি অবাক হয়ে বললাম মা তো মাসে মাসে টাকা তুলবেন। একটা কুপন কেন? তরুণী হেসে বলল, আপনারা তো তা বলেননি।
একবারে পাঁচ বছর পর সুদে আসলে তুলতে পারবেন। আমি বললাম, আমি বলেছি। আপনি তখন সেল ফোনে ব্যস্ত থাকায় শুনতে ভুল করেছেন। আপনাদের ব্যাংকে করা একাউন্টে প্রতি মাসে অটো জমা হবে। মায়ের যখন প্রয়োজন তখন তুলে নিবেন, তাই বলেছিলাম। তরুণী আবারো ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিল উত্তর না দিয়ে। এত কথা বলার কারণ হচ্ছে একটা ফোনকলের ব্যস্ততার কারণে মায়ের সদ্য করা সঞ্চয়পত্র আবার ভাঙতে দিলাম। টাকাটা মায়ের একাউন্টে জমা হলে আবার নতুন করে ফর্ম পূরণ করতে হবে। জমা দিতে হবে সবধরনের সত্যায়িত ছবি, টিন, আইডি, পাসপোর্ট। আবার ব্যাংকে যেতে হবে। আবারো মাকে যেতে হবে কূপণ সাক্ষর করবার জন্য। আমি চুপ করে তরুণীর ব্যস্ততা মেনে নিলেও মায়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি। আচ্ছা বল তো শাওন একটি মানুষের ভুলের জন্য আমি কেন তিন সপ্তাহের প্যানাল্টি দিব? আমি তো কোনো ভুল করিনি।
-শাওন মাহমুদ, শহীদ আলতাফ মাহমুদের কন্যা