সোশ্যাল মিডিয়ায় যা এড়াতে হবে

ফেসবুক এমনই এক মারাত্মক জিনিস, যা তোমার জন্য ভালোও হতে পারে। আবার খারাপও হতে পারে। ফেসবুককে সাধারণত সড়কের চৌরাস্তার সঙ্গে তুলনা করা হয়। একটা রাস্তার চৌরাস্তায় যা হচ্ছে, সেটা তুমি যে কোনো সাইডের রাস্তার মাথায় এসে দাঁড়িয়ে দেখতে পারবে। ফেসবুকসহ বাকি সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো ঠিক তেমনিই। তুমি যেই জিনিসটা এসব সাইটে শেয়ার করবে, খুব দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়তে থাকবে। আজ থাকছে ফিচারটির শেষ পর্ব।
কোনো পার্টি দেয়ার আগাম বার্তা: বেশ কয়েকবছর আগে, পত্রিকায় খবর এসেছিল একটা মেয়ে তার নিজের জš§দিন উপলক্ষে ফেসবুকে একটা ইভেন্ট খুলেছিল। সে ভেবেছিল খুব কমসংখ্যক মানুষ, অর্থাৎ পরিচিত মানুষজন তার জš§দিনের অনুষ্ঠানে আসবে। কিন্তু ধীরে ধীরে জš§দিনে আসা মানুষের সংখ্যা এত দাঁড়াল, যে তা সেই শহরের বাসিন্দাদের চেয়েও সংখ্যায় বেশি হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এনে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে। এমন ঘটনা কিন্তু তোমার সঙ্গেও হতে পারে, যদি তুমি এমন নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দাও। তাই ব্যক্তিগত কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন করার সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় এভাবে ইভেন্ট তৈরি না করা ভালো।
কোনো সম্পর্কে জড়ানো বা জড়াতে চাওয়ার কথা শেয়ার করা: আমাদের এই জেনারেশনের মধ্যে শো অফ জিনিসটা প্রচুর। কাছের কোনো মানুষের সঙ্গে খেতে গেলাম, সেটার ছবি তুলে সঙ্গে সঙ্গে আপলোড দিতে হবে। কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর কথা ভাবছি- সেটাও সঙ্গে সঙ্গেই সবাইকে জানাতে হবে। তুমি যদি ছোট বয়সে এসবের চিন্তা কর, তাহলে বড়রা সবাই কিন্তু তোমাকে ইচড়েপাকা বলবে। নিজের প্রাতিষ্ঠানিক ও কর্মজীবনে ভালো প্রভাব ফেলে না অল্পবয়সীদের ক্ষেত্রে।
পাসওয়ার্ড: যদিও পাসওয়ার্ড সবাইকে বলে দেয়ার মতো ভুল এখন আর কেউ করে না, কিন্তু তবুও অনেকেই অনেক সময় কথার মাঝে নিজের পাসওয়ার্ডের হিন্ট দিয়ে দেয়। সেটাও করা উচিত নয়। কেননা নিজের আইডিতে আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও থাকতে পারে, যা বেহাত বা লিক হয়ে গেলে আমরা সমস্যায় পড়তে পারি।
নিজের ফিন্যান্সিয়াল ইনফরমেশন শেয়ার করা: তুমি কত টাকা মাসে আয় করো, কত টাকা দিয়ে তুমি একটা কাজ করো এগুলো পাবলিকলি মানুষকে জানানোর দরকার নেই। এসব জিনিস ইনবক্সে আলাপ করাই শ্রেয়।
এমন কিছু দেয়া যা নিজের পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং নষ্ট করে: আমরা হয়তো ঠাট্টাচ্ছলে একটা কিছু শেয়ার করলাম সোশ্যাল মিডিয়ায় কিন্তু পরে দেখা গেল আমি আসলে নিজে যেমন বা মানুষ আমাকে যেভাব চেনে, শেয়ার দেয়া জিনিসটা আমার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই না। তাই আমরা এমন কিছু শেয়ার করব না, যার কারণে পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং নষ্ট হবে।
সাম্প্রদায়িক মনোভাব: কখনোই উচিত না অন্য ধর্মকে কটাক্ষ করে সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলোতে স্ট্যাটাস বা ছবি দেয়া। কেননা এইসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে পারে অনেক বড় সমস্যা। কয়েকবছর আগে রামুর বৌদ্ধবিহারে যেমন সাম্প্রদায়িক হামলা হয়ে গেল। তাই আমরা কেউই কখনোই অন্য ধর্ম এবং সেই ধর্মাবলম্বীর মানুষদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকব।
পার্সোনাল চ্যাটের স্ক্রিনশট: আমরা একজন মানুষের সঙ্গে ইনবক্সে কথা বলি কারণ কেউ যাতে আমার সঙ্গে তার কথোপকথন জানতে না পারে। কিন্তু যদি সেই কথোপকথনের স্ক্রিনশটটাই আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড দিয়ে দিই, তাহলে কেমন লাগে? যার সঙ্গে কথা বলছিলাম, সে কিন্তু ভালোই বিপাকে পড়তে পারে। অনেক সময় আমরা বন্ধুদের সঙ্গে এমন অনেক কথা বলি, যা বাইরের কাউকে দেখালে বুঝবে না কিংবা ভালো চোখে দেখবে না। তাই ফ্রেন্ডদের মাঝে যেই চ্যাট হয়, সেগুলোর (দরকারি তথ্য ছাড়া) স্ক্রিনশট না দেয়াটাই উচিত।
যেখানে-সেখানে সেলফি তোলা এবং আপলোড দেয়া: যারা সেলফি ম্যানিয়াক, তারা যেখানেই সুযোগ পায়, সেখানেই সেলফি তোলে আর আপলোড দেয়। কিন্তু সেলফি তোলার সময় খেয়াল রাখতে হবে আমরা সেটা কোথায় তুলছি এবং আমাদের ছবি তোলার ফলে কেউ বিরক্ত হচ্ছে নাকি।
শো অফ করা: আমি অমুক জায়গায় পড়ি দেখে আমি অনেক ভাব নেব কিংবা আমার কাছে অনেক দামি দামি জিনিস আছে, সেগুলো আমি সবাইকে দেখাব- তোমরা যারা এগুলো নিয়ে লোক দেখানো কাজ করো, বিশ্বাস করো আমার কথা, তোমাকে নিয়ে আড়ালে আবডালে সবাই হাসতে থাকে। কারণ তুমি এগুলো করে লোক হাসানোর কাজই করে থাকো। তোমার যদি আসলেই কিছু থাকে, তাহলে সেটা বলে-কয়ে সবাইকে দেখাতে হবে না। সবাই এমনিই দেখে নেবে।
এমন কাউকে অভিনন্দন জানানো, যে তোমার বন্ধু তালিকাতেই নেই: আমরা বাবা দিবস, মা দিবসে মা-বাবাকে নিয়ে অনেক বড় বড় রচনা লিখে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড দেই। কিন্তু হাসির ব্যাপার হলো, আমাদের শতকরা ৮০% মা-বাবাই থাকেন ব্লক লিস্টে। তাহলে যেই মানুষকে তুমি ব্লক দিয়ে রেখেছ বা সামনা-সামনি ভালোবাসি বলার সাহস নেই, সেহেতু লোক দেখানোর জন্য এত বড় রচনা লিখে কী লাভ? সোশ্যাল মিডিয়া এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে একবার কিছু শেয়ার করে ফেললে তা আর ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। তাই আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে, ‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না।’ এসব নিষেধগুলো মেনে চললেই তোমার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো হয়ে উঠবে একদম প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টের মতো। তথ্য ও সূত্র: টেনমিনিট স্কুল – ফেসটিউব ডেস্ক