সোমালিয়ার ওপর জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন আরব আমিরাতের

সোমালিয়ার ওপর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক আরোপ করা অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক কমিটির একটি প্রতিবেদন পেয়েছে আল জাজিরা। সেই প্রতিবেদন ওপর ভিত্তি করে এমন খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।

আল জাজিরার খবর বলা হয়, তাদের কাছে থাকা জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনটি এখনো প্রকাশ হয়নি। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত সোমালিয়ার বেরবেরায় একটি সেনা ঘাঁটি স্থাপনের চেষ্টা করছে এবং জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সেখানে অস্ত্র চালান করছে। প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, গত বছর থেকেই সোমালিয়ার উত্তর প্রদেশে সেনা ঘাঁটি স্থাপন শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সেনা ঘাঁটি স্থাপন করা ওই অঞ্চলটি ১৯৯১ সালের গৃহযুদ্ধের পর থেকে স্বাধীনতা চেয়ে আসছে। আরব আমিরাত এমন স্থানে সেনা ঘাঁটিটি স্থাপন করেছে যেখান থেকে তারা খুব সহজেই সৌদি আরবকে সঙ্গে নিয়ে সম্মিলিতভাবে ইয়েমেনকে আক্রমণ করতে পারবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের তৈরি করা এই সেনা ঘাঁটির বিষয়ে এর আগেও জাতিসংঘের কাছে সংযুক্ত আরব আমিরতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল সোমালিয়া। এ ছাড়া ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর সোমালিয়া সরকারের কাছ থেকেও কোন সাড়া পায়নি জাতিসংঘ।

সেনা ঘাঁটি নির্মাণের বিষয়ে জাতিসংঘ কর্তৃক সংযুক্ত আরব আমিরাতকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানায়, তারা সোমালিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য এবং ওই অঞ্চলের প্রধানদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সোমালিয়ার সংবিধানের আলোকেই চুক্তিটি করেছে।

২০১৭ সালে সোমালিয়ার নৌ পুলিশ ইয়েমেন থেকে সোমালিয়াগামী  একটি জাহাজ থেকে প্রচুর অস্ত্র উদ্ধার করে। ওই জাহাজ থেকে বেশ কিছু চীনের তৈরি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। যদিও তখন চীন বলেছিল তারা কোন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেনি। ওই জাহাজে সার্বিয়ার তৈরি সাব মেশিন বন্দুকও পাওয়া যায়।

যখন ওই অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয় হয় তখন সার্বিয়া কর্তৃপক্ষ বলেছিল,  তারা ২০১৬ সালে আরব আমিরাতের কাছে ১ হাজার সাব মেশিন বন্দুক বিক্রি করেছে। তবে কিভাবে সোমালিয়াগামী জাহাজে ওই সাব মেশিন  অস্ত্র পাওয়া গেল জাতিসংঘের কাছে এর কোন জবাব দেয়নি আরব আমিরাত।

জাতিসংঘের আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদুত লানা নুসাইবাহ এ বিষয়ে বলেন যেহেতু এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি তাই কিছু বলা যাচ্ছেনা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি জানান, নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আরব আমিরাত পুরোপুরি সচেতন রয়েছে ।

উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে সোমালিয়ার কিছু গোষ্ঠী তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ সিয়াদ বারেকে উৎখাতের লক্ষ্যে বিদ্রোহ করে এবং পড়ে যুদ্ধ বাধিয়ে দেয় । ওই গোষ্ঠীরা যাতে ভবিষ্যতে অস্ত্রের যোগান না পায় এ জন্য সোমালিয়ার ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।

মানবকণ্ঠ/এআর