ডিআরইউ রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ২০১৭

সেরা রিপোর্টার মানবকণ্ঠের এম মামুন হোসেন

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ২০১৭ পেয়েছেন দৈনিক মানবকণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার এম মামুন হোসেন। রোববার ডিআরইউ চত্বরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর হাত থেকে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন। ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে ‘নামকরণের ইতিকথা’ শিরোনামে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য মামুনকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে।

সংগঠনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহজাহান সরদার, ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মানবকণ্ঠে ‘নামকরণের ইতিকথা’ শিরোনামে প্রথম পর্বে ‘ ঢাকার এক একটা সড়কের ইতিহাস রোমান্টিক উপন্যাসের চেয়েও চিত্তাকর্ষক’ শীর্ষক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘কালের আবর্তনে ঢাকার আয়তন বাড়লেও বায়ান্ন বাজার তেপ্পান্ন গলির শহরের পরিচিতি আজো রয়ে গেছে। ঢাকার অলিগলির নামকরণ নিয়ে প্রচলিত আছে অনেক জনশ্রুতি, আবার কোনো কোনোটি সম্পর্কে রয়েছে সুস্পষ্ট ঐতিহাসিক তথ্য। নামের সঙ্গে অনেক এলাকার এখন আর কোনো মিল নেই। ঢাকার এক একটা অঞ্চল, মহল্লা ও এক একটা সড়কের ইতিহাস নিয়ে রোমান্টিক উপন্যাসের চেয়েও চিত্তাকর্ষক কাহিনী রচনা করা যায়; যেমন লালবাগ, আজিমপুর, আমলীগোলা, চকবাজার, পোস্তা, নিমতলী, তাঁতীবাজার, নারিন্দা, পোস্তগোলা, ফরাশগঞ্জ ইত্যাদি রাস্তার কাহিনী যে কোনো কাহিনীর তুলনায় কম আকর্ষণীয় নয়।…বায়ান্ন বাজার তেপান্ন গলির ঢাকা বাংলাদেশের ইতিহাসে নানা কারণে স্মরণীয় হয়ে আছে সেই মোগল আমল থেকে।’

পাঁচ পর্বের ধারাবাহিকে নানান জনশ্রুতি, সুস্পষ্ট ঐতিহাসিক তথ্য, ইতিহাসবিদদের বয়ান নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন অলিগলির চিত্র তুলে ধরা হয় মানবকণ্ঠে ।

এম মামুন হোসেনের পৈতিৃক ভিটে বিক্রমপুর (মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা) হলেও জন্ম ও বেড়ে উঠেছেন পুরান ঢাকায়। তাই পুরান ঢাকার প্রতিটি অলিগলিতে রয়েছে তার শেকড় পোতা। এ যেন উত্তরাধিকার সূত্রেই তার আগ্রহের বিষয় ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম মামুন হোসেন একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও এমবিএ করেছেন।

দীর্ঘ এক যুগ ধরে সাংবাদিকতা করা এম মামুন হোসেন নানান বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পেয়েছেন স্বীকৃতি। ২০১৪ সালে ‘কী শিখছে শিশুরা’ শিরোনামে তিন পর্বের ধারাবাহিক শিক্ষা-বিষয়ক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পেয়েছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)- গ্রামীণফোন রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড। ২০১১ সালে ‘বেসরকারি ৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ক্যাম্পাস বিক্রি’ শিরোনামে অনুসন্ধানী শিক্ষাবিষয়ক প্রতিবেদনের জন্য রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পান। এছাড়া জেন্ডার আইডেনটিটি নিয়ে মানবকি প্রতিবেদনের জন্য ইউএনডিপি অ্যাওয়ার্ড-২০১৪, কুষ্ঠ রোগ নিয়ে সচেতনতামূলক প্রতিবেদনের জন্য ল্যাপ্রসি মিশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৪, প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পেয়েছেন দ্যা ফ্রেড হলোস ফাউন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড। সাংবাদিকতায় তার আগ্রহের বিষয় হচ্ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য, গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধ, মানবাধিকার, স্থানীয় সরকার ও সুশাসন।

মানবকণ্ঠ/বিএএফ