সেরাদের সেরাটা আড়ালে!

সেরাদের সেরাটা আড়ালে!

রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল এবার শুরু হয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে ঈদের উৎসবের মাঝে। ঈদুল ফিতরের দিন সন্ধ্যা ৭টায় খেলা ছিল কোটি কোটি বাঙালির প্রিয় দল আর্জেন্টিনার। প্রতিপক্ষ ছিল নবাগত আইসল্যান্ড। সারাদিন ঈদের উৎসব করে সন্ধ্যা হতে না হতেই রাস্তা-ঘাট সব ফাঁকা হয়ে যায়। টিভি চ্যানেলে ঈদের অনুষ্ঠান আর দেখা হয়নি। সবাই নিমগ্ন হয়ে পড়েন ম্যাচ দেখতে। এই ম্যাচ দেখার জন্য সবার প্রস্তুতিও ছিল ব্যাপক। ঈদের উৎসবে বাড়তি আমেজ। সবাই মিলে উৎসবমুখর পরিবেশে ম্যাচ দেখা। নবাগত দলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা গোল উৎসব করবে- এমন ভাবনায় বিভোর ছিলেন সবাই। কিন্তু খেলা শুরু হতে না হতেই আর্জেন্টিনার ম্রীয়মান খেলা দেখে ধীরে ধীরে সবাই হতাশ হতে থাকেন। যদিও অ্যাগুয়েরার গোলে উৎসবের ঢেউ লেগেছিল। কিন্তু সেখানে নিস্তব্ধতা নেমে আসে ফিনবোগাসেনের গোলে। সেই নিস্তব্ধায় রাজ্যের অন্ধকার দেখা দেয় সবার প্রিয় তারকা মেসির পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারাতে। অবশেষে কোটি কোটি বাঙালির ঈদ আনন্দ মাটি হয়ে যায় আর্জেন্টিনা জিততে না পারাতে। খেলা ড্র হয় ১-১ গোলে। আর্জেন্টিনাকে দিয়েই শুরু রাশিয়া বিশ্বকাপের অঘটন। সেই অঘটনের শিকার হয় পরে বাঙালি জাতির আরেক প্রিয় দল ব্রাজিলেরও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করা এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়াতে। শিরোপার সম্ভাব্য দাবিদার এই ৩ দলের প্রথম ৩ ম্যাচেই এমন অঘটনের শিকার হওয়াতে রাশিয়া বিশ্বকাপের সব পূর্বানুমান ওলাট-পালট হওয়ার পথে। যদিও সবাই বিশ্বাস করেন এই ৩ দলই আসরে ফিরবে নিজেদের মতো করেই। কিন্তু শুরতেই এমন হোঁচট রাশিয়া বিশ্বকাপকে বেশ জামিয়ে তুলেছে।

বিশ্বকাপের অঘটনের শুরু তৃতীয় দিন থেকে। কিন্তু প্রথম দুই দিন ছিল প্রত্যাশার শুরু। স্বাগতিক রাশিয়া ৫-০ গোলে এশিয়ার প্রতিনিধিকে উড়িয়ে দিয়ে আসরের পর্দা তোলার পর দ্বিতীয় দিন পর্তুগাল-স্পেনের আগুন ম্যাচে যেন প্রেট্রল ঢেলে দিয়েছিল কেউ! যে কারণে আগুনের লেলিহান শিখার মতো দাউ দাউ করে জ্বলেছে ম্যাচ। একবার পর্তুগাল এগিয়ে যায়, পরে স্পেন ড্র করে। আবার পর্তুগাল এগিয়ে যায়। আবার স্পেন ড্র করে। পরেরবার এগিয়ে যায় স্পেন। এবার সমতা আনে পর্তুগাল। রুদ্ধশ্বাস ভরা ম্যাচে চোখের পলক পড়া ছিল দায়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সবাই তুলেছেন তৃপ্তির ঢেউ। স্মৃতিপটে ধরে রাখার মতো একটি ম্যাচ। কেউ কেউ তো এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচ বলে আখ্যায়িতও করে ফেলেন। আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল কিংবা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি অথবা তারকাসমৃদ্ধ ফ্রান্স, হ্যাজার্ড-লুকাকোর বেলজিয়াম তখনো মাঠে না নামাতে রাশিয়া বিশ্বকাপে আরো এ রকম চমক জাগানো ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় থাকেন। ম্যাচে রোনালদোর হ্যাটট্রিক ছিল সবার কাছে বোনাস হিসেবে পাওয়া। ফ্রি কিক থেকে রোনালদোর সমতাসূচক গোলটি ছিল স্মরণীয় ম্যাচের আরেকটি উপাখ্যান। এমন গোল দেখার জন্যই যে বিশ্বকাপের আগমন! বিশ্বে সময়ের সেরা এই খেলোয়াড়ের এ রকম ছন্দময় খেলা আর হ্যাটট্রিক উপহার দেয়ার পর মেসি-নেইমার ভক্তদের আশা বেড়ে যায়। নিজ নিজ দলের হয়ে মেসি-নেইমারও দ্যুতি ছড়াবেন। কিন্তু এ সবই ছিল শুধুই ভাবনা? বেলজিয়াম ছাড়া বাকি ৪ দলই তৃতীয় ও চতুর্থ দিন মাঠে নেমে সবাইকে হতাশ করেছে, তেমনি হতাশ করেছেন মেসি-নেইমারও। দু’জনই নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি।

মেসির গোল না পাওয়া ছিল কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো। এমনিতে গোল পাননি, সেখানে আবার পেনাল্টি থেকে পারেননি গোল করতে। নেইমারও সে রকম কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। অথচ সেখানে রোনালদো ছিলেন আপন আলোয় উদ্ভাসিত। প্রথম গোল করেছেন পেনাল্টি থেকে। দ্বিতীয় গোল যদিও গোলরক্ষক ডেভিড গিয়ার ভুলে হয়েছে, কিন্তু ফ্রি থেকে তৃতীয় গোল ছিল মনে রাখার মতো। এদের মতো হতাশ করেছে ফ্রান্সও। যদিও তারা ২-১ গোলে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে। গ্রিজম্যান নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেও এম্বাপে, দেম্বালে হতাশ করেছেন। ফ্রান্সের খেলাও দর্শকদের মন ভরাতে পারেনি। এশিয়ার প্রতিনিধি সৌদি আরব উদ্বোধনী ম্যাচে রাশিয়ার কাছে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারলেও মরক্কোর বিপক্ষে এশিয়ার আরেক প্রতিনিধি ইরান জয় পেয়েছে ১-০ গোলে। সুয়ারেজ-কাভানির উরুগুয়েও ১-০ গোলে হারিয়েছে মোহাম্মদ সালাহবিহীন মিসরকে।

আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল, জার্মানি-ফ্রান্স কিংবা মেসি-নেইমাররা হতাশ করলেও এবারের বিশ্বকাপে কিন্তু গোলের উৎসব হচ্ছে। প্রথম ৪ দিনে খেলা হয়েছে ১১টি। গোল হয়েছে ২৫টি।

মানবকণ্ঠ/এসএস