সেক্স ফেরোমন ফাঁদে লাভবান চাষিরা

সেক্স ফেরোমন ফাঁদে লাভবান চাষিরা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় বিষমুক্ত বেগুন চাষে লাভবান চাষিরা। কীটনাশকের বদলে জৈব বালাইনাশক ও সেক্স ফেরোমন ফাঁদের ব্যবহার, উপকারী পোকা-মাকড় সংরক্ষণ এবং পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ পদ্ধতিতে আবাদ করছেন তারা।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব সবজি উত্পাদনে আইপিএম লাগসই প্রযুক্তি। এতে ক্ষতিকর পোকা-মাকড় দমন ও সবজির গুণগত মান নিশ্চিত হয়। বেগুনের পোকা দমনে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ এখন বাজারে সহজলভ্য ও কার্যকরী। প্রতি ১০ বর্গমিটার জমির জন্য একটি ফাঁদ চারা লাগানোর ৪-৫ সপ্তাহ পর গাছের উচ্চতার ওপর খুঁটি দিয়ে স্থাপন করতে হবে। ৬-৭ দিন পর পর নিয়মিত সাবান পানি দিতে হবে। ‘আইপিএম পদ্ধতিতে বিষ ব্যবহার না করেও বেগুন উত্পাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

উপজেলার চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জৈবিক বালাইনাশক ফাঁদ (সেক্স ফেরোমন) পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন আনোয়ারা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বেগুন চাষিরা। জমিতে বেগুনের পাশাপাশি লাউ, মিষ্টিকুমড়া, টমেটোসহ নানা সবজি। কম সময়ে ও কম খরচে কয়েক গুণ বেশি লাভ থাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে চাষিদের কাছে এ ফাঁদ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পোকা দমন পদ্ধতি কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে চাষিরা বিষমুক্ত বেগুন উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে। ক্ষতিকর পোকা দমন ও ফসল রক্ষায় ফেরোমন ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছেন চাষিরা। পোকা ও কীট দমনে অন্য কীটনাশক কিংবা ওষুধের তুলনায় খরচ অনেক কম হওয়ায় এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বৈরাগ, বারশত, হাইলধর, বরুমচড়া, জুঁইদন্ডীসহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বেগুনের ক্ষেতে পোকা দমনকারী ফেরোমন ফাঁঁদ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অনেকে এখনো এ ফাঁদ স্থাপন করছেন।

বরুমচড়া এলাকার বেগুন চাষি দিদারুল ইসলাম বলেন, আমি দেড় একর জমিতে কীটনাশক ছাড়াই বেগুনের চাষ করে বিষমুক্ত বেগুন উৎপাদন ও বাজারে বিক্রি করছি। নিমপাতা, ছাই আর সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করি। এতে আগের তুলনায় ফলনও ভালো। কীটনাশকের পরিবর্তে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে ভালো উপকার পেয়েছি। উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সরওয়ার আলম বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১শত বিশ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ করেছে চাষিরা।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.