সুবিধাজনক অবস্থায় আওয়ামী লীগ

জাতীয় সংসদের জামালপুরের ৫টি আসনের মধ্যে জামালপুর-৩ আসনটি হচ্ছে সবচেয়ে আলোচিত এবং আওয়ামী লীগের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি বলে পরিচিত। জামালপুর-৩ আসনটি মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনের নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক ময়দানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই শক্তিশালী প্রার্থী। আগামী সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকার রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে ঢাকঢোল পিটিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের একক হেভিওয়েট সম্ভাব্য প্রার্থী বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি। বিএনপির একক সম্ভাব্য প্রার্থী ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ ভোটের দিক থেকে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে।

দুটি পৌরসভা ও দুই উপজেলায় মোট ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনটি। মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ এ দুই উপজেলায় পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭ হাজার ৮৯৩ এবং নারী ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫ হাজার ৫শ’। সব মিলিয়ে জামালপুর-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৯৩ ভোট।

নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৯১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা ৫টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা আজম এই আসনের এমপি নির্বাচিত হন। তিনি ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুরের ৫টি আসনের মধ্যে বরাবরের ন্যায় এবারো সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তিনি এমপি থাকার সুবাদে তার নির্বাচনী এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট ও বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। জেলার সবচেয়ে অবহেলিত পিছিয়ে পড়া জনপদ দুই উপজেলায় এখন উন্নয়ন ও অগ্রগতির যে চিত্র দৃশ্যমান তার অনেকটাই মির্জা আজমের অবদান। এ জন্য তিনি একই আসন থেকে টানা ৫ বার এমপি হয়ে এবার বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। এ ছাড়াও তিনি তার আসন ছাড়া সারা জেলার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাসহ নিজ নির্বাচনী এলাকার দুটি উপজেলার সাংগঠনিক কাঠামো অত্যন্ত সুসংগঠিত করায় বেশ সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন। তিনি বর্তমানে জামালপুরে আওয়ামী রাজনীতিতে হিরো হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। যেন তার কোনো বিকল্প নেই। ২০০১ সালে এমপি মির্জা আজম নানা দলীয় প্রতিকূলতাসহ জোটের জোয়ার এবং বাবুল-দিদার বাহিনী কর্তৃক প্রায় সময় অবরোধ থাকায় এবং মির্জা আজম দিদার পাশা দ্বন্দ্ব সংঘাতের পটভূমিতে ঘড়ি মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের জাঁকজমকপূর্ণ নির্বাচনী প্রচারাভিযান এবং বিএনপি-জামায়াত বাবুলের পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করার পরও এলাকার মানুষজন শেষ পর্যন্ত বিপুল ভোট দিয়ে জিতিয়ে দেয় মির্জা আজমকে। এ কারণে মির্জা আজম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ফের ফিরে আসেন বিএনপিতে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন প্রায় ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আশীর্বাদপুষ্ট মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। ২০০১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হয়েও এলাকায় জনগণের জন্য ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তিনি। মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল মাঝেমধ্যে ঢাকা থেকে মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলায় এসে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে। এ আসনে বিএনপির একক সম্ভাব্য প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলও নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে দলমত নির্বিশেষে মেলান্দহবাসী হিসেবে তাকে একটি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আবেদন জানাচ্ছেন ভোটারদের কাছে।

জোট প্রার্থী জাপা (নাজিউর) গ্রুপের নেতা ’৮৬ ও ’৮৮-এর নির্বাচনে দু’দুবারের এমপি শফিকুল ইসলাম খোকার নাম শোনা যাচ্ছে। বর্তমানে তিনি জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কমান্ডার।

এলাকার সচেতন ভোটারদের কথা, যিনি সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেবেন এবং এলাকায় মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন তাকেই এবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করব।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.