সুফী মোতাহার হোসেন

সুফী মোতাহার হোসেন, মূলত সনেট রচয়িতা হিসেবেই খ্যাত। প্রকৃতির বর্ণনায় সুফী মোতাহার হোসেন নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন। সুফী মোতাহার হোসেনের রচনার মধ্যে ‘চতুর্দশপদী’ কবিতার সংখ্যাই বেশি। তার সনেটের প্রধান উপজীব্য হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন প্রেম এবং প্রকৃতি। তিনি সবকিছুকে দেখেছেন অনুভূতিশীল উদার মানবতাবাদী এবং সৌন্দর্যপিয়াসী কবির দৃষ্টিতে। সুফী মোতাহার হোসেন ছিলেন মূলত স্বপ্ন ও সৌন্দর্যের হাতে সমর্পিত। তার দৃষ্টিতে কবিশক্তি প্রবল ছিল বলেই তার কবিতায় রোমান্টিকতার আর্তির মধ্যদিয়ে প্রেম ও প্রকৃতিই বারবার উপজীব্য হয়েছে। বাংলার ঋতুবৈচিত্র্যে নিসর্গ সৌন্দর্য ও পুষ্পশোভা বিকশিত হয়েছে ‘সনেট’-এর কঠিন বন্ধনে। সুফী মোতাহার হোসেন
১৯০৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর জেলার ভবানন্দপুর গ্রামে জš§গ্রহণ করেন। পিতা মোহাম্মদ হাশেম, পুলিশ বিভাগে চাকরি করতেন। পিতার চাকরির সুবাদে কুমিল্লা ও বরিশালে নবম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেন এবং পরে ফরিদপুর জিলা স্কুল হতে প্রথম বিভাগে প্রবেশিকা পরীক্ষা পাস করেন। জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে অনার্সে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চলাকালে সুফী মোতাহার হোসেন ছান্দসিক কবি আবদুল কাদির ও কথাসাহিত্যিক, কবি বুদ্ধদেব বসুর বন্ধুত্ব লাভ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করে ফরিদপুর জজকোর্টে চাকরি করেন। বছর দু-এক পরে নিউরেস্থিনিয়া ও ডিসপেপশিয়া রোগে আক্রান্ত হলে প্রায় ১২ বছর শয্যাশায়ী থাকতে হয়। রোগমুক্তির পর তিনি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন এবং ফরিদপুর ঈশান ইনস্টিটিউশনে ২০ বছর শিক্ষকতা করেন। কাজী নজরুল ইসলাম ও মোহিতলাল মজুমদারের সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্কের সূত্রে মোতাহার হোসেন সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি পাশ্চাত্য আদর্শে সনেট রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত ‘বাংলা কাব্য পরিচয়’ নামক বইয়ে সুফী মোতাহার হোসেনের ‘দিগন্ত’ সনেটটি স্থান পেয়েছে। প্রকৃতি, প্রেম ও মানবতা তার সনেটে ধ্বনিত হয়।
সনেট সংকলন তার প্রথম কাব্য; পরে সনেট সঞ্চয়ন ও সনেটমালা প্রকাশিত হয়। প্রেম ও প্রকৃতি তার সনেটের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। তিনি ১৯৬৫ সালে ‘আদমজী পুরস্কার’, ১৯৭০ সালে ‘প্রেসিডেন্ট পুরস্কার’ এবং ১৯৭৪ সালে ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ লাভ করেন। ১৯৭৫ সালের ৭ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
মমতা হক