সুপারিশ ও ইসলাম

জহির উদ্দিন বাবর:
ইসলামের শিক্ষা হলো, এক মুসলমান অন্য মুসলমানের জন্য কল্যাণ কামনা করবে, বিপদ-আপদে যথাসম্ভব সহযোগিতার হাত বাড়াবে। কোনো বিপদগ্রস্তকে নিজে সহযোগিতা করা যেমন সওয়াবের কাজ তেমনি কারো কাছে তার জন্য সুপারিশ করাও সওয়াবের কাজ। হাদিসে আছে, রাসুল (সা.)-এর দরবারে কেউ এসে কোনো প্রয়োজনের কথা বললে তিনি মজলিসে উপস্থিত লোকদের বলতেন, তোমরা তার পক্ষে আমার কাছে সুপারিশ কর, যাতে তোমরা সুপারিশের সওয়াব পাও। তবে সুপারিশের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। কোনো অযোগ্য ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করা যাবে না। কারণ সুপারিশ এক ধরনের সাক্ষ্য। কোনো অযোগ্য লোকের পক্ষে সুপারিশ করা মানে তার পক্ষে আপনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিলেন।
সুপারিশ করতে হবে শরিয়তসম্মত কোনো কাজের ব্যাপারে। শরিয়ত পরিপন্থী কোনো কাজের সুপারিশ জায়েজ নয়। কোরানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, ‘কেউ কোনো অন্যায় সুপারিশ করলে সেখানে তার অংশ থাকবে।’ সুপারিশের ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ করা যাবে না। ‘আমার ধারণা মতো লোকটি এ কাজের যোগ্য’ এ জাতীয় ভাষায় সুপারিশ করতে হবে। অন্য ভাষায় বলা যায়, সুপারিশ একটি পরামর্শ আর পরামর্শ মানে হলো মনোযোগ আকর্ষণ করা। মানা না মানার স্বাধীনতা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা আমার কাছে সুপারিশ কর। তবে এটা জরুরি নয় যে, তোমাদের সুপারিশ আমার শুনতেই হবে বরং ফায়সালা তো আল্লাহ তায়ালার মর্জি মোতাবেক করব।’ অন্য হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘সুপারিশ কর, সওয়াব পাবে। সুপারিশ গ্রহণ না হলে তোমাদের অন্তরে অসন্তুষ্টি বা কুধারণা সৃষ্টি হওয়া উচিত হবে না।’ তবে আজকাল আমাদের সমাজে সুপারিশ শব্দটি চাপ প্রয়োগ জাতীয় একটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার হচ্ছে। কোনো কাজই আজ সুপারিশ ছাড়া হয় না। সুপারিশ হতে হবে ন্যায়ের ভিত্তিতে, ন্যায় কাজে। যেসব স্থানে সুপারিশ জায়েজ নেই সেখানে সুপারিশ করা যাবে না। সুপারিশ হতে হবে বৈধ কাজের জন্য। সুপারিশ না মানলে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা যাবে না, কিছু মনে করা যাবে না। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সুপারিশ করলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে না, তখন সুপারিশ হবে সওয়াবের কাজ। যথার্থ অর্থেই কেউ বিপদগ্রস্ত হলে বৈধপন্থায় তার পক্ষে সুপারিশ করা প্রত্যেক মুসলমানের ইমানি দায়িত্বও বটে।
লেখক: শিক্ষক