সিপিএ সম্মেলনের এজেন্ডায় স্থান পায়নি ‘রোহিঙ্গা’ ইস্যু

আগামী ১ নভেম্বর থেকে ঢাকায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) সম্মেলনকে ঘিরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিদের আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত আলোচনার ভেন্যু সাজানোর কাজও শেষ করে এনেছেন আয়োজকরা। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উদ্বোধনী মঞ্চ তৈরির কাজও শেষ হবে শিগগিরই।

জাতীয় সংসদ ভবনের এমপি ক্লাবে গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরে সম্মেলনের মিডিয়া তত্ত্বাবধান কমিটি। সম্মেলনের আলোচনার জন্য নির্ধারিত এজেন্ডা নিয়েও কথা বলেন তারা। তবে এতে বিশ্বব্যাপী আলোচিত রোহিঙ্গা ইস্যুটি স্থান পায়নি বলে জানান তারা।

কমিটির সদস্য সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, এবারের সম্মেলনের এজেন্ডা তিন থেকে চার মাস আগেই নির্ধারিত হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যাটি আগস্টের শেষের দিক থেকে শুরু হওয়ায় সেটিকে এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। তবে এর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি কর্মশালায় জাতীয়তাবাদের সংকট নিয়ে আলোচনার সুযোগ থাকছে।

এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের নিরাপত্তা দিকটি অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে কমিটির পক্ষ থেকে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডিএমপির পক্ষ থেকে সম্মেলনের আগেই রাস্তা চলাচলের বিষয়ে সাধারণ নাগরিকদের বিস্তারিত জানানো হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন সফল করতে গণমাধ্যমের সহায়তা প্রয়োজন। কারণ এ সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যমের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা থাকবে। আমরা সেই সুযোগ তৈরি করব। ১ নভেম্বর এই সম্মেলন শুরু হলেও ৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বলে জানান তিনি।

কমিটির অপর সদস্য ও যশোর-৩ আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের ৬৩তম (সিপিএ) সম্মেলনে গণমাধ্যমের সহায়ক ভূমিকা থাকবে এবং একইসঙ্গে দিনের কর্মসূচি নিয়ে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে কাজ করবে মিডিয়া তত্ত্বাবধান কমিটি। তিনি সাংবাদিকদের আগের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অভিজ্ঞতার কথা শোনেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, সিপিএ ৫২টি রাষ্ট্রের জাতীয় ও প্রাদেশিক পার্লামেন্টসহ ১৮০টি শাখার একটি অ্যাসোসিয়েশন। আগামী ১ থেকে ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও সিপিএর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সাংবাদিকদের সুবিধায় এবারের সম্মেলনে প্রতিদিনের ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া, সম্মেলনে সিপিএর সদস্যদের সাক্ষাৎকার নেয়ার সুযোগও থাকবে বলে জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, সিপিএর মূল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। সম্মেলনের অন্যান্য সভা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের সিপিএ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘কনটিনিউইং টু এনহ্যান্স দ্য হাই স্ট্যান্ডার্ডস অব পারফরম্যান্স অব পারলামেন্টারিয়ান্স’। ৪৪টি দেশের প্রায় ১৪৪টি সিপিএ ব্রাঞ্চ এতে অংশ নেবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এমপি তানভীর ইমাম ও ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি প্রমুখ।

উল্লেখ্য, সিপিএর ৯টি অঞ্চল রয়েছে। এগুলো হলো আফ্রিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটিশ আইল্যান্ড ও মেডিটেরিনিয়ান, কানাডা, ক্যারিবিয়ান আমেরিকা ও আটলান্টিক, ভারত, প্যাসিফিক ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখা, জনগণের ক্ষমতায়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে সিপিএ।

মানবকণ্ঠ/এসএস