সিট দখলে ঢাবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ১২

বারান্দার সিট দখলকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের ছাত্রলীগের গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের ১২ কর্মী আহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী তাপসের পক্ষের কর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষই দেশি অস্ত্র চাপাতি, রামদা, রড নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় এবং ইট-পাথর ছোড়াছুড়ি করে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের দুজনের অবস্থা গুরুতর। তারা হলেন সংগীত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের রায়হান কবির, ও নৃত্যকলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সংঘর্ষের দুদিন আগে এসএম হলের বারান্দায় একটি সিটের দখল নিয়ে সাধারণ সম্পাদক পক্ষের কয়েকজন সমর্থক সভাপতি পক্ষের প্রথম বর্ষের দুজনকে মারধর করে। ওই ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতে সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের কয়েকজন হলের দোতলায় উঠলে সভাপতি পক্ষের সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা হলের বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করে। তখন দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
শুরুতে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি বলে জানান হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদ আলী, হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার ও ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান। পরে তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তারপরে হলের ফটকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর আমজাদ আলী জানান, সিট দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের মধ্যে কিছুক্ষণ উত্তেজনা ছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, হলে তেমন কিছু হয়নি। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। সেটি মিটে গেছে। এদিকে ভাঙচুরে ঘটনায় জড়িতদের খোঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুল আলম জোয়ার্দার। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারি হয়েছিল। আমরা আসলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় দোষীদের শনাক্ত করার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ