সিকৃবি শিক্ষার্থীকে হত্যায় ঘাতক বাসের চালক ও হেলপার আটক

সিকৃবি শিক্ষার্থীকে হত্যায় ঘাতক বাসের চালক ও হেলপার আটক

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ছাত্র ওয়াসিম আফনানকে বাস থেকে ফেলে দিয়ে হত্যার ঘটনায় ওই বাসের চালক ও হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- বাসচালক জুয়েল আহমদ (২৬) ও হেলপার মাসুক আলী (৪০)। জুয়েল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থানার বাড়াউরা গ্রামের মৃত আজিদ মিয়ার ছেলে ও মাসুক সুনামগঞ্জ শহরের তেঘরিয়া এলাকার দৌলত আলীর ছেলে।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে অভিযান চালিয়ে হেলপার মাসুক আলীকে আটক করে সুনামগঞ্জের ছাতক থানা পুলিশ। পরে তাকে সুনামগঞ্জ থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার বরকতুল্লাহ খান জানান, আটক মাসুক আলীকে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে রাত পৌনে ১১টার দিকে সিলেট কদমতলী কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে বাসচালক জুয়েল আহমদকে আটক করে মহানগর দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জেদান আল মুসা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, ‘ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির’ জেরে বাস থেকে ফেলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। শনিবার ঢাকা-সিলেট মহাসড়াকের শেরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত গোরি মোহাম্মদ ওয়াসিম (২১) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার রৌদ্রগ্রামের গোরি মো. আবু জাহেদ মাহমুদের ছেলে।

ওয়াসিমের সহপাঠীদের বরাত দিয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মতিয়ার রহমান হাওলাদার শনিবার বলেন, বিকেল ৫টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে সিলেটগামী উদার পরিবহনের একটি বাসে নবীগঞ্জের গোপলালবাজার থেকে ওঠেন ওয়াসিম ও তার কয়েকজন সহপাঠী। সিট না পাওয়া ও বাস ভাড়া নিয়ে বাসের সহকারীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় তাদের। তারা শেরপুরে বাস থেকে নামতে চাইলে বাসের হেলপার ওয়াসিমকে বাস থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে তার মৃত্যু হয় বলে উপাচার্য জানান। ঘটনাকে পরিকল্পিত হ্ত্যা উল্লেখ করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেছেন উপাচার্য মতিয়ার রহমান।

এদিকে সহপাঠীর মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে ছুটে যান কয়েকশ শিক্ষার্থী। এ সময় তারা সেখানে বিক্ষোভ করেন। পরে কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেন শিক্ষার্থীরা।

দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল জানান, শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাত পৌনে ৯টার দিকে কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিলাল এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ফাঁড়ি ইনচার্জ কামরুল হাসান জানান, ঘটনার পর বাসটিকে সিলেটের বেগমপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তবে বাস চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস