সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান

বাবরি মসজিদ হবে নাকি রাম মন্দির? এমন একটা অনলাইন ভোটাভুটির লিংক যারা ইনবক্স করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, তাদের নিয়ে প্রথমে একটুও মাথা ঘামাইনি, ভেবেছিলাম তাদের একটা অংশ মূর্খ, আরেকটা অংশ দাঙ্গা বাধানোর অভিপ্রায়ে আছেন- তবে তাদের সংখ্যা খুব একটা হবেনা। কিন্তু যখন একজন আইটি ফার্মে কর্মরত ব্যক্তিকেও দেখি আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য এই লিংকটা পাঠায়, অথবা স্বাধীনতার সপক্ষের দাবিদার বন্ধু, এমনকি অসাম্প্রদায়িক বলেই জানতাম বন্ধুটিও যখন আমাকে এই লিংক পাঠায়, কিংবা উচ্চশিক্ষিত মেয়েটিও যখন লিংক পাঠাতে থেমে থাকেনা, েআর দুই দেশ মিলিয়ে এরই মধ্যে ভোটের পরিমাণ যদি হয় আশি লাখ। তখন কয়েকটা কথা না লিখে পারছিনা।

আপনারা কি খেয়াল করছেন না যে, ভোটিং অপশনের ঠিক নিচে বসানো আছে গুগলের অ্যাডসেন্স, মানে- বিজ্ঞাপন থেকে যেকোনো সাইটের গুগল থেকে আয় করার সিস্টেম। ভেবে দেখেছেন কি?
যারা এই ভোটের আয়োজন করছে, তারা কারা? জাগো ইন্ডিয়ান ডটকম ভারতের কোন সাইট?

অ্যালেক্সার র্যাঙ্কিংয়ে দেখলাম সারা বিশ্বের মধ্যে সাইট হিসেবে তাদের অবস্থান ২১ লাখ ৩০ হাজার ৮৪৫। এত বড় স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে ভোট করার অধিকার অখ্যাত এই সাইটটিকে কে দিল?
তাছাড়া ভোটাভোটির এই ঘটনা বাসি পচা নিউজ, যা ভারতে শুরু হয়েছিল বছরের শুরুর দিকে, এই ভোটিংকে কেন্দ্র করে ভারতে হিন্দুত্ববাদী একটা জাগরণ তৈরি হয়েছিল। এই হিন্দুত্ববাদী ইমোশনের ফায়দা নিচ্ছিল ধুরন্দর ব্যবসায়ীরা। তারা কেউ বানিয়েছে ওয়েবসাইট, কেউ নিয়েছে রাজনীতির ফায়দা।

ভারতের প্রধান দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমস এর করা এপ্রিলের দিকের একটা নিউজ দেখুন:
Fake UP govt website conducts poll on Ram Mandir-Babri Masjid dispute, এটা ছিল পত্রিকাটির একটি খবরের শিরোনাম। যে খবরে বলা হয়েছে, ইউপি সরকারের সরকারি ওয়েবসাইটি হুবহু নকল করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করতে প্রায় একই রকম ওয়েবসাইট অ্যাড্রেস বানিয়ে কে বা কারা একটি সাইট খুলেছে। এমনকি মূল সরকারি সাইটে যেভাবে ইউপির মূখ্যমন্ত্রীর ছবি দেয়া আছে, একইভাবে ভুয়া সাইটটিও সেই ছবি দিয়ে রেখেছে। এ নিয়ে তখন অনেক লেখালেখি হলে সেই সাইটটি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। ভারতের মানুষ বুঝে গেছে এ সিস্টেম ভুয়া। তারা বুঝেছেন যে, ভোটিংয়ের মহত্ উদ্দেশ্য থাকলে কেন অ্যাডসেন্স এর ব্যবসাটা ওখানে রেখেছে পোলিং এজেন্টরা? কিন্তু এখনো বুঝ আসেনি আমাদের, তাই এবার গজিয়ে উঠেছে আরও কিছু সাইট। এগুলো তৈরি-ই হয়েছে সম্ভবত বাঙালি মুসলিমদের সস্তা সেন্টিমেন্টকে নাড়া দিয়ে ব্যবসা আর রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে। এটাই আমাদের হুজুগে বাঙালির সমস্যা। ধর্ম নিয়ে কেউ কিছু বললেই আমাদের জিহাদি জোশ খলবল করে ওঠে। ঠান্ডা মাথায় কিছু ভাবি না। চলো রে বলে নিজে ঝাঁপিয়ে পড়ি। আরেক জনকেও উদ্বুদ্ধ করতে থাকি। এটারই ফায়দা লুটে কেউ কেউ। আমরা বুঝতে চাই না।

দয়া করে এই ভুয়া ভোটিং এ বিভ্রান্ত না হয়ে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার এ অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান। আর কণ্ঠে তুলুন মুক্তিযুদ্ধকালীন সে অমর স্লোগান,
বাংলার হিন্দু, বাংলার মুসলিম
বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার খ্রিষ্টান
আমরা সবাই বাঙালি।

লেখক: সাংগঠনিক সম্পাদক; বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

মানবকণ্ঠ/বিএএফ