সাঁকোর গুণীজন সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে গতকাল রোববার সংবর্ধনা দেয়া হয় দেশবরেণ্য পাঁচ গুণীজনকে। এরা হলেন- অভিনেত্রী দিলারা জামান, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব কয়েস চৌধুরী, চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান, সংগীতশিল্পী সুলতানা চৌধুরী এবং নৃত্য পরিচালক সুলতানা হায়দার। রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে সাঁকো টেলিফিল্মের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব) হারুন অর রশিদ (বীরপ্রতীক)। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, লেখক ও নাট্যকার ফজলুল করিম। অনুষ্ঠানে সভাপত্বি করেন সাঁকো টেলিফিল্মের উপদেষ্টা বিশিষ্ট সমাজসেবক শাহাবউদ্দিন আহমেদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট অভিনেতা, সাঁকো টেলিফিল্মের পরিচালক নাজমুল খান।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথি সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) হারুন অর রশিদ গুণীজনদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন এবং উত্তরীয় পরিয়ে দেন। এ সময় তিনি বলেন, গুণীজনদের কাজের মাধ্যমে আমরা উজ্জীবিত হই। বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা পাই। তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে। কিন্তু এ জন্য প্রয়োজন সাংস্কৃতিক আন্দোলন। সাংস্কৃতিক মুক্তি নিশ্চিত না হলে অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে না।
বিশেষ অতিথি ফজুলল করিম বলেন, গুণীজনেরা জাতির জন্য গৌরব। গুণীজনদের চিনতে পারলে জাতি সমৃদ্ধ হবে।
সভাপতির ভাষণে শাহাবউদ্দিন আহমেদ বলেন, যে জাতি গুণীজনের কদর জানে না সে দেশে গুণীজন জন্মায় না। দেশবরেণ্য পাঁচ গুণীজনকে সম্মাননা দিতে পেরে আমরা গর্বিত।
অনুষ্ঠানে দিলারা জামান বলেন, আমি আমার কাজে সব সময়ই সৎ ছিলাম এবং নিষ্ঠাবান ছিলাম। আমার পরিবারের সদস্যরা সবাই এখন বিদেশে থাকে। শুধু অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসার জন্য আমি একা বাংলাদেশে রয়েছি। আজ যে আলোয় আমাকে আলোকিত করা হলো এতে আমি ধন্য।
কায়েস চৌধুরী বলেন, আমি নিভৃতচারী ও প্রচারবিমুখ মানুষ। আমি সব সময় পেছন থেকে কাজ করতে চাই। এর বিনিময়ে আমি কিছুই চাই না। তবু আজ আমাকে সম্মাননা দেয়ায় আমি গর্ববোধ করছি।
সোহানুর রহমান সোহান বলেন, চলচ্চিত্র শিল্প এখন ধ্বংসের মুখে। তাই এ নিয়ে আমি এখন কিছুই ভাবছি না। এমন একটি মুহূর্তে আমাকে সম্মাননা দেয়ায় আমি আনন্দ বোধ করছি।
অনুষ্ঠানে সুলতানা চৌধুরী বিশেষ কিছুই বলেননি। তিনি তার একটি প্রিয় গানের দুই লাইন গেয়ে তার অনুভূতি প্রকাশ করেন।
সুুলতানা হায়দার বলেন, ছোট বেলা থেকেই আমি নাচের প্রতি দুর্বল ছিলাম। নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে আমি নাচ শিখেছি। এখন শহরে অনেক গানের স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর বিবেচেনায় বর্তমান প্রজন্ম বেশ সৌভাগ্যবান।