সহবা‌সে নারীর যৌনা‌ঙ্গে ব্যথা!

যৌনমিলনে যেমন মন মাতানো সুখ আছে তেমনি কারও বেলায় তা আবার কষ্টের কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে। যেমন নারীদের কথাই ধরা যাক। কিছু কিছু নারী আছে যারা যৌনমিলনকালে ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠেন। তখন দেহমিলন তাদের কাছে হয়ে ওঠে যাতনার। অনেক নারীই হয়তো লজ্জায় কাউকে বলেন না বা চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। কমবয়সে বিয়ে হলে অনেকে বুঝতেই পারেন না যে শারীরিক সম্পর্কের কালে বা পরে যৌনাঙ্গে ব্যথা হওয়াটা স্বাভাবিক বিষয় নয় এবং এটির প্রতিকার করা জরুরী। নারী যৌনাঙ্গ দেহের সবচাইতে স্পর্শকাতর অঙ্গ, যৌন সম্পর্কের কালে এই অঙ্গে ব্যথা পাওয়া বা কষ্ট অনুভুত হলে অতি অবশ্যই বিষয়টির প্রতিকার করতে হবে। অন্যথায় স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যাওয়াটা বিচিত্র কিছু নয়।

আরও পড়ুন: পর্নোগ্রাফিতে নারীদের আগ্রহ বেশি!

শারীরিক সম্পর্কের সময় নারীদের যৌনাঙ্গে ব্যথা পাবার কিছু কারণ ও সহজ প্রতিকার নিয়ে আজকের ফিচার।

১.যথেষ্ট উত্তেজিত হবার আগেই সহবা‌স
যৌনতার সময়ে যদি যৌনাঙ্গ যথেষ্ট পিচ্ছিল না হয়, তাহলে ভেতরে আঘাত পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে ছিলে যাওয়া, জ্বালাপোড়া ইত্যাদি সমস্যা হয়ে থাকে। প্রথমত, নারীদের শারীরিকভাবে উত্তেজিত হতে পুরুষের তুলনার অধিক সময়ের প্রয়োজন। ফলে ফোর প্লে যদি দীর্ঘায়িত না হয়, তাহলে অনেক নারীই যথেষ্ট পরিমাণ উত্তেজিত বোধ করেন না। অন্যদিকে শারীরিক কোন সমস্যার কারণেও যৌনাঙ্গ যথেষ্ট পিচ্ছিল হতে না পারে।

প্রতিকার: সহবাসের সময় যথেষ্ট পরিমাণে লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন। ওয়াটার বেজড লুব্রিকেন্ট হলে ভালো হয়।একই সাথে সহবাসের পর পরই নিজেকে পরিষ্কার করে ভেতরে লুব্রিকেন্ট বা ভালো ময়েশ্চারাইজার মেখে নিন। একই দিনে পুনরায় যৌন সম্পর্ক হতে বিরত থাকুন।

আরও পড়ুন: যৌনতায় সঙ্গীর আগ্রহ ফেরানোর কৌশল

২.সঙ্গীর লিঙ্গের আকার
সঙ্গীর লিঙ্গের আকার যদি নারীর যৌনাঙ্গের তুলনায় অধিক বড় হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ব্যথা পাওয়া খুবই স্বাভাবিক এবং এই ব্যথা বেশ তীব্র। অনেকটা পিরিয়ডের ব্যথার মতন অনুভুত হতে পারে। এছাড়াও ভেতরে ছিলে যাওয়া, কেটে যাওয়া, জ্বলুনি হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার।

প্রতিকার: প্রথমত সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলুন, ব্যাপারটি নিয়ে দুজনের আলোচনা খুবই জরুরি। ফোর প্লে দীর্ঘায়িত করুন। নারীদেহের উত্তেজনা যত বাড়বে, ততই যৌনাঙ্গ ও যৌনাঙ্গের মুখ প্রসারিত হবে। ফলে সহবাস যথেষ্ট সহজ হয়ে আসবে। অন্যদিকে পজিশন বদল করলেও এই ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যায়। এমন পজিশন বেছে নিন , যেখানে যৌন ক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নারীর হাতে থাকবে। ফলে আঘাত পাবার সম্ভাবনা থাকবে না। আর ব্যথা পেয়ে গেলে গরম সেঁক নিন বা গরম পানি দিয়ে শাওয়ার সেরে নিন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে পারেন।

আমেরিকার পর্ন ইন্ডাস্ট্রির অজানা তথ্য!

৩.যৌনতায় উন্মাদনা
খুব দ্রুত বা কামনায় অধীর হয়ে সহবাস করলে অনেক সময়েই ভ্যাজাইনায় আঘাত লাগতে পারে। অনেক বেশি সময় যৌনতার ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে ভঙ্গাঙ্কুর আঘাত পেয়ে থাকে বেশি। পর্ন দেখে সহবাস করতে গেলেও এমনটা হয়ে থাকে।

প্রতিকার: প্রচুর পরিমাণে লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করুন, এতে আঘাত পাবার সম্ভাবনা থাকবে না। আঘাত পেয়ে গেলে একটি পাতলা কাপড়ে বরফ নিয়ে ভগাঙ্কুরে চেপে ধরে রাখুন কিছুক্ষণ পর পর। ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়েও নিতে পারেন। যৌনাঙ্গের ভেতরে বরফ প্রবেশ করাবেন না।

৪.কনডমের ঘর্ষণ
কনডমের ঘর্ষণে যৌনাঙ্গের ভেতরে আঘাত পাওয়া, ছিলে যাওয়া, কেটে যাওয়া খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার। নারীরা এসব ক্ষেত্রে যৌনতা উপভোগও করতে পারেন না।

প্রতিকার: কনডমের ব্যান্ড পরিবর্তন করুন বা অন্য কোন জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা বেছে নিন। প্রচুর লুব্রিকেন্টে ব্যবহারেও ফল পাবেন।

পর্নো সম্পর্কিত কিছু গোপন তথ্য!

৫. ইনফেকশন
যৌনাঙ্গে কোন ধরণের ইনফেকশন থাকলে সহবাসের সময়ে ব্যথা পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। সাধারণ ইষ্ট ইনফেকশন বা ব্যাকটেরিয়া ঘটিত কোন ইনফেকশনের কারণে এমনটা হয়ে থাকে।

প্রতিকার: চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সঠিক চিকিৎসায় নিযে সুস্থ রাখুন। যৌনাঙ্গ সর্বদা পরিষ্কার রাখুন। নিজের যত্ন নিন।

শারীরিক সম্পর্কের কালে যৌনাঙ্গে কোন সমস্যা অনুভব করলে অবশ্যই সেটা চেপে রাখবেন না। নিজের সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলুন, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যৌনতা নারী ও পুরুষ উভয়ের একত্রে উপভোগ করার বিষয়। একজনের কষ্ট হলে ব্যাপারটি কখনোই উপভোগ্য হয়ে উঠবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.