সহজ সরল জীবনযাপন মানসিক প্রশান্তি আনে: রানী হামিদ

(রানী হামিদ (জন্ম: ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৪) একজন বাংলাদেশি দাবাড়–। তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা আন্তর্জাতিক দাবা মাস্টার। রাণী হামিদের পুরো নাম সৈয়দা জসিমুন্নেসা খাতুন ডাক নাম রাণী। বিয়ের পর তিনি স্বামীর নাম যুক্ত করে রাণী হামিদ হন। ক্রীড়াজগতে তিনি রাণী হামিদ নামেই পরিচিত। ১৯৮৫ সালে তিনি ফিদে আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার খেতাব পান। তিনি ৩ বার ব্রিটিশ মহিলা দাবা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন। সম্প্রতি সিনিয়র সিটিজেন পাতার জন্য রাণী হামিদ সময় দিয়েছেন। দাবা খেলা এবং তার ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি বিষয়ে কথোপকথন পাঠকদের উদ্দেশ্যে সাজিয়েছেন মাহমুদ সালেহীন খান …

দাবা খেলার প্রতি আগ্রহটা কিভাবে হলো?
বিশেষ কোনো কারণ নেই আমি সব ধরনের কেলাই খেলতাম। ব্যাটমিন্টন টেবিল টেনিস, দাবাও খেলছি। ছোটাছুটিটা কম। রুমের মধ্যে খেলা যায়।
আপনি অবসর সময় কিভাবে কাটান?
দাবা খেলে। গান শুনে, নাতি-নাতনিদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে টিভি দেখে।
আপনার শখ কি?
আমি শপিং করতে পছন্দ করি।
আপনি এই বয়সেও দাবা খেলাটাকে ধরে রেখেছেন এই অনুপ্রেরণা কিভাবে পান?
আমি দাবা খেলা শুরু করেছি আমার বিয়ের পর। আমর পরিবার আমাকে সাপোর্ট দিচ্ছে বলেই এখনো খেলাটাকে ধরে রেখেছি। এটি একটি ধৈর্য্যরে খেলা। পারিবারিক সাপোর্ট না পেলে এই খেলায় কোনো অনুপ্রেরণা পাওয়া যাবে না।
অবসরে কি বই পড়তে পছন্দ করেন?
আমি প্রচুর বই পড়ি। সবধরনের বই পড়তে আমার ভালো লাগে। যখনি সময় পাই বই পড়ি।
নতুন যারা দাবা খেলছে বিশেষ করে মেয়েরা তাদের মধ্যে কাদের প্রতিভাবান বলে আপনি মনে করেন?
নতুনরা অনেকেই ভালো করছে। তার মধ্যে জান্নাতুল ফেরদৌস, এ্যানী, নওশিন, বগুড়া মফস্বলের একটি মেয়ে আছে প্রতিভা। তার ভবিষ্যতেও আরো ভালো করবে।
আপনার পছন্দ?
টিভি দেখি, বিশেষ করে সিরিয়াল দেখি আর আড্ডা ভালো লাগে।
পছন্দের পোশাক?
শাড়ি, শাড়ি, শাড়ি। আমি সবসময়ই শাড়িতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করি।
সবচেয়ে বেশি কি অপছন্দ করেন?
মানুষের ভণ্ডামি আর অসততা।
নতুনদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতে চান?
আমি এটাই বলব। এই খেলায় বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে ধৈর্য আর মনোসংযোগের দিকে। যারা খুব অস্থির তারা দাবা না খেললেই ভালো। দাবা খেলায় কিন্তু জনপ্রিয়তা পাওয়ার সুযোগটা খুব কম। প্রচার জনপ্রিয়তা এসবের কথা ভাবলে ও হবে না।
দাবা খেলায় প্রতিবন্ধকতাগুলো কি কি আপনি মনে করেন?
প্রথমে আসবে পারিবারিক প্রতিবন্ধকতা। অনেক অভিভাবক সন্তানদের দাবা খেলাকে নিরুৎসাহিত করে। বিশেষ করে মেয়েদের বেলায় এখনো নানা বিধিনিষেধ আসে পরিবার থাকে। দ্বিতীয় এবং অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো স্পন্সর। রাস্তার যানজটও একটি অন্তরায়। অন্যান্য খেলায় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে স্পন্সর পায় আমরা মোটেও তা পাই না। দাবাসহ অন্যান্য সব ছোট ফেডরেশনকে আয়ের পথ করে দিতে হবে সরকারকে তাহলে ফেডারেশন একটি ভালো পরিকল্পনা করতে পারবে।
নিজেকে সুস্থ রাখতে কী কী নিয়ম মেনে চলেন?
যতটা পারি টেনশন ফ্রি থাকতে চেষ্টা করি। খাবার-দাবারে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করি। আর সবসময় হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করি। হাসতে পারা আর সহজ সরল জীবনযাপন মানুষিক প্রশান্তি আনে।

মানবকণ্ঠ/আরএস