সরব আওয়ামী লীগ মাঠে নেই অন্যরা

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় সরব ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও এর মিত্রদলগুলো। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় নীরব রয়েছে সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দল বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলো।

স্থগিত হওয়ার আগে উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-জামায়তসহ ডান ও বাম ঘরানার প্রায় সব দলই অংশ নেয়ায় প্রচারণা জমে ওঠেছিল। ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে এবং উত্তর ও দক্ষিণের নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

এ নির্বাচনে ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন আতিকুল ইসলাম। তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে সরব থাকলেও তার সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেয়া অন্যান্য দলের প্রতিদ্ব›দ্বীরা একেবারেই চুপচাপ।

জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে উপনির্বাচনে পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশনে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম গত রোববার এ প্রতীক বরাদ্দ দেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম নৌকা, জাপার শাফিন আহমেদ লাঙ্গল, স্বতন্ত্র আব্দুর রহিম টেবিল ঘড়ি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আনিসুর রহমান দেওয়ান আম, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির শাহীন খান পেয়েছেন বাঘ প্রতীক। প্রার্থীরা ভোটগ্রহণের ৩২ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন। অর্থাৎ শেষ সময় ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা।

২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি ইসি ডিএনসিসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন। তখন আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বাম দলগুলো একক প্রার্থী দিয়েছিলেন। তফসিল ঘোষণার আগের রাতেই জামায়াতে ইসলামী মোহাম্মদ সেলিম-উদ্দিন নামে তাদের মধ্যম সারির এক নেতাকে ওই নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। তখন বিএনপি ও তার জোট চেয়েছিলেন জামায়াতের প্রার্থীকে বসাতে। কয়েক দফা বৈঠকের পর জামায়াতের প্রার্থী বসাতে পারেননি বিএনপি।

তখন বিএনপিও প্রার্থী দেয়। তখন নির্বাচনী মাঠে ব্যস্তময় সময় পার করেছিলেন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ। কিন্তু এবার বিএনপি ও জামায়াতের কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। বিএনপির নেতারা বলেন, বিএনপি বর্তমান সরকার ও ইসির অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে দলটি যদি উত্তর সিটির উপনির্বাচনে অংশ নেয় সেক্ষেত্রে আগের প্রার্থী তাবিথ আউয়ালকেই মনোনয়ন দেয়ার কথা ছিল বিএনপির। নির্বাচন হলো না কেন? তারা বলেন, আমরা এটিও মনে করছি, একাদশ সংসদ নির্বাচনে যে ‘অনিয়ম’ ও ‘ভোট বিএনপি নেতারা বলেন, উত্তর সিটি কর্পোরেশনে গতবারের মেয়র নির্বাচন কেমন হয়েছিল, তা আমরা ভুলে যাইনি। এর সঙ্গে রয়েছে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের বাস্তবতা। এটা স্পষ্ট- মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা এখন আর নেই। দলের নেতাকর্মীরাও মনে করেন, ‘নিয়ন্ত্রিত’ নির্বাচনে গিয়ে মামলা-হামলার সংখ্যা আর বাড়িয়ে লাভ নেই।

অপর দিকে ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদ দলীয়ভাবে উন্মুক্ত রেখেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলীয়ভাবে কাউন্সিলর পদটি উন্মুক্ত রাখায় প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় পোস্টারিং, ব্যানার ফেস্টুন টাঙিয়ে তারা প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মহানগরের কার্যালয়, ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কার্যালয় ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

সূত্রমতে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উপনির্বাচনে মেয়র পদে প্রয়াত আনিসুল হকের মতোই স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থী দিয়েছে দলের হাইকমান্ড। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নতুন ৩৬ ওয়ার্ডের সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন।

গতকাল সোমবার সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম। সকাল ১০টায় রাজধানীর উত্তরখান শাহ কবির মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী প্রচার শুরু করে সারাদিন নির্বাচনী প্রচার চালায়। গতকাল দুপুর তিনটায় বিমানবন্দর রেল স্টেশন মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আতিকুল ইসলাম। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় উত্তরার রাজলক্ষী কমপ্লেক্সে উত্তরার সকল দোকান মালিক সমিতির সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সন্ধ্যা সাতটায় উত্তরা ফ্রেন্সক্লাব মাঠে নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন করেছিলেন। এ ছাড়া রাত আটটায় উত্তরার সব সেক্টরের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আওয়ামী লীগের মনোনীত এই প্রার্থী। এ ছাড়া গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় মিরপুরে শাহ আলী মাজার জিয়ারত শেষে আতিকুল ইসলামের পক্ষে গণসংযোগ করেন ঢাকা-১৪ আসনের এমপি মো. আসলামুল হক।

জাপার প্রার্থী শাফিন আহমেদ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলামে প্রতিদ্ব›দ্বী। তাছাড়া স্বতন্ত্র আব্দুর রহিম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আনিসুর রহমান দেওয়ান, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির শাহীন খান রয়েছে। আতিকুল ইসলাম প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করলেও জাপা কিংবা অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মাঠে দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগের প্রার্থী একাই সরব রেখেছেন নির্বাচনী প্রচারণার মাঠ। নীরব রয়েছে জাপাসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু নির্বাচনের আড়াই বছর পর ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়র আনিসুল হক লন্ডনে মারা যান। এতে আসনটি শূন্য হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে দুই সিটিতে ২০১৭ সালে ১৮টি করে ৩৬টি নতুন ওয়ার্ডযুক্ত হলে এই ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচন করা হচ্ছে। মেয়র পদে শূন্য আসনে উপনির্বাচন ৩৬টি নতুন ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন করতে ২০১৮ সালের ৯ জানুয়ারি ইসিডিএনসিসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু গত বছরের ১৭ জানুয়ারি এই নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি স্থগিতের আদেশ খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এরপর গত ২২ জানুয়ারি ইসি নতুন তফসিল ঘোষণা করে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ডিএনসিসি মেয়র ও দুই সিটির ১৮টি করে ৩৬টি ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন। শনিবার ছিল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিন। ১০ ফেব্রুয়ারি প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।

মানবকণ্ঠ/এএম

Leave a Reply

Your email address will not be published.