সরকারি হল ২৭১ কলেজ

সরকারি হল ২৭১ কলেজ

২৭১টি বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণ করেছে সরকার। রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কলেজগুলোর সরকারিকরণের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এ নিয়ে দেশে সরকারি কলেজ ও সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৯৮টি। এতদিন দেশে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ এবং সরকারি আলিয়া মাদরাসা মিলিয়ে ৩২৭টি সরকারি কলেজ ছিল।

যেসব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই, সেখানে একটি করে কলেজকে জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে সরকারের। এর অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে বেসরকারি কলেজকে জাতীয়করণের জন্য তালিকাভুক্তির কাজ শুরু হয়। এরমধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর ২৭১টি কলেজ সরকারি হল। এসব কলেজে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষক রয়েছেন।

জাতীয়করণ হওয়া কলেজের শিক্ষকদের মর্যাদা কি হবে তা নিয়ে গত ৩১ জুলাই একটি বিধিমালাও জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ‘সরকারিকৃত কলেজশিক্ষক ও কর্মচারী আত্তীকৃত বিধিমালা ২০১৮’ বিধি অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলে বেসরকারি কলেজের যে কোনো শিক্ষক শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পদে নিয়োগ পেতে পিএসসির অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। তবে সরকারি হওয়া কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকরা নন-ক্যাডার হিসেবে নিজ নিজ পদে নিয়োগ পাবেন। তাদের চাকরি বদলিযোগ্য নয়।

গত ২ আগস্ট এ সিদ্ধান্তের সারসংক্ষেপ অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার এটি অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে সারসংক্ষেপটি ফের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আসে। এর পর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শনিবার প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়।

সরকারি হওয়া কলেজগুলোর মধ্যে ঢাকা জেলার ৪টি সাভার কলেজ (সাভার), ইস্পাহানী ডিগ্রি কলেজ (কেরানীগঞ্জ), পদ্মা কলেজ (দোহার), দোহার-নবাবগঞ্জ কলেজ (দোহার), মানিকগঞ্জের ৪টি সিঙ্গাইর ডিগ্রি কলেজ (সিঙ্গাইর), মহাদেবপুর ইউনিয়ন ডিগ্রি কলেজ (মহাদেবপুর), বিচারপতি নুরুল ইসলাম মহাবিদ্যালয় (হরিরামপুর), মতিলাল ডিগ্রি কলেজ (দৌলতপুর), নারায়ণগঞ্জের ৩টি কদম রসুল কলেজ (বন্দর), সোনারগাঁও ডিগ্রি কলেজ (সোনারগাঁও), মুড়াপাড়া কলেজ (রূপগঞ্জ), মুন্সীগঞ্জের ৩টি বিক্রমপুর কে বি ডিগ্রি কলেজ (সিরাজদীখান), বিক্রমপুর টঙ্গীবাড়ী ডিগ্রি কলেজ (টঙ্গীবাড়ী), লৌহজং বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ (লৌহজং), গাজীপুরের ৩টি শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ ডিগ্রি কলেজ (কাপাসিয়া), শ্রীপুর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী কলেজ (শ্রীপুর), কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ (কালীগঞ্জ), নরসিংদীর ৪টি হোসেন আলী কলেজ (বেলাবো), মনোহরদী ডিগ্রি কলেজ (মনোহরদী), পলাশ শিল্পাঞ্চল কলেজ (পলাশ), রাজবাড়ীর ২টি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ (গোয়ালন্দ), কালীখালী কলেজ (কালুখালী) শরীয়তপুরের ৪টি এম এ রেজা ডিগ্রিকলেজ (ভেদরগঞ্জ), শামসুর রহমান ডিগ্রি কলেজ (গোসাইঘাট), পূর্ব মাদারীপুর কলেজ (ডামুড্যা), ময়মনসিংহের ৮টি ভালুকা ডিগ্রি কলেজ (ভালুকা), ধোবাউড়া আদর্শ কলেজ (ধোবাউড়া), নজরুল কলেজ (ত্রিশাল), হলুয়াঘাট শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ (হলুয়াঘাট), ফুলপুর ডিগ্রি কলেজ (ফুলপুর), বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ (তারাকান্দা), শহীদ সমঋতি আদর্শ কলেজ (নান্দাইল), বেগম ফাজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা মহাবিদ্যালয় (ফুলবাড়িয়া), কিশোরগঞ্জে ১০টি করিমগঞ্জ মহাবিদ্যালয় (করিমগঞ্জ), তাড়াইল মুক্তিযোদ্ধা কলেজ (তাড়াইল), বাজিতপুর কলেজ (বাজিতপুর), হোসেনপুর ডিগ্রি কলেজ (হোসেনপুর), রোটারী ডিগ্রি কলেজ (অষ্টগ্রাম), কাটিয়াদী কলেজ (কাটিয়াদী), কুলিয়াচর ডিগ্রি কলেজ (কুলিয়াচর), মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ কলেজ (নিকলী), পাকুন্দীয়া কলেজ (পাকুন্দীয়া), মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক কলেজ (মিঠামইন)।

এছাড়া নেত্রকোনার ৫টি, টাঙ্গাইলে ৮টি, জামালপুরে ৩টি, শেরপুরে ৩টি, চট্টগ্রামে ১০টি, কক্সবাজারে ৫টি, রাঙামাটিতে ৪টি, খাগড়াছড়িতে ৬টি, বান্দরবানে ৩টি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ফেনীতে একটি করে, কুমিল্লায় ১০টি, ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া ৬টি, চাঁদপুরে ৭টি, সিলেটে ৯টি, হবিগঞ্জে ৫টি, মৌলভীবাজারের ৫টি, সুনামগঞ্জে ৮টি, রাজশাহীতে ৭টি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২টি, নাটোরে ৩টি, পাবনায় ৭টি, সিরাজগঞ্জে তিনটি, নওগাঁ জেলায় ৬টি, বগুড়ায় ৬টি, জয়পুরেহাটে একটি, রংপুরে ৭টি, নীলফামারীতে ৪টি, গাইবান্ধায় ৪টি, কুড়িগ্রামে সাতটি, দিনাজপুরে ৯টি লালমনিরহাটে ৩টি, ঠাকুরগাঁয়ে একটি, পঞ্চগড়ে ৪টি, খুলনায় ৫টি, যশোরে ৫টি, বাগেরহাটে ৬টি, ঝিনাইদহে একটি, কুষ্টিয়ায় দুটি, চুয়াডাঙ্গায় দুটি, সাতক্ষীরায় দুটি, মাগুরায় ৩টি, নড়াইলে একটি, বরিশালে ৬টি, ভোলায় ৪টি, ঝালকাঠিতে ৩টি, পিরোজপুরে দুটি, পটুয়াখালীতে ৬টি, বরগুনায় তিনটি কলেজ রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসএস